অভিমত | মতাদর্শিক দ্বৈতচিন্তা | সারোয়ার তুষার    

0

গণতন্ত্র শব্দটির মতাদর্শিক ব্যবস্থাগত মানে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে, পাঁচ বছর অন্তর অন্তর ভোটাভুটি। কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাভুটি যে থাকবে না তা না, নিশ্চই থাকবে। রাজনীতি অর্থনীতি সহ জনসংশ্লিষ্ট সমস্ত ইস্যুর ব্যবস্থাপনার অসংখ্য উপায়ের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে একটা মাত্র উপায়, কোনভাবেই একমাত্র উপায় না।

 

জর্জ অরওয়েলের ভুবনবিখ্যাত উপন্যাস ১৯৮৪’র অন্যতম একটি চাবিশব্দ হলো Doublethink বা দ্বৈতচিন্তা। ওশেনিয়া নামক সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন পার্টি জনগণের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রপাগান্ডা ও মনস্তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি তৈরিতে ডাবলথিংক নামক দুর্দান্ত কার্যকর কৌশলের ব্যবহার করত।

ডাবলথিংক বা দ্বৈতচিন্তা হলো  power of holding two contradictory beliefs in one’s mind simultaneously and accepting both of them ; তথা পরস্পর বিপরীতধর্মী দুটি আইডিয়াকে যুগপৎভাবে ধারণ করা এবং দুটোকেই সত্য বলে বিশ্বাস করার ক্ষমতা।

বইয়ের একেবারে শুরুর দিকে, দ্বৈতচিন্তা হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গণস্মৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, কোনকিছু ভুলে যাওয়ার পাশাপাশি ভুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াকেই ভুলে যাওয়া বোঝায়। উপন্যাসের পরবর্তীতে পার্টি যখন মানুষের মন-নিয়ন্ত্রণের কৌশলগুলো প্রয়োগ করে, মানুষজন শেষ পর্যন্ত স্বাধীন চিন্তা করার ক্ষমতাই হারাতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায়, পার্টি শেষতক জনসাধারণকে যে কোনও বিষয়ে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয়, তা যদি এমনকি জনগণ ইতোমধ্যেই যা জানে তার সম্পূর্ণ বিপরীত কিছুও হয়ে থাকে।

পার্টির চারটি মন্ত্রণালের নামের মধ্যেই দ্বৈতচিন্তার চমকপ্রদ নজির দেখা যায়। যেমন প্রাচুর্য মন্ত্রণালয় (ministry of plenty)-এর কাজ হলো সম্পদের ঘাটতি পর্যবেক্ষণ করা, শান্তি মন্ত্রণালয়  (ministry of peace) যুদ্ধ ঘোষণা ও পরিচালনা করে, প্রেম মন্ত্রণালয়(ministry of love) নিষ্ঠুর কঠোর শাস্তি ও নির্যাতন চালানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং সত্য মন্ত্রণালয় (ministry of truth)  এর কাজ প্রপাগান্ডা প্রচার করা এবং ঐতিহাসিক সত্যকে পার্টির মতাদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ করে সংশোধন করা যাতে এমন কোন ঐতিহাসিক তথ্য বিরাজ না করে যেখানে পার্টি ‘সঠিক’ ভূমিকায় ছিল না।

সত্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্রমাগত ঐতিহাসিক ঘটনাকে পার্টির অনুগামী করে পাল্টাতে থাকে এবং নিজেরাই তৎক্ষণাৎ পরিবর্তিত ইতিহাস বিশ্বাস করতে থাকে। যেমন, ওশেনিয়া রাষ্ট্রের সাথে আরেক কাল্পনিক রাষ্ট্র ইউরেশিয়ার যুদ্ধের দামামা বাজছে।ফলে ঐতিহাসিক তথ্যাদি এমনভাবে বিন্যস্ত ও পরিবর্তিত হতে থাকে যে, ওশেনিয়া রাষ্ট্রের অধিবাসীরা এক পর্যায়ে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় যে, ইউরেশিয়ার সাথে ওশেনিয়া বরাবরই যুদ্ধে লিপ্ত ছিল।

অথচ জনগণের মনে মাত্র চার বছর পূর্বেই ওশেনিয়ার সাথে ইউরেশিয়ার ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের স্মৃতি তরতাজা। এই পর্যায়ে জনগণ নিজেদের প্রবোধ দেয় এই বলে যে, এরকমটা হতেই পারেনা ! ইউরেশিয়ার সাথে ওশেনিয়ার সুসম্পর্ক থাকতেই পারেনা। নিশ্চই স্মৃতি তাদের সাথে প্রতারণা করছে !

তবে , সম্ভবত দ্বৈতচিন্তার সবচাইতে শক্তিশালী প্রভাব টের পাওয়া যায় পার্টি প্রচারিত স্লোগান তিনটিতে, যা জনগণকে প্রতিনিয়ত আওড়াতে হয় :

*War is peace

*Freedom is slavery

*Ignorance is bliss

 

দ্বৈতচিন্তা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা

দ্বৈতচিন্তার নজির কেবল ফিকশনে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা যে ডিস্টোপিয়ান রিয়েলিটির মধ্যে বিরাজ করি, তার প্রধানতম কাজ হচ্ছে মানুষের ভাষিক ব্যবস্থাপনায় পদ্ধতিগত ক্যু ঘটানো। যার ফলে কোন শব্দকেই আর তার আভিধানিক অর্থে বোঝা যায় না। বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাশীল মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রি-মিডিয়া কমপ্লেক্স রাজনৈতিক পরিভাষা ও শাব্দিক কথকতার( discourse) যে অর্থগত ক্যু ঘটায় তার বাইরে কোন পরিভাষার আদি ও প্রকৃত অর্থ বিরাজ করেনা।

কিন্ত এই পারিভাষিক ক্যু ঘটানোর উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য হচ্ছে, কেন্দ্রীভূত স্বৈরাচারী ক্ষমতাকাঠামোর বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্রোহ-প্রতিরোধকে অসম্ভব করে তোলা। চরম রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে থাকা মানুষ স্বভাবতই সেই স্বৈরতান্ত্রিক বন্দীত্বের জিঞ্জিরকে ভেঙ্গে ফেলতে চায়।

কিন্তু মানুষ যখন কোন রাজনৈতিক নিপীড়ন-অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বা দাঁড়াতে চায়, তখন তাকে অধিকতর ন্যায্য ও গণমুখী ধারণাকে আঁকড়ে ধরতে হয় লড়াই এর প্রেরণা ও চেতনা হিশেবে। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র, বন্দীত্বের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা হয়ে ওঠে মানুষের লড়াই-প্রতিরোধ এর চেতনা।

ঠিক এই কারণেই বিশ্বজুড়ে যেসব স্বৈরতান্ত্রিক, গণবিরোধী ও ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক শাসনপ্রণালী বিরাজমান, সেগুলো পদ্ধতিগত প্রচার-প্রচারণা ,ঐতিহাসিক সত্যের বিকৃতি এবং মিডিয়া ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে মানুষের প্রতিরোধের প্রাথমিক উপকরণ ভাষিক ব্যবস্থাপনায় ক্যু ঘটায়। এই ক্যু ঘটানোর মাধ্যমে বিরাজমান পরাক্রমশালী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা মানুষের কর্তাসত্তাকে নিষ্ক্রিয়-নির্জীব-বিভ্রান্ত করে তুলতে হয় সক্ষম হয়। মানুষ নিজেই নিজের বন্দীত্ব ও অত্যাচারিত হওয়ার অনিবার্যতার পক্ষে ‘যুক্তি’ প্রদর্শন করে।

 

দ্বৈতচিন্তা ও গণতন্ত্র

নোম চমস্কি তাঁর  War is Peace. Freedom is slavery. Ignorance is strength নিবন্ধে অরওয়েলিয়ান ডাবলথিংক ধারণাটির বিস্তৃতি ঘটিয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে মতাদর্শিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা শব্দের আভিধানিক ও প্রকৃত অর্থকে বিরাজমান ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ করে নির্মাণ করে। চমস্কির নিবন্ধের শিরোনামও সেই ওশেনিয়া রাষ্ট্রের পার্টির প্রচারিত তিনটি স্লোগান থেকে নেয়া।

চমস্কি তাঁর আলোচ্য নিবন্ধে প্রথমেই ‘Democracy’ তথা ‘গণতন্ত্র’ শব্দটিকে উদাহরণ হিশেবে টেনেছেন। গণতন্ত্র ধারণাটির যেকোন অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যায় এর মানে দাঁড়ায় গণ-নিয়ন্ত্রণ। গণ-ক্ষমতায়ন। গণ-মালিকানা। একটা সমাজ ততটুকুই গণতান্ত্রিক যতটুকু জনসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে পাবলিকের অংশগ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা আছে।

কিন্তু গণতন্ত্র শব্দটির মতাদর্শিক ব্যবস্থাগত মানে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে, পাঁচ বছর অন্তর অন্তর ভোটাভুটি। কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাভুটি যে থাকবে না তা না, নিশ্চই থাকবে। রাজনীতি অর্থনীতি সহ জনসংশ্লিষ্ট সমস্ত ইস্যুর ব্যবস্থাপনার অসংখ্য উপায়ের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে একটা মাত্র উপায়, কোনভাবেই একমাত্র উপায় না।

কারণ জনগণের হাতে যদি কোন ক্ষমতাই না থাকে, পাবলিক অ্যাফেয়ার ব্যবস্থাপনার সমস্ত কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা যদি থাকে গুটিকয়েক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এলিটদের হাতে, তখন নির্বাচন পরিণত হয় ভোটরঙ্গে , জনগণের অর্থের শ্রাদ্ধ ঘটিয়ে নির্বাচন নামক তামাশা চলতে থাকে।

রাষ্ট্রকাঠামো যদি গণতান্ত্রিক না হয়, ক্ষমতার যদি ভারসাম্য না থাকে ; সমস্ত গণবিরোধী সিদ্ধান্ত তখন নেয়া হয় ওই পাঁচবছরে একবার জনগণ ভোট দিয়েছে এই দোহাই এর মাধ্যমে। জনগণ পরিণত হয় কর্মপ্রণালীর দর্শকে, অংশগ্রহণকারী হিশেবে নয়। পাবলিক পলিসিতে হস্তক্ষেপ করার কোন কর্তৃত্ব কিংবা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কোনটাই জনতার হাতে থাকে না।

তারা কেবল পাঁচ বছর অন্তর অন্তর গনোরিয়া আর সিফিলিসের মধ্যে যেকোন একটাকে বাছাই করার (আদতে বৈধতা দেয়ার) উপকরণে পরিণত হয় মাত্র। মতাদর্শিক দ্বৈতচিন্তার দীক্ষায়ন প্রকৌশল এরকম একটা ব্যবস্থাকেই ‘গণতন্ত্র’ হিশেবে জাহির করতে তৎপর থাকে। বাংলাদেশের মতো কোন কোন রাষ্ট্রে সেই মহা ‘গণতন্ত্র’ এমনকি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর জনগণের ভোট দেয়ার বোঝাও লাঘব করে দিতে পারে।

ভাবুন! গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত একটা ধারণা কায়েম হয়ে আছে গণতন্ত্রের নামে।

মোদ্দা কথা হলো, যেখানে জনতার কোন এজেন্সি নাই, পাবলিক অ্যাফেয়ারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অধিকার জনতার কাছে নাই,নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণ নাই বরং প্রতিনিধিরাই জনতার হুজুর হয়ে ওঠেন ; এমন একটা পরিস্থিতিতে নির্বাচন থাকাকে ‘গণতন্ত্র’ বলা যায়না।

জনতার হাতে কিছুই নাই, আছে কেবল মূলা ঝুলানোর মত নির্বাচন এবং এটাকেই ‘গণতন্ত্র’ বলে বুঝুক লোকে, যেকোন মতাদর্শিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তো এটাই চায়!

ফলে একজন গণবুদ্ধিজীবীর কাজ হচ্ছে, গণতন্ত্রের আসলেই যদি কোন মানে থেকে থাকে তাহলে সেটা কী আর মতাদর্শিক দ্বৈতচিন্তার রাজনৈতিক পরিসর ‘গণতন্ত্র’ বলতে কী বোঝাতে চায়, জনতাকে কীভাবে কর্তৃত্বহীন করতে চায় নামকাওয়াস্তে নির্বাচনে মাধ্যমে সেগুলো উন্মোচন করা। হুইসেল ব্লোয়িং করা।

রাষ্ট্রের কাঠামো যদি স্বৈরাচারী হয়, সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে ‘নির্বাচনি স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হতে পারে সর্বোচ্চ। গণতন্ত্র থাকেনা সেই রাষ্ট্রে।

 

‘বিকল্পহীনবাইনারি

মতাদর্শিক দ্বৈতচিন্তা আরো যে ভয়ংকর কাজ করে, সেটা হলো চিন্তার বাইনারি তৈরি করা। মোটাদাগে ‘ভালো’ ও ‘খারাপ’ এর এক বিকল্পহীন পরিসর তৈরি করা এবং মানুষকে ‘খারাপ’ এর জুজু দেখিয়ে আপাত ‘ভালো’র দিকে ঠেলতে থাকা, আসলে যে ‘ভালো’ নিজেও প্রচণ্ড রকমের গণবিরোধী।

যেমন, পশ্চিমা পুঁজিবাদের বিকল্প সর্বাত্মকবাদী-রাষ্ট্রবাদী ‘সমাজতন্ত্র’ তথা রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ না ; তেমনি একদলীয় রাষ্ট্রের সমাধান একক বিজনেস কমপ্লেক্স এর আওতায় দুই পার্টি নির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থা না। দুটো আদতে মোটাদাগে একই ব্যাপার।

প্রথম ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় এলিট আর অর্থনৈতিক এলিট একই পার্টি আমলাতন্ত্র থেকে আসে, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় এলিট আর অর্থনৈতিক এলিট আপাত অর্থে পৃথক দুই সত্তা হলেও তাদের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। তারা পরস্পরের উদ্দেশ্য সাধন করে।

কিন্তু মতাদর্শিক দ্বৈতচিন্তাময় জ্ঞান ব্যবস্থাপনা মানুষের ভাষিক ও জ্ঞান জগতে এতদূর পর্যন্ত ক্যু ঘটায় যে , মানুষ বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় কোন না কোন এক মেরুর গ্রাহক হতেই হবে। নিজেদের সক্রিয়তা আর উদ্যোগ বলতে যেন কিছু নেই!

চমস্কি তাঁর নিবন্ধে peace process, defence against aggression, special interest এর মতো শব্দবন্ধনীর ব্যবচ্ছেদ করার মাধ্যমে দেখিয়েছেন, এগুলোর আধিপত্যশীল অর্থ এবং প্রকৃত অর্থে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রেও আমরা দেখতে পাই, ‘উন্নয়ন’, ‘নিরাপত্তা’, ‘গণতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র’-এর মতো অসংখ্য রাজনৈতিক পরিভাষা   (শব্দগুলোর মূল অর্থের সম্পূর্ণ বিপরীত) তৈরি করা হয়েছে স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার স্বার্থে।

 

স্বাধীন সমাজ সংগঠনের কর্তব্য

চিরকালই পারস্পরিক সহমর্মিতা-সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই ব্যক্তি ও সমাজের বিকাশ ঘটেছে।  স্বাধীনতাশীল সমাজ মানেই স্বয়ংক্রিয় সমাজ। এ ধরনের সমাজে স্ব-শাসনই হলো উৎকৃষ্ট ব্যবস্থাপনা। একবার ভাবুন, নিদেনপক্ষে কার্যকর স্থানীয় সরকার বলতে যদি কিছু আমাদের দেশে থাকত (যা আছে সেগুলো মূলত সংসদ তথা প্রধানমন্ত্রীর অধীন কেন্দ্রীয় শাসনের স্থানীয় বর্ধিতাংশ মাত্র), তাহলে করোনা কিংবা বন্যার মত এরকম সংকটে কত দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারত তারা! কেন্দ্রীয় শাসনের খবরদারি মুক্ত স্থানীয় সরকার কিন্তু স্বায়ত্তশাসিত সামাজিক শক্তির একটা নিদর্শন। এরকম স্থানীয় সরকার সহ সামাজিক উদ্যোগ না থাকায় করোনা কিংবা বন্যার মতো সংকটের সময়ে গোটা দেশ তাকিয়ে থেকেছে একব্যক্তির নির্দেশের অপেক্ষায়।

আমাদের দেশে সত্যিকারের স্বাধীন সংগঠন এবং স্বাধীন উন্মুক্ত ভাষিক কথকতা উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা না থাকায় আমাদের সামাজিক সংহতি নেই বললেই চলে। ফলে মতাদর্শিক দ্বৈতচিন্তাময় রাজনৈতিক পরিসরে জনগণ হাজির থাকে এক অনুগত-নিষ্প্রাণ-নির্লিপ্ত-আজ্ঞাবহ সত্তা হিসেবে।

অন্যান্য অনেক কিছুর মত মতাদর্শিক দ্বৈতচিন্তাকে গণমুখী জ্ঞান ও সামাজিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা প্রতিস্থাপন করে স্বাধীন-স্বশাসিত সমাজ সংগঠন তৈরি করার কর্তব্যও আমাদের সামনে হাজির।

সমাজের উত্থান মানে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাজ সংগঠন ও স্বীয়-ব্যবস্থাপনা। অন্যদিকে মতাদর্শিক দ্বৈতচিন্তার উৎপাদক রাষ্ট্র যেখানে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী সেখানে তাকে মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে বাধ্য করা এবং মানবমুক্তির পথকে সে আদলেই প্রসারিত করতে হবে।

 

Sarwar Tusher is an author and activist. Interested in studying the state, power, authority, sovereignty, violence, and social relations. Co-authored the book Somoyer Beyobacched (2019). Writes on a regular basis in various blogs and journals. Active member and organiser of Rashtrochinta.

Share.

Leave A Reply

Translate »