ক্রসফায়ার, সম্মতি উৎপাদন এবং নিরবচ্ছিন্ন ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনার কথকতা

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার বেহাল দশা, আইনি ও পুলিশি ব্যবস্থার ঔপনিবেশিক খাসলত, দিনের পর দিন মামলার হয়রানি, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা,এককথায় বিচারহীনতার যে ‘সংস্কৃতি’ এখানে গড়ে তোলা হয়েছে, তাতে মানুষের বদ্ধমূল ধারণা এই রাষ্ট্রে কোনো ন্যায়বিচার আপনি পাবেন না।  ফলে, এখানে যখন ক্রসফায়ারে আমজনতা খুশি হয় তাতে আমি জনগণকে দোষ দেই না, তাদের খুশি হওয়াটা আসলে একটা ‘প্রতিক্রিয়া’, কোনো স্বাভাবিক ক্রিয়া নয়।

 

‘আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না’ – সিনেমাতে এমন সংলাপের দিন ফুরিয়েছে বহু আগে। বর্তমানে তামিল সিনেমা ভায়া হিন্দি সিনেমা হয়ে বাংলা সিনেমা পর্যন্ত আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতাই বেশি, মানে বর্তমানে যাকে কেতাবি ভাষায় ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলি সেটার প্রবণতাই বেশি। পূর্বে নায়ক ধুন্ধুরমার মারামারি করার পরও ভিলেনের ‘জান’টা নিতো না, কদাচিৎ নিলেও অধিকাংশ সময় আত্মীয়-স্বজন-প্রেমিকার অনুরোধে ভিলেনকে আইনের কাছে সোপার্দ করা হতো। যদিও আমরা জানতাম না পুলিশ সেই ‘ভিলেন’কে নিয়ে কি করবে, তবু নিজেদের সান্তনা দিতে পারতাম, যাক অন্তত ‘বে-আইনি’ প্রক্রিয়ায় কাউকে মারা হলো না। বর্তমানে সিনেমায় এমন পরিস্থিতি হাজির করা হয় যে, দর্শকই সেখানে মনেপ্রাণে দোয়া করতে বাধ্য হন যেন ভিলেনকে গুলি করে মারা হয়, বা কোনো আইনি হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি শাস্তি দেয়া হয়। শাস্তিদাতা পুলিশ হতে পারেন, আবার অ-পুলিশ নায়কও হতে পারেন। দর্শক হিসাবে আমরা যে আতঙ্ক ও উদ্বেগে থাকি ভিলেনের এমন নৃশংস মৃত্যুর মাধ্যমে সেটা থেকে রেহাই পাই। খুশি হই। অবশ্য, বর্তমানে অনেক স্থানেই ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া’ কেন্দ্রিক সিনেমা নির্মাণের সমালোচনা- আত্মসমালোচনা উঠছে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে পুলিশ হেফাজতে পিতা-মৃত্যুর ঘটনার পর ‘সিংহাম’ খ্যাত পরিচালক সিনেমায় ‘পুলিশি নির্যাতনকে মহান’ করে উপস্থাপন করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভারতের সোশাল মিডিয়াতেও এমন ধরণের সিনেমা নিয়ে রীতিমতো ট্রল করা হচ্ছে।

সিনেমাগুলো যে পরিস্থিতি হাজির করে বা নির্মাণ করে বা দর্শকের উপর আরোপ করে যেন দর্শক হিসাবে আপনি বাধ্য হন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থনে, সেই পরিস্থিতি কেমন? অধিকাংশ সময় সেটা হচ্ছে বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা, রাষ্ট্রের উপরমহলের সাথে ‘ভিলেন’দের দহরম-মহরম, ভিলেনদের অফুরন্ত ক্ষমতা ইত্যাদি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সিনেমা পরিচালকদের মতন দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সামনে এমন এক পরিস্থিতি নির্মাণ করেছেন এবং হাজিরও করেছেন, যা নাগরিকদের একটা বড়ো অংশকে বাধ্য করেছে ‘ক্রসফায়ারে’ খুশি হতে। এমন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করতে বাধ্য করে। অন্যত্র দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক হত্যাকাণ্ডকে ‘বিচারবহির্ভূত’ হিসাবে আখ্যায়িত করা পুরোপুরি সঠিক না, তবু এই সাধারণ আলাপের খাতিরে আমরা ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্তৃক হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত’ হত্যাকাণ্ড হিসাবেই ধরে নেব।

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার বেহাল দশা, আইনি ও পুলিশি ব্যবস্থার ঔপনিবেশিক খাসলত, দিনের পর দিন মামলার হয়রানি, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা,এককথায় বিচারহীনতার যে ‘সংস্কৃতি’ এখানে গড়ে তোলা হয়েছে, তাতে মানুষের বদ্ধমূল ধারণা এই রাষ্ট্রে কোনো ন্যায়বিচার আপনি পাবেন না।  ফলে, এখানে যখন ক্রসফায়ারে আমজনতা খুশি হয় তাতে আমি জনগণকে দোষ দেই না, তাদের খুশি হওয়াটা আসলে একটা ‘প্রতিক্রিয়া’, কোনো স্বাভাবিক ক্রিয়া নয়। যেমন, যখন কোনো ধর্ষককে ক্রসফায়ারে মারা হয় তখন অনেকেই উৎফুল্ল হোন। কখনো কখনো ধর্ষণের সংবাদে অনেকেই ক্রসফায়ার চান, ধর্ষককে ক্রসফায়ারে তুলে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে এমন সম্মতি কীভাবে তৈরি হলো তা আন্দাজ করা যাবে যদি মনে রাখা যায়, ২০০১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পুলিশের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে যত ধর্ষণের মামলা হয়েছিল তার মধ্যে রায় ঘোষণার হার ৩ দশমিক ৬৬ ভাগ এবং সাজার হার শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ। কোনো সন্দেহ নেই, বিচার ব্যবস্থার এমন বেহাল দশাই এমন এক পরিস্থিতি হাজির করেছে যেটা সাধারণ মানুষকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে উৎসাহ দিচ্ছে, বা বাধ্য করছে। কিন্তু, যারা ক্রসফায়ারের পক্ষে প্রচারণা চালান, তাদের সাথে এই ‘খুশি’ হওয়া আমজনতার বিস্তর ফারাক। ক্রসফায়ারের প্রচারকরা সরাসরি সেই পরিস্থিতির নির্মাতা, এবং আমজনতা সেই পরিস্থিতির ভিকটিম।

২০১৮ সালে লিখিত ‘প্রপাগান্ডা ও জনসংযোগের কৌশল’ শীর্ষক প্রবন্ধে দেখিয়েছিলাম, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যখন চলছে, তখন দেশের বিভিন্ন নামিদামি অনলাইন পোর্টালে বুদ্ধিজীবীরা মতামত পাতায় এই ‘যুদ্ধে’র পক্ষে কেবল সাফাই-ই গাইছেন না, বরঞ্চ আরো বিভিন্ন বিষয়ে তারা এমন ‘যুদ্ধ’চান সেটাও উল্লেখ করেছেন। গত সপ্তাহে বন্ধু ও সহযোদ্ধা স্বপন ভাইয়ের কল্যাণে ফেসবুকে কক্সবাজারের একজন সাংবাদিকের কিছু স্ক্রিনশট দেখলাম। এই সাংবাদিক দেশের একটা নামিদামি পত্রিকার প্রতিনিধি, কিন্তু তিনি খোলামেলাভাবে ক্রসফায়ারের পক্ষে ওকালতি করছেন, বিভিন্নজনকে ক্রসফায়ারে দেয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করছেন। উনি কিন্তু একা নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন বহু সেলিব্রেটি লেখক আছেন যারা প্রকাশ্যেই বিভিন্ন ইস্যুতে ক্রসফায়ারের কামনা করেন।  উনারাই হচ্ছেন শাসকগোষ্ঠীর বাশিওয়ালা, শাসকেরা যা চায়, যে সুর চায় তারা সেই সুর দেন।

কিন্তু শাসকগোষ্ঠী এমন পরিস্থিতি কেন হাজির করে বা করতে চায়? কিংবা যে শর্তগুলো জনতাকে ক্রসফায়ারের সমর্থক বানিয়ে তুলে সেই শর্তগুলোকে কেন দূর করা হয় না?

শাসকেরা ‘যুদ্ধাবস্থা’ সবসময় রাখতে চায়, এটাই তাদের ‘স্বাভাবিক’ অবস্থা। শাসকগোষ্ঠী এই শর্তগুলো বা এমন পরিস্থিতি সবসময় বজায় রাখবে, বা তৈরি করবে, কারণ যতদিন এমন পরিস্থিতি থাকবে, ততদিন জনতা ‘নিরূপায়’ হয়ে অসহায়ত্বের প্রকাশস্বরূপ ‘ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’কে সমর্থন জানাবে। ততদিন শাসকেরা সেই সমর্থনকে পুজি করে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালাতে থাকবে, নিজেদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামের নির্ধারিত ‘শত্রু’দের নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারবে। ফলে, শাসকেরা কখনো চাইবে না এমন যুদ্ধাবস্থা, এমন পরিস্থিতি দূর হোক, বা বিচারহীনতার’সংস্কৃতি’ দূর হোক। এগুলোকে জিইয়ে রাখাই শাসকগোষ্ঠীর কাজ। এসব বদলানোর দায়িত্ব আমরা যারা শাসিত, শোষিত ও মজলুল তাদেরই।শাসকদের কাছে কোমল ও মোলায়েম সুরে দাবি জানিয়ে এই পরিস্থিতি বদলানো যাবে না, দরকার অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াই।

বাংলাদেশের মতন রাষ্ট্রের জন্য এই লড়াই বহুমাত্রিক হতে বাধ্য। এখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে কেবল জনসমর্থণ আদায়ই করা হয় নি,বরঞ্চ বিরাট একটি আইনিতন্ত্র গড়ে তোলা হয়েছে এমন হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য। আমার মনে হয়, যত ধরণের অপরাধের জন্য কোনো একটি বাহিনীকে বিলুপ্ত করে দেয়া যায়,তার চাইতে ঢের বেশি অপরাধ জমা হয়ে আছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ঝুড়িতে। ফলে, এখানে ক্রসফায়ারের জনসমর্থনের শর্ত দূরীকরণের লড়াই বা (হালকাচ্ছলে বললে) বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার লড়াই আসলে রাষ্ট্রকে সংস্কার বা বদলে দেয়ার লড়াইয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

নিরবচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ঘটনা এমন রূপে হাজির হয় যেগুলো কিনা ‘বিছিন্ন’ বলে বিভ্রম তৈরি করে; বা শাসকেরা চায় এগুলোকে’বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসাবে হাজির করতে। শাসকদের গোলামেরা একইভাবে প্রচারণা চালায়। যেমন সম্প্রতি মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও সেনাপ্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু আমরা যদি গত কয়েকবছরের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারানো মানুষের পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বুলাই তাহলে সহজেই অনুধাবন করা যাবে যে, এটা মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটা নিরবিচ্ছিন্ন ঘটনা। কেবল ক্রসফায়ারই নয়, প্যারিস ভিত্তিক একটা সংগঠন জানাচ্ছে যে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০৭ জন গুমের শিকার হয়েছে, ৬২ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, ২৮৬ জনকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া গিয়েছে, এবং ১৫৯ জনের সন্ধান পাওয়া যায় নি। গুমের সাথে যে রাষ্ট্রীয় বাহিনী জড়িত সেটাও বলা হয়েছে। খোলা চোখেই যেখানে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক গুম-খুন একটি নিরবচ্ছিন্ন ঘটনা, সেখানে তাহলে এটাকে‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা বলার ফায়দা কি?

এমনকি, সিনহার ক্রসফায়ারের জড়িত ওসি প্রদীপকেও ‘বিচ্ছিন্ন’ হিসাবে তুলে ধরার প্রয়াসও লক্ষণীয়। ওসি প্রদীপ বিভিন্ন মেয়াদে কৃতিত্বের জন্য পুরস্কারও পেয়েছেন, ফলে এমন মতও বাজারে চালু আছে যে, পুরস্কার তাকে বিনয়ী করার পরিবর্তে উদ্ধত করে তুলেছে। কিন্তু, ওসি প্রদীপের খুন করা বা পুরস্কার পাওয়া- কোনোটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ওসি প্রদীপ এমন কিচ্ছু করেন নি যা এই রাষ্ট্রে ‘অস্বাভাবিক’। তিনি তাই করেছেন যা করলে রাষ্ট্র খুশি হয়, পুরষ্কার দেয়। তিনি এই ক্রসফায়ার বা বন্ধুকযুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ পদক ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ বা বিপিএম পেয়েছিলেন। পদক পাওয়ার জন্য তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে যে ছয়টি কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন, সব কটি ঘটনাতেই আসামি নিহত হন। মানে, তিনি তো আর তার মানুষ মারা বা খুনি স্বভাবকে লুকিয়ে পুরষ্কার পান নি, বরঞ্চ সেটার ‘কারণে’ই পুরষ্কার পেয়েছেন। এটা কেবল ওসি প্রদীপের বেলাতেই নয়, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরপরই পুলিশদের যে পুরষ্কার দেয়া হয় সেখানের এই দুই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ (দমন) ছিল পুরষ্কারের নিয়ামক। প্রায় ১৯ জন পুরষ্কার পান গণআন্দোলন নিয়ন্ত্রণে বা দমনে ভূমিকা রাখার বিবেচনাতে। এমনকি, ঐতিহাসিকভাবে পুলিশ বাহিনীর এমন স্বভাব কোনো ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা নয়। ভারতে পুলিশের জন্ম স্থানীয় জনগণ ও শাসকের ঔপনিবেশিক বিভাজন রেখায় দাঁড়িয়েই। উদ্দেশ্য জনগণের দেখভাল নয়; বরঞ্চ পুঁজির প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখা এবং জনগণকে দমন করা। উপনিবেশক যেহেতু জোরপূর্বক দখলদারিত্ব কায়েম করে রাখে, সেহেতু যে কোনো ধরণের বিদ্রোহ-আন্দোলনে পুলিশের মূল ভূমিকা থাকে শাসকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জনগণকে দমন করা। এটা এখানকার পুলিশ-কাঠামোর মজ্জাগত। আমাদের শাসক যেমন ঔপনিবেশিক খাসলতের, তার বাহিনীও লাগবে ঔপনিবেশিক খাসলতের। তাই বলা যায়, ওসি প্রদীপ ‘ন্যাক্কারজনক’ কোনো ‘বিচ্ছিন্ন’ কাজ করেন নি, বরং ঐতিহাসিকভাবে যে আইনি ডান্ডা তার হাতে সোপার্দ করা হয়েছে এবং যে কাজের জন্য রাষ্ট্র তাকে বারংবার পুরষ্কার দেয়, তিনি সেই কাজই করেছেন।

তাহলে এইগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে দেখানোর ফায়দা কি? মূলত, এই আলাপ একই ধরণের ‘বাকি’ ঘটনাগুলোকে আড়াল করে দেয়, বা সেগুলোকে’বাতিলযোগ্য’ হিসাবে জনমানসে প্রতিষ্টিত করে। ফলে, যে জনগণ একরামুলের মেয়ের কান্না শুনে কান্দে, সেই আবার দুইদিন পর আবার ক্রসফায়ারে খুশি হয়, বা আরো কোনো ঘটনায় ক্রসফায়ার কামনা করে। বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যকার নিরবচ্ছিন্ন সুতাকে ধরিয়ে দেয়াটাই হচ্ছে আসলে বুদ্ধিজীবীদের কাজ; যেখানে আমাদের মুরুব্বি বুদ্ধিজীবীরা রীতিমতো হারিয়ে গেছেন চিরতরে। উনাদের ‘দেহী’ আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।

আমাদের লড়াই দীর্ঘমেয়াদি। অবশ্য দুনিয়ার সকল লড়াই-ই দীর্ঘমেয়াদি। যদিও শাসকরচিত ইতিহাস আন্দোলন- সংগ্রামের চূড়ান্ত মুহূর্তকে ‘হঠাৎ পড়ে পাওয়া’ ঘটনা বা ‘আকস্মিক মুহূর্ত’ হিসাবে তুলে ধরতে চায়। কারণ, যে কোনো সফল আন্দোলনই দীর্ঘ দিন ধরে জারি থাকা (রাখা) নানামুখী লড়াইয়ের ফসল- এই সত্য শাসকেরা লুকাতে চায়। যেন, আমরা শাসিতরা মুক্তির জন্য ‘অলৌকিক’ ঘটনার অপেক্ষা করি, একজন ‘নেতা’র অপেক্ষা করি। কিন্তু শাসকদের দাবার ঘুটি বারেবারে উলটে যায় আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন সক্রিয়তা কারণে। আমাদের মুক্তি আমাদের সক্রিয়তায়। এই মুহুর্তে এটা মনে রাখা এবং সক্রিয় থাকাই বোধহয় আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ।

 

 

Sohul Ahmed, activist and author. Topics of interest are politics, history, liberation war and genocide. Published Books: Muktijuddhe Dhormer Opobabohar (2017), Somoyer Bebyocched (2019), and Zahir Raihan: Muktijuddho O Rajnoitik Vabna (2020)

More Posts From this Author:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুদ্ধস্বর
Translate »
error: Content is protected !!
Scroll to Top