আনু মুহাম্মদ | সরকারের বিজয় উন্মাদনা

0

সর্বশেষ জানা খবর অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর কারাগারে গেলেন চট্টগ্রামবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম। মনে হচ্ছে সবচাইতে বড় অপরাধ এখন কথা বলা আর লেখা। এনিয়েই সরকারের যতো ভয়। ধরপাকড়, ত্রাস সৃষ্টি করেও শান্তি নেই নিত্যনতুন আইন প্রণীত হচ্ছে- সর্বশেষ ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’। যখন খুনের দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মাফ পেয়ে মুক্ত হয়, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে তারাই সরকারের কর্তাব্যক্তি থাকে, বন উজাড় আর নদী বিনাশ হয় উন্নয়ননামা,নির্যাতন আর গুমখুন যখন হয় দেশ পরিচালনার ভাষা তখন নাগরিকদের মতপ্রকাশ তো সরকারের জন্য ভীতির কারণ হবেই! মাইদুল ইসলাম এই মতপ্রকাশের দায়েই এখন কারাগারে। শহীদুলও একই কারণে এখনও বিচারহীনতার শিকার।

এর আগে চাঁদাবাজী আর খুনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব গ্রেফতার হয়েছিলেন,আদালত তাঁকেও রিমাণ্ডে পাঠিয়েছিল। টার্মিনালগুলো শত কোটি টাকার চাঁদাবাজীর আখড়া, দিনে দিনে তা বাড়ছেই।  এর বিরুদ্ধে মামলা দূরে থাক পুলিশের কাজ এগুলো যাতে নির্বিঘ্নেহয় সেই ব্যবস্থা করা। অধিকাংশ বাস ট্রাক মালিক হলেন মন্ত্রী,এমপি, পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তা আর তাদের ভাইবেরাদররা। তারা যা খুশি করবে, প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ মারবে, তাদের ক্ষুধা মেটাতে ফিটনেস ছাড়া লাইসেন্স ছাড়া সব গাড়ি চলবে, ভাড়া ইচ্ছামতো বাড়বে, চাঁদাবাজী চলবে। এগুলো নিয়ে কথা বলতে পারবে না কেউ। এসবের বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যই যেন পুলিশ আর আইন আদালত। খুনি, পুলিশ, চাঁদাবাজ, আইন-আদালত এখন একাকার। একেই বলে আইনের শাসন!

গত আগস্ট মাসের প্রথমদিকে পরপর কয়েকদিন ধরে হেলমেট, লাঠি, দা, চাপাতি, রিভলভারসহ যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে, গাড়ি-ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে তাদের গ্রেপ্তারে এখনও কোনো উদ্যোগ নেই, থাকার কথাও নয় কেননা তারা পুলিশের সাথেই ছিলো। কিন্তু অন্যদিকে ভয়াবহ ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ‘কটুক্তি’করবার অভিযোগেও শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে, স্কুলগুলোতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পাঠাতে, পথেঘাটে তরুণ কিশোরদের হয়রানি করা হয়েছে। আটক করে রিমান্ডেপাঠানো হয়েছে তরুণ শিক্ষার্থীদের। পরে তাদের অধিকাংশের জামিন হলেও মামলা হয়রানি অব্যাহত রাখা হয়েছে।  প্রায় দেড় হাজার অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হযেছে সারাদেশে ত্রাস বিস্তারের, আটক বাণিজ্যের, সর্বস্তরে জুলুম করার অধিকার। বস্তুত গত কয়েক মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নাগরিকদের ওপর একটানা আক্রমণের রেকর্ড করেছে সরকার।

সরকারের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত বিজয়ের সুর। এই বিজয় চিরস্থায়ী এবং অপ্রতিরোধ্য এরকম একটি ভাব থেকে তৈরি হয়েছে অতি-আত্মবিশ্বাস। সেখান থেকে এসেছে বেপরোয়া এবং থোড়াই কেয়ার মনোভঙ্গী। ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৃহৎ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো তাদের চাহিদা পূরণ হওয়ায় খুশি, দেশের ভেতর ক্ষমতার নানা কেন্দ্র নিজ নিজ চাহিদার চাইতে বেশি পেয়ে খুশি। সরকারের তাই এরকম ধারণা হয়েছে যে, তার আর জবাবদিহিতার কোনো দরকার নেই। যা খুশি তাই করলে কোনো কিছু যায় আসে না। জলজ্যান্ত সত্য অস্বীকারেও তাই কোনো লজ্জাশরম নেই।

সরকার তাই পূর্ণ বিজয়ীর বেশে। বাংলাদেশে বিচার বিভাগসহ সকল প্রতিষ্ঠান এখন সরকারের করায়ত্ত। নির্বাচনও তার হাতের মুঠোয়। তাই সর্বজনের অর্থ দিয়ে, দেশের উন্নয়নের কথা বলে, যা খুশি তা করায় তার কোনো দ্বিধা নেই,দলীয় নেতার মাস্তান হবার কারণে ফাঁসীর আসামীর দন্ডমওকুফ করে দিতে কোনো সংকোচ নেই, বিচার ব্যবস্থা চুরমার করতে কোনো দুশ্চিন্তা নেই,সুন্দরবন বিনাশে বা রূপপুর মহাবিপদ প্রকল্প নিয়ে তার বুকে কাঁপুনি  নেই। শত হাজার মানুষ বিনা বিচারে খুন গুম হয়ে গেলে তা নিয়েও তার মুখে হাসি মশকরা শোনা যায়। অপ্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের বিভিন্ন স্তরে এগুলোকে বিজয় হিসেবেই দেখা হয়!

আনু মুহাম্মদ গ্রাফ, Issue 10

শত হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা ও পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে সরকারের ভ’মিকা তাই প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃঢ় সমর্থন বা অংশীদারীত্ব ছাড়া কোনো বড় দুর্নীতি ঘটতে বা তা বিচারের উর্ধ্বে থাকতে পারে না। শেয়ারবাজারের ধ্বসের পেছনে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ভ’মিকা চিহ্নিত হয়েছিলো খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ পাচারের বিষয়ে তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ফরাসউদ্দীন। এই দুজন ব্যক্তির ওপরেই মানুষের আস্থা ছিলো, কিন্তু দুটো তদন্ত কমিটির ক্ষেত্রেই ফলাফল হয়েছে অভিন্ন। পুরো রিপোর্ট প্রকাশিতও হয়নি। মূল দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং তারা ক্ষমতার ছড়ি নিয়ে আরও নতুন নতুন অপরাধের কাহিনী তৈরি করছেন।

গত কয়বছরে অনেকগুলো নতুন বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাংকগুলোর জন্য যখন আবেদন করা হয় তখন মন্ত্রী, গভর্ণরসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বলেছেন আর কোনো ব্যাংকের দরকার নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সকলের বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার দলীয় পরিচয়ের বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যাংক খোলার অনুমতি দিয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী,আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দীন খান আলমগীরের নেতৃত্বাধীন ফারমার্স ব্যাংক নিয়ে প্রথম থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো। তারপরও এই ব্যাংকে সরকার বরাবর তহবিল যোগান দিয়ে গেছে। জলবায়ু তহবিলের টাকাও এখানেই জমা রাখা হয়েছিলো। এক পর্যায়ে ব্যাংকে ধ্বস নামে। এখন সেই ব্যাংককে পুঁজি যোগান দিতে আবার বিভিন্ন  রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ব্যাংক ও আইসিবি মিলে দুর্নীতি আর অনিয়মের থলিতে ঢালছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা  (বণিক বার্তা, ৭ ফেব্রুয়ারি,২০১৮)।  জনতা, সোনালী, বেসিক ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কাহিনী সরকার প্রকাশ করেনি, করেছে গণমাধ্যম।

প্রকৃতপক্ষে দেশে গত প্রায় এক দশকে, আইয়ুব (৬০ দশক) ও এরশাদের (৮০ দশক) পর, তৃতীয় ‘উন্নয়ন’দশকের চাপে আছি আমরা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি উত্তরোত্তর ভাল হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে বিস্তর। ঘুষ,নিয়োগ বাণিজ্য, আটক বাণিজ্য সবই বর্ধনশীল। নির্মাণখাত সবচাইতে গতিশীল। ইটভাটা অসংখ্য, বৈধ যত তার চাইতে অবৈধ সংখ্যা বেশি। সিমে কারখানার সংখ্যাও বেড়েছে। শীতলক্ষাসহ বিভিন্ন নদীর বাতাসে পানিতে এর প্রবল ছোঁয়া পাওযা যায়। দূষণরোধের কোনো ব্যবস্থা কাজ করে না। রডের উৎপাদন বেড়েছে। নিয়ম মেনে বা না মেনে বালু তোলার পরিমাণ বেড়েছে আগের যে কোনো সময়ের চাইতে বেশি। ফার্নিচারের ব্যবসাও বেড়েছে। এরজন্য বনের গাছের ব্যবসা ভালো। দেশে নির্বিচারে বনজঙ্গল উজাড় করায় প্রশাসন বরাবর সক্রিয় সহযোগী। সরকারি তথ্যই বলছে,‘দেশে সবচেয়ে বেশি বন উজাড় হয়েছে উচ্চপ্রবৃদ্ধির এই এক দশকেই।..শুধু গাজীপুরেই এক দশকে ধ্বংস হয়েছে প্রায় ৭৯ শতাংশ বনাঞ্চল।’(বণিকবার্তা, নভেম্বর ৪, ২০১৭)নির্মাণ কাজে সরকার যে সব বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার আকার ও বরাদ্দ আগের যে কোনো সময়ের চাইতে বেশি। এসব প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দের কোন উর্ধ্বসীমা নেই, এর যৌক্তিক বিন্যাসেরও কোনো ব্যবস্থা নেই,যৌক্তিকতা বিচারের কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানও আর কার্যকর নেই। তার ফলে এগুলোর ব্যয় অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় ২/৩ গুণ বেশি হলেও সরকার তা নিয়ে কোনোভাবেই বিচলিত নয়। বরং সরকারি অনুমোদন নিয়েই এগুলোর ব্যয় শনৈ শনৈ বেড়ে যাচ্ছে। জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকার নিয়মনীতি অমান্য করে দেশি বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানিকে উচ্চমূল্যে কাজ দিচ্ছে, আইনের  হাত থেকে বাঁচার জন্য ২০১০ সাল থেকে সরকার চলছে‘দায়মুক্তি আইন’ঢাল দিয়ে,নানা সুবিধা ছাড়াও ভয়াবহ দুর্ঘটনার ক্ষতির দায় থেকে বাঁচানোর জন্য দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে বিদেশি কোম্পানিকে (রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দ্রষ্টব্য)।

নির্মাণ ছাড়া সরকারী প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আরেকটি ক্ষেত্রে প্রবল আগ্রহ,সেটি হল: কেনাকাটা। যন্ত্রপাতি  কেনা হচ্ছে, কাজ নাই; বাস কেনা হচ্ছে, কিছুদিন পরই সেগুলো হাওয়া; ডেমু ট্রেন কেনা হচ্ছে, কিছুদিন পরই তার কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হচ্ছে;সিসিটিভি কেনা হচ্ছে কিন্তু প্রয়োজনের সময় তা নষ্ট বা ভাঙা; কেনা হচ্ছে গাড়ি, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার  মধ্যে গাড়ির মডেল পরিবর্তন করা, আরও বড় আরও দামি গাড়ি কেনার পথে প্রবল উৎসাহ। সর্বজনের অর্থ যে কোনোভাবে বরাদ্দে কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু এই অর্থ জোগাড়ে বাড়ছে মানুষের ওপরই চাপ। গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, ভ্যাট বসছে সর্বত্র, খাজনা বাড়ছে।

শিক্ষা খাতও এখন কিছুলোকের খুব দ্রুত টাকার মালিক হবার জায়গা। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষাখাতে শিক্ষার কী অবশিষ্ট থাকছে সেটাই বড় প্রশ্ন। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, কোচিং আর টিউশনি নির্ভরতার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন বিষময়। শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর করার কারণে গাইড বই,কোচিং এর বাণিজ্যের পথ খুলেছে। চলছে নিয়োগ বাণিজ্য। এতে যাদের লাভ তারা খুশি। তারা এই ব্যবস্থাই টিকিয়ে রাখতে চায়। শুধু শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদেরই ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অন্য সকল মন্ত্রণালয়ের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নিশ্চিন্ত। চিকিৎসা খাতের অবস্থাও তাই।

বলাই বাহুল্য,উন্নয়নের ধরনে যদি দুর্নীতি অস্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা হীনতা, দখল, দূষণ থাকে অর্থাৎ যদি উন্নয়ন প্রকল্প অতি উচ্চ মাত্রায় সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতি/বিপর্যয়ের কারণ হয় তাহলে তা কুশাসন অবধারিত করে তোলে। নদী নালা খালবিল যারা দখল করে, যারা ব্যাংক লুট করে, যারা সম্পদ পাচার করে, তাদের দরকার হয় প্রশাসনের সমর্থন,এই সমর্থন পেলে তার অপরাধের গতি আরও বাড়ে। এর মধ্যে দুনীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস সবই প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা অর্জন করে। সেটাই ঘটছে অবিরাম।

প্রকল্প বাছাইর ক্ষেত্রে কিংবা প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, যদি কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের এগুলো তদারকি বা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা না থাকে তাহলে তৈরি হয় যথেচ্ছাচার। যারা ঠিকাদার,তারাই যদি কর্তাব্যক্তিদের সমর্থন/ অংশগ্রহণে প্রকল্প নির্ধারণ করে, তাহলে ব্যয় বরাদ্দ অনিয়ন্ত্রিত না হবার কারণ নেই। যদি কমিশন প্রাপ্তির উপর নির্ভর করে প্রকল্প বাছাই, তাহলে কমিশন যতো বাড়ে প্রকল্প ব্যয়ও ততো বাড়তে থাকে। আগে ঘুষ কমিশনের একটা সীমা ছিলো এখন তাও নেই বলে জানা যায়। বাংলাদেশে প্রকল্প ব্যয় যে বিশ্বে রেকর্ড করছে তা এই গতিতেই হয়েছে।

ব্যবসা- লবিষ্ট- রাজনীতিবিদ- প্রশাসনের দুষ্ট আঁতাত আরো অনেক অপরাধ-সহিংসতাকেও ডাকে। বলপূর্বক টেন্ডার দখল, জমি-ব্যবসা দখল করতে গিয়ে খুন, রাষ্ট্রীয় সংস্থায় সহযোগিতা গুম, আটক বাণিজ্য, দরকষাকষি এগুলোও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চলে যায়। প্রশাসন আর দল একাকার হয়ে গেলে দ্রুত অর্থ উপার্জনের বল্গাহীন প্রতিযোগিতা চলবেই। বাড়তেই থাকবে ধর্ষণ, নারী-শিশু- সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা,ক্রসফায়ার, হেফাজতে নির্যাতন, এবং সরকারি দলে বিভিন্ন গোষ্ঠী হানাহানি।

গত কিছু দিনে দেশে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ,হেফাজতে খুন, গুম, ধর্ষণ ইত্যাদির তাই কোনো বিরতি নেই। সাম্প্রদায়িক হামলার সংখ্যাও বেড়েছে। এর বিরতি নেই, অপরাধীদের গ্রেফতার দূরের কথা তারা পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। ক্রসফায়ার খুন গুম সাম্প্রদায়িক হামলা সম্পর্কে সরকারি ভাষ্য খুবই সরল,একঘেঁয়ে এবং কৃত্রিম। ভাষ্যকারদের অবিরাম মিথ্যাভাষণ এবং নির্লিপ্ত অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে তাদের আদেশ অনুযাযী অসার কথাগুলোই জনগণকে বিশ্বাস করতে হবে এবং যদি কেউ না করে তাতে তাদের কিছু এসে যায় না।

তারপরও প্রতিবাদ থেমে যায়নি। বস্তুত ভরসার জায়গা তৈরি হয় প্রতিবাদে প্রতিরোধেই। গত কয়েকমাসে অন্যায় নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ কিশোর জাগরণ শুধু বিজয়ী সরকার নয়, বহুসংখ্যক ফসিল তোষামোদী শিক্ষক- সাংবাদিক- বুদ্ধিজীবীদের চেহারা আরও উলঙ্গ করেছে, সমাজের আঘাতপ্রাপ্ত চেতনায় সাহস সঞ্চার করেছে।

 

 

Anu Muhammad is a professor of economics at Jahangirnagar University, Bangladesh. He is a public intellectual, writer, editor, and political activist.

Share.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate »