অভিমত | বিদ্যমান ক্ষমতাতন্ত্রই জন্ম দিচ্ছে খুনি ধর্ষক | সহুল আহমদ

Share this:

কখনো কখনো কোনো কোনো ঘটনা আমাদের চিন্তাকে অসাড় করে দেয়। মন তখন চিন্তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে তাৎক্ষণিক ‘শর্টকাট’ সমাধান চাইতে পারে। নাগরিকের এই ধসে পড়া, হতভম্ব অবস্থাকে আমার আপনার রাষ্ট্র পুঁজি করে, ফাঁসির গল্প শোনায়, ক্রসফায়ারের গল্প শোনায়। আবার সেই ক্ষমতার চক্রে জন্ম দিতে থাকে খুনি, ধর্ষক। এ এক অন্তহীন চক্রে আমাদের ফেলে দেয়া হচ্ছে। আমাকে আপনাকে নৈরাশ্যবাদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। স্বপ্নবাজ তরুণ যখন বলে দেশ ছেড়ে যাবো, তখন বুঝে নিতে হবে রাষ্ট্রের শাসকরা ও ক্ষমতাসীনরা সফল। নৈরাশ্যের জালে আটকে দিতে পারছে। অসহায় হিসেবে আমাকে আপনাকে হাজির করতে পেরেছে।

 

একটি নিষ্ঠুর ক্ষমতাতন্ত্র, মাফিয়াতন্ত্র ও গুন্ডাতন্ত্র নিয়মিত মাফিয়া-গুন্ডা-খুনি-ধর্ষক তৈরি করে। পালে ও পুষে। বাংলাদেশ যে বাস্তবতা হাজির হয়েছে এই তন্ত্রসমূহের কলকব্জা বোঝার জন্য সমাজবিজ্ঞানী বা অপরাধবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না; একটু কান্ডজ্ঞান রেখে এবং দলীয়-চশমাকে খুলে রেখে প্রতিবেশ-পরিবেশের তাকালেই সেটা স্পষ্ট হওয়ার কথা।

ক্ষমতাতন্ত্র কীভাবে খুনি, গুন্ডা, ধর্ষক তৈরি করে সেটার জন্য দুটো কেসস্টাডি দেখবো। একেবারে সাম্প্রতিক দুটো ঘটনা, আলোচিতও।

 

কেসস্টাডি এক: নোয়াখালির বেগমগঞ্জের দেলোয়ার

নোয়াখালির বেগমগঞ্জের এক নারীকে বিবস্ত্র করে নিপীড়নের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেলোয়ার আলোচনায় আসেন। বেগমগঞ্জে তার নামেই একটা বাহিনী আছে, দেলোয়ার বাহিনী। এই দেলোয়ারের অবলীলায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটানো কীভাবে সম্ভবপর হলো সেটা পাওয়া যাবে দেলোয়ারের ‘দেলোয়ার’ হয়ে উঠার মধ্যে। প্রথম আলোর রিপোর্ট জানাচ্ছে যে, ‘বছর দুই আগে অস্ত্র, গুলিসহ জনতার হাতে ধরা পড়েছিলেন। তখন তাঁকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরই বীরদর্পে এলাকায় ফিরে আসেন তিনি। এ ছাড়া একটি জোড়া খুনে এবং নিজের বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় কারাগারেই যেতে হয়নি দেলোয়ারকে। তাঁকে মামলায় আসামিও করা হয়নি। উল্টো তাঁর বাড়িতে অস্ত্র থাকার খবরদাতাকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।’

দেলোয়ার গণপিটুনি খাওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বীরদর্পে বের হয়ে এলো সেটার হদিস পাওয়া যায় দেলোয়ারের সাথে ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্কের মধ্যে। পত্রিকার রিপোর্ট আরো জানাচ্ছে যে, দেলোয়ারের অস্ত্রশস্ত্রসহ আটকের বিষয়টি পুলিশ ধাপাচাপা দিয়েছিল সেখানকার সাংসদ মামুনুর রশীদের লোকজনের তদবীরে। এমনকি, গণপিটুনিতে আহত দেলোয়ারকে সাংসদের লোকজনই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। ‘পরে সুস্থ হয়ে এলাকায় ফিরে দেলোয়ার আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।’

২০১৮ সালে যখন দেলোয়ার জোড়া খুন করেন তখন পুলিসশ দেলোয়ারের নাম বাদ দিয়ে মামলা নিয়েছে। এমনকি, বেগমগঞ্জের সেই নারীকে পূর্বে দেলোয়ার দুইবার ধর্ষণ করেছিল।

 

কেসস্টাডি দুই: আবরার হত্যাকান্ডের একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

বুয়েটে ছাত্রলীগের টর্চার সেলে ছাত্রলীগের নির্যাতনে আবরার ফাহাদের মৃত্যু এখনো আমাদের স্মরণে রয়েছে। আবরার ফেসবুকে ভারত-বিরোধী স্ট্যাটাস লিখেছিলেন, এই ‘অপরাধে’ ছাত্রলীগ তাকে রুমে ডেকে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে।

আবরারের হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা অনীক সরকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, আবরাররকে হত্যা করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এও জানান যে, তাদের কথা যারাই মনত না তাদেরকে এই ধরণের নিপীড়ন প্রায়ই করেছেন। উল্লেখ্য, আবরার হত্যাকান্ডের পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গড়ে উঠে ক্ষমতাসীনদের টর্চার সেল নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ খুলেছিলেন। অনীক তার জবানবন্দীতে বলেন, বুয়েটে এটা মোটেও নতুন কিছু নয়। সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতারা তাদের প্রায়ই এ ধরনের কাজ করতে নির্দেশনা দিতেন। তিনি জানান, বুয়েটে ছাত্রলীগ এভাবেই কাজ করে। তিনি কেবল সিনিয়রদের নির্দেশমতো কাজ করছিলেন, তিনি যদি নির্দেশ পালনে ব্যার্থ হতেন তাহলে এর ফলও নাকি তাকে বহন করতে হতো।

আবরার হত্যাকাণ্ডের আরেক আসামী মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, “সিনিয়র জুনিয়র যে-ই হোক, আমরা তাদের এভাবে পেটাতাম। আবরার মারা গেছে দুর্ঘটনাক্রমে। আমাদের মতের সঙ্গে না মিললে কাউকে পিটিয়ে বের করে দিতে পারলে ছাত্রলীগের হাই কমান্ড আমাদের প্রশংসা করত। সিস্টেমটাই আমাদের এমন নিষ্ঠুর বানিয়েছে।”

 

নিষ্ঠুর বানানোর ‘সিস্টেম’

উপরের দুটো কেসস্টাডির চরিত্ররা সমাজের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের মানুষ। কিন্তু তারা এক সুতোয় আটকে পড়েছেন। বুয়েট শিক্ষার্থী অনীক বলছিলেন, তিনি নটরডেমের শিক্ষার্থী ছিলেন, এমন তো ছিলেন না। নটর ডেম এর শিক্ষার্থী, বুয়েটে পড়েন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা ধরে নিতেই পারি তারা খুব ভালো শিক্ষার্থী ছিলেন। এবং স্বপ্নবান তরুণই ছিলেন। কিন্তু তারা খুনি হয়ে উঠলেন কীভাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর তারা আসলে তাদের জবানবন্দীতেই দিয়ে দিয়েছেন। তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ক্ষমতাতন্ত্র গঠে উঠেছে সেই তন্ত্রটাই এমন খুনি হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। নিষ্ঠুর হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। ‘যথাযথ’ নিষ্ঠুর হতে না পারলে উল্টো এর ফল বহনের ভয়ও ছিল। আবার ‘যথাযথ’ নিষ্ঠুর হতে পারলে পুরষ্কারও মিলতো; বড়ো হুজুরদের প্রশংসা মিলতো; আশির্বাদ মিলতো। এই যে পুরো প্রক্রিয়াটা সেটাতো একদিনে গড়ে উঠেনি। অনীক যে সিনিয়রের যে কথা বলছেন, সেই সিনিয়রের সিনিয়রও আছে, সেই সিনিয়ররের সিনিয়রও আছে… তারও সিনিয়র আছে। সবার উপর একটা করে ‘আশ্বস্তে’র হাত আছে; সেই সিনিয়রের সারি বা ‘আশ্বস্তে’র হাত একেবারে রাষ্ট্রের প্রধান পর্যন্ত পৌঁছায়। সেখানে গেলে দেখতে পাবো এমন এক ‘প্রধান’ বসে আছেন যার হাতে একেবারে আয়োজন করে সকল ধরণের ক্ষমতা ন্যাস্ত হয়ে আছে। এই চেইনটা খুবই দৃশ্যমান; হয়তোবা মাঝেমধ্যে চেইনের কিছু কিছু উপাদান অদৃশ্য থাকেন, বা আমাদের চোখে ঠিক ধরা পড়ে না। শাহেদদের মতো ‘রুটিন’ কেলেঙ্কারি যখন আতকা ধরা পড়ে, তখন আবিষ্কার করি সকল চেইন একেবারে সেই ‘প্রধান’ পর্যন্ত পৌঁছায়।

একইভাবে নোয়াখালীতে দেলোয়ার যে নৃশংস ঘটনার জন্ম দিয়েছে বা জন্ম দেয়ার সাহস পেয়েছে তার কারণও এই ‘সিস্টেম’; দেলোয়ার জানে, এমনকি পূর্বে প্রমাণও পেয়েছে, তারও সিনিয়র আছেন; তার উপরও ‘আশ্বস্তে’র হাত আছে; নেতার আশীর্বাদ আছে; সাংসদের আশীর্বাদ আছে। সাংসদও জানেন তার উপর কার আশীর্বাদ আছে! ভোটহীন নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি কারো আশীর্বাদে ‘সাংসদ’ হয়ে গেলেন সেটাও তিনি জানেন।

যখন কোনো জায়গায় খুন-ধর্ষণ হয়, কে খুন করছে, কে ধর্ষণ করছে এই প্রশ্নটা সবসময় তলিয়ে দেখা দরকার। অবলীলায় বীভৎস সব খুন-ধর্ষণ করার জন্য মাথার উপ্রে এমন এক কাঠামো লাগে যা কিনা খুনি-ধর্ষককে একধরণের মানসিক ও বাস্তবিক নিশ্চয়তা দিবে যে, সে অপরাধ করেও রেহাই পাবে। উপরের দুটো কেসস্টাডি একই সাক্ষ্য দিচ্ছে। নোয়াখালির বেগমগঞ্জের রাজনীতি হোক, বা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক, সবখানেই এই কাঠামোর অস্তিত্বের খোঁজ পাওয়া যাবে। রাষ্ট্র ক্ষমতার সাথে তার সম্পর্ক তলিয়ে দেখতে হবে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতার পরিধি বিভিন্নরকম হতে পারে; পাহাড়ে বা সমতলে ক্ষমতার পরিধি ভিন্ন ভিন্ন হইতে পারে। যারা ধর্ষকের পরিচয় ‘কেবল ধর্ষকই’ বলে বেড়ান, বা যারা খুনির পরিচয় ‘কেবল খুনিই’ বলে বেড়ান তাদের কথায় মারাত্মক ত্রুটি আছে বলে মনে করি। অধিকাংশ ধর্ষকের মাথার উপর একটা ছাতা থাকে, ক্ষমতার ছাতা থাকে। সেই ছাতা তাকে অভয় দেয় বলেই এমন জঘন্য কাজে দিনের পর দিন সে লিপ্ত থাকতে পারে।

এমনকি কোনো ঘটনা ঘটনার পর যে গণপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় সেই গণপ্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থানও আসলে উপরোক্ত ক্ষমতাতন্ত্রের অস্তিত্ব ভালোভাবে জানান দেয়। আবরারকে নিয়ে যখন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলো, তখন রাষ্ট্র চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সেটা ভেঙ্গে দিলো। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে পুলিশ-লীগ একসাথে মিলে আক্রমণ করেছে, আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে রক্তাক্ত করেছে। এই ঘটনাগুলো বারেবারে খুনি-ধর্ষকের মাথার ওপর যে বিরাট ক্ষমতার ছাদ বিরাজ করে সেটার জানান দেয়। রাষ্ট্রীয় বাহিনী এখানে জনগণের পক্ষে অবস্থান নেয় না, বরঞ্চ খুনি-ধর্ষকের পাহারাদের ভূমিকা পালন করে। কেবল পাহারাই দেয় না, নিজেরাও ‘হেফাজতে’ ঠান্ডা মাথায় নাগরিককে খুন করে ফেলতে পারে। প্রতিটি ঘটনার পর সবাই রায় দেন, এটি ‘একমাত্র’ নয়, বরঞ্চ নিত্যনৈমত্তিক ঘটে।

সাধারণত এমন কোনো আলোচিত ঘটনা ঘটনার পর ঘটনার সাথে জড়িতদের পিতা-মাতা বা পরিবারের সাথে ছবি ভাইরাল করার হুজুগ চাউর হয়।অনেকেই এতে সম্মতি দেন; কেউ কেউ পারিবারিক শিক্ষার অভাবের দিকেই ইঙ্গিত করেন। ফলে, আসামীর সাথে আসামীর পরিবারের ছবিও ভাইরাল করেন। কিন্তু, অন্তত এই সত্য আমাদের উপলধ্বি করার সময় এসেছে, ভয়ংকর খুনী-ধর্ষক আসলে পরিবারের সৃষ্টি নয়, বরঞ্চ ক্ষমতাতন্ত্রের,মাফিয়াতন্ত্রের, ও গুন্ডাতন্ত্রের সৃষ্টি। যেমন করে আবরারের খুনি জীয়ন বলছে, ‘সিস্টেমটাই আমাদের এমন নিষ্ঠুর বানিয়েছে’। ফলে ছবি যদি ভাইরাল করতেই হয়, তাহলে খুনি-ধর্ষকের পরিবারের ছবি ভাইরাল না করে, যেই ক্ষমতার ছাতা তাদেরকে খুনি-ধর্ষক বানিয়েছে সেই ছাতার শীর্ষবিন্দুর ছবি ভাইরাল করা দরকার। জৈবিক পিতার নয়, রাজনৈতিক পিতার ছবিই ভাইরাল করা হোক।

কখনো কখনো কোনো কোনো ঘটনা আমাদের চিন্তাকে অসাড় করে দেয়। মন তখন চিন্তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে তাৎক্ষণিক ‘শর্টকাট’ সমাধান চাইতে পারে। নাগরিকের এই ধসে পড়া, হতভম্ব অবস্থাকে আমার আপনার রাষ্ট্র পুঁজি করে, ফাঁসির গল্প শোনায়, ক্রসফায়ারের গল্প শোনায়। আবার সেই ক্ষমতার চক্রে জন্ম দিতে থাকে খুনি, ধর্ষক। এ এক অন্তহীন চক্রে আমাদের ফেলে দেয়া হচ্ছে। আমাকে আপনাকে নৈরাশ্যবাদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। স্বপ্নবাজ তরুণ যখন বলে দেশ ছেড়ে যাবো, তখন বুঝে নিতে হবে রাষ্ট্রের শাসকরা ও ক্ষমতাসীনরা সফল। নৈরাশ্যের জালে আটকে দিতে পারছে। অসহায় হিসেবে আমাকে আপনাকে হাজির করতে পেরেছে। নিজের কাছেই নিজে অহসায়, মনে হচ্ছে কেয়ামত আসন্ন, মনে হচ্ছে এই চক্র থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকের মনে এই গণনিরাশা জন্ম দেয়াটাই আমাদের ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের সবচাইতে বড়ো সাফল্য।

এর থেকে বের হওয়ার জন্য যেমন ফ্যাসিবাদী মতাদর্শকে উপড়ে ফেলতে হবে, তেমনি ফ্যাসিবাদী ক্ষমতাকাঠামোর গোড়াতেই আঘাত দিতে হবে।

 

Sohul Ahmed, activist, and author. Topics of interest are politics, history, liberation war, and genocide. Published Books: Muktijuddhe Dhormer Opobabohar (2017), Somoyer Bebyocched (2019), and Zahir Raihan: Muktijuddho O Rajnoitik Vabna (2020)

 

 

More Posts From this Author:

Share this:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুদ্ধস্বর
Translate »
error: Content is protected !!
Scroll to Top