একটা বই কি আপনার জীবন বদলে দিতে পারে? মূল: সিউ অ্যালেন জ্যাকবসেন

আপনি কি কখনো এমন একটি বই পড়েছেন যা আপনাকে এতো প্রবলভাবে দখল করে নিয়েছিল যে, তা আপনি যেভাবে জীবন যাপন করেন বা নিজের সম্পর্কে আপনার যা উপলব্ধি, তাকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে? বর্তমানে নরওয়েজিয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চিকিৎসা সেবার অংশ হিসেবে সাহিত্যের ব্যবহারে আগ্রহ খুঁজে পেতে শুরু করেছে।

 

নরওয়ের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বর্তমানে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় সাহিত্যকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাইন সান লোয়েস একজন লেখক এবং একইসাথে একজন থেরাপিস্ট। তিনি বিশেষায়িত স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায় সাহিত্যকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করছেন এবং অসলোর ভিনডের্ন অ্যাডাল্ট সাইকায়াট্রিক ডিপার্টমেন্টে প্রদত্ত অন্যান্য চিকিৎসা সেবার পরিপূরক হিসেবে একটি পাঠচক্র আরম্ভ করেছেন। (আলোকচিত্রঃ আনা-জুলিয়া গ্র্যানবার্গ)

একজন কাল্পনিক ব্যক্তি, যিনি শুধুমাত্র একটা বইয়েই বাস করেন, তিনি একজন ব্যক্তির জীবনে একজন রক্তমাংসের মানুষের মতই হাজির থাকতে পারেন। এমনটাই মনে করেন থর ম্যাগনাস তানগেরাস। সম্প্রতি তিনি তাঁর ডক্টরাল কাজের ভিত্তিতে সাহিত্য ও রূপান্তর  নামের একটি বই প্রকাশ করেছেন। সংক্ষেপে বললে, বইটির বিষয়বস্তু প্রভাবশালী পাঠ অভিজ্ঞতা।

 

জোরাল অভিঘাত সৃষ্টি করেছিল

 

তানগেরাস সবার উদ্দেশ্যে একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেনঃ আপনার কি কখনো একটা সাহিত্যকর্মের সাথে জীবন-বদলে-দেয়া মোলাকাত ঘটেছে? তিনি বলেন, “আমি সাধারণ পাঠকদের ব্যাপারে জানতে চাচ্ছিলাম। তাঁদের জন্য বিশেষ অর্থ রাখে এমন সাহিত্যকর্মের ব্যাপারে তাঁদের গল্পগুলো শুনতে চাচ্ছিলাম।” সামাজিক গণমাধ্যমে প্রশ্নটা পোস্ট করার ও গ্রন্থাগারে ফ্লাইয়ারগুলো ঝুলিয়ে দেয়ার পর, তানগেরাস মানুষের কাছ থেকে বিবিধ প্রতিক্রিয়া পেতে শুরু করলেন। তারা তাকে সাহিত্যের সাথে তাদের যে-রূপান্তরমূলক অভিজ্ঞতা হয়েছে সে-ব্যাপারে বলতে চাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “এরকম কয়েকটি গল্প আমার মনে জোরাল অভিঘাত সৃষ্টি করেছে। (তার ফলে) সাহিত্য, পঠনপাঠন, ও যোগাযোগের ব্যাপারে আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছি।”

 

আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচিয়েছে

খোদ নিজের জীবনেই তানগেরাসের কিছু প্রভাবশালী পাঠ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে যা তাঁর কৌতূহল জাগিয়েছিল তা হল ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক নিকোলা গ্রিফিথের লেখা একটা ব্লগ পোস্ট। তানগেরাস বলেন, “তিনি সেই পাঠকদের ব্যাপারে লিখেছেন, যারা মনে দাগ কাটার মতো কিছু গল্প নিয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করেছিল। একজন পাঠক জানিয়েছেন, গ্রিফিথের বইগুলো তাকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। আরেকজন লেখক তাঁকে বলেছেন যে লেখকের কাজগুলো তাকে ক্লোজেট থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করেছে।” গ্রিফিথ নিজেকে তাঁর হোমপেইজে “পিএইচডির কারণে খোঁড়া হয়ে যাওয়া একজন ক্যুইয়ার” বলেছেন। তানগেরাস যুক্ত করেন, “আমার মনে হয়েছিল ব্যাপারটা প্রশংসনীয়। আসলে, আমরা তো এমন একটা সময়ে বাস করছি, যখন সমাজে সাহিত্য অধ্যয়ন ও মানবিকবিদ্যার ভূমিকা কী সেই প্রশ্নটা বারবার তোলা হচ্ছে।”

 

সাহিত্য অধ্যয়নে নতুন অন্তর্দৃষ্টি

তানগেরাস নিজেকে প্রশ্ন করেন, এমন জীবন-বদলে-দেয়া পাঠ অভিজ্ঞতাগুলোর মূলে সাধারণ কিছু আছে কিনা। বিষয়টা খতিয়ে দেখতে তিনি কিছু মাপকাঠি নির্ধারণ করেন। তিনি বলেন, “এর একটি হল, আপনি বইটা পড়ে ফেলার অনেক পরেও, এখনো আপনার জীবনে বইটা বেঁচে আছে।” তিনি বিশ্বাস করেন, সাহিত্যের সাথে পাঠকদের নিজস্ব মোলাকাত এমন একটা ভিন্ন মাত্রা তৈরি করে, যাকে তেমনভাবে আমলে নেয় নি তাঁর বিদ্যায়তনিক জ্ঞানশাখা। নরওয়ের প্রথম গবেষক তিনি, যিনি জীবন-বদলে দেয়া পাঠ অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তানগেরাস বলেন, “হয়তো আমাদের উচিত সাহিত্যসংক্রান্ত বিজ্ঞানের তত্ত্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের নজর সরিয়ে সাধারণ মানুষ কীভাবে পাঠ অভিজ্ঞতা লাভ করে তা নিয়ে আরো বেশি করে ভাবিত হওয়া। আমাদের গবেষণাক্ষেত্রে, টেক্সটকে প্রায়শই স্রেফ বিশ্লেষণের বস্তু মনে করা হয়। একজন ব্যক্তির জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলায় সহায়তা করতে পারে, এমন একটা কিছু হিসেবে এগুলোকে দেখা হয় না।” তাঁর মতে, গবেষণাক্ষেত্রটি তথাকথিত “সাধারণ পাঠকদের” সাথে সংযোগসেতু তৈরি করার চেষ্টা করে নি।

 

ভাগ করে নেয়া পঠনপাঠন

 নিজের ডক্টরেট কাজের অংশ হিসেবে তানগেরাস ২০ জন সাধারণ পাঠকের নিবিড় সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যারা তাদের প্রভাবশালী পাঠ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। তারা কোন বইটি পাঠ করেছেন, সাক্ষাৎকার নেবার আগেই তিনি সেটি জেনে নিয়েছেন, এবং নিজে সেটি পাঠ করেছেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার আগে বইটি নিজেই পড়ে ফেলা ছিল আলাপচারিতার পূর্বশর্ত, এমনটাই বিশ্বাস করেন তানগেরাস। প্রথমে, তিনি পাঠকদেরকে অনুরোধ করেছেন তারা যেন তাদের সাহিত্যসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তাঁর সাথে ভাগ করে নেয়। এরপর তিনি বইয়ের যে-সুনির্দিষ্ট অংশগুলো তাদের সবচে ভালো মনে আছে, তা থেকে উচ্চস্বরে পাঠ করার আহবান জানিয়েছেন তাদের। তানগেরাস বলেন, “এর মধ্যে কয়েকটা বই আগেই পড়া ছিল আমার। আর কয়েকটার সাথে আমি পরিচিত ছিলাম। কিন্তু কয়েকটা বই আমি আগে পড়ি নি, এবং খুব সম্ভবত পড়তামও না কখনো। এই শেষোক্ত বইগুলো এমন জনরাঁর যা নিয়ে আমি আসলেই কেয়ার করি না।”

 

সব “উঁচুমাপের সাহিত্য” নয়

এ-পর্যায়ে এসে সাহিত্য গবেষক এমন একটা আবিষ্কার করলেন, যা সাহিত্য সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে বিস্তৃত করল। তিনি বলেন, “একটা বই আরেকজন মানুষের কাছে ব্যাপক অর্থ বহন করে, এটা যদি জানা থাকে আপনার, তাহলে আপনি বইটিকে একপ্রকার ধর্মীয় ভক্তি সহকারে পাঠ করবেন।” সাক্ষাৎকারপ্রদানকারীরা যে-বইগুলো তাদের জীবনকে রূপান্তরিত করেছে বলে মনে করছিলেন সেগুলোর মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য ছিল। “উঁচুমাপের সাহিত্যের” জনরাঁ ও মাত্রার ছিল বহু রূপ। এই বইগুলোয় জনপ্রিয় সিরিজ থেকে ধ্রূপদী কাজ সবই অন্তর্ভুক্ত ছিল। তানগেরাস বলেন, এসব সাহিত্যকর্মের কিছু ছিল রোম্যান্টিক, কিছু রিয়েলিস্টিক, আর কিছু ফ্যান্টাসিমূলক। “আমার পড়া সবগুলো বইই ছিল মানসম্পন্ন। কিছু পাঠকের জন্য যা একটু বেশিই সরল মনে হতে পারে, তাতেও অন্যরা জীবনে তাদের স্থান কোথায় সেই বিবরণ খুঁজে পেয়েছে। এই বৈচিত্র্য হয়তো এটাই প্রদর্শন করে যে, সাহিত্যের মূল্য একটা বিশেষ সময়ে (একজন) পাঠক ও একটা নির্দিষ্ট বইয়ের অনন্য সাক্ষাতে নিহিত, সাহিত্যকর্মটির নৈর্ব্যক্তিক গুণে নয়।”, বলেন তিনি। তিনি সবগুলো সাক্ষাৎকারের মধ্যে তুলনা করেন এবং বইটির পাঠ বিবেচনাধীন ব্যক্তিটির জীবনকে কীভাবে প্রকৃতই বদলে দিয়েছে তা বাছবিচারমূলকভাবে আমলে নেন। তানগেরাসের বইয়ে পাঁচজন পাঠকের সাক্ষাৎকার সার্বিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

নিজেদেরকে সাহায্য করতে পঠনপাঠন

মস্তিষ্ক স্ক্যানের সহায়তায় গবেষণা দেখিয়েছে যে, নিজে একটা অভিজ্ঞতা লাভ করা মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রকে যেভাবে উদ্দীপিত করে, একটা অভিজ্ঞতা বিষয়ে পড়া মস্তিষ্ককে ঠিক সেভাবেই উদ্দীপিত করতে পারে।  বই পড়া আমাদেরকে অন্য মানুষদের ব্যাপারে অধিকতর সহমর্মী করে তোলে কিনা এখন পর্যন্ত প্রায়োগিক পঠনপাঠনসংক্রান্ত গবেষণার অধিকাংশই তার ওপর আলোকপাত করেছে। তানগেরাস বিশ্বাস করেন, ব্যাপারটা আরো বেশি ফলপ্রসূ হবে, যদি আমরা পঠনপাঠন কীভাবে পাঠকদেরকে নিজেকে গ্রহণ করতে সহায়তা করা সেদিকে নজর দেই। তিনি বলেন, “সাহিত্যের থেরাপেটিক সম্ভাবনা অস্বীকার করার জো নেই। সাহিত্য নিজেই একটা চিকিৎসা সেবা নয়, তবে এটা চিকিৎসা সেবার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। সাহিত্য রোগের উপসর্গগুলোকে দূর করতে পারে আমি এমনটা মনে করি না, কিন্তু এটা জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে পারে, আর মানসিকভাবে ভালো থাকার অধিকতর নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে।”

 

পাঠ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়া

স্বাস্থ্যসেবার প্রেক্ষিতে সাহিত্যের ব্যবহারে ক্রমাগতভাবে বর্ধিত মনোযোগ প্রদান করা হচ্ছে। ভাগ করে নেয়া পঠনপাঠন নামের একটি পদ্ধতি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন তানগেরাস, যেখানে লোকেরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে একে অপরকে উচ্চস্বরে সাহিত্য পাঠ করে শোনায়।তিনি বলেন, “এটা এমন একটা পদ্ধতি যা পরিমাণগত ও গুণগত উভয় ধরণের গবেষণারই আওতাভুক্ত হয়েছে। দেখা গেছে এটা ভালো থেরাপেটিক ফল দেয়।” বর্তমানে তানগেরাস অসলোর উলেভাল হাসপাতালের গ্রন্থাগারিক লিন্ডা শাডে অ্যান্ডারসেনের সাথে সহযোগিতামূলকভাবে স্বাস্থ্যসেবার প্রেক্ষিতে সাহিত্যের ব্যবহার বিষয়ে গ্রন্থাগারিক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রাপ্তবয়স্কদেরআবাসন, কারাগার, ও সাইকিয়াট্রিতে পদ্ধতিটির ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

 

হাসপাতালের পাঠচক্রগুলো

২০১৫ থেকে অ্যান্ডারসেন হাসপাতালস্থ রোগী, আত্মীয়স্বজন, ও কর্মচারীদের জন্য পাঠচক্র আয়োজন করে আসছেন। তিনি বিশ্বাস করেন এই গ্রুপগুলো সাহিত্যকে জনসাধারণের কাছে নিয়ে যাওয়ার একটা উপায়, এমনকি সেই লোকেদের কাছেও, যারা পড়তে অভ্যস্ত নয়। অ্যান্ডারসেন বলেন, “অংশ নেয়ার জন্য আপনার এমনকি পাঠসক্ষম হওয়ারও জরুরত নেই। আপনি স্রেফ হাজির হবেন। গ্রন্থালোচনা চক্রগুলোতে আগে থেকে টেক্সট পড়ে আসতে হলেও আমাদের পাঠচক্রের ক্ষেত্রে কোনো পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। আমাদের চক্রগুলোতে, টেক্সটগুলোকে তৎক্ষণাৎ উপস্থাপন করা হয়।” নিয়মটা হল, যিনি চক্রের নেতৃত্ব দেন, তিনি একটি ছোট গল্প ও একটি কবিতা পাঠ করেন। অ্যান্ডারসেন লেখকদের একটা বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ থেকে ছোট গল্প নির্বাচিত করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তারজেই ভেসাস, অ্যালিস মুনরো, কোরা স্যানডেল, এবং আইজাক বাশেভিচ সিঙ্গার। অ্যান্ডারসেনের চোখে যা অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক তা হল কতো ভিন্ন ভিন্নভাবে আমরা একটা ছোট গল্পের পরিস্থিতি ও চরিত্রগুলোকে অনুধাবন করতে পারি। তিনি বলেন, “স্রেফ আপনার নিজের মতামতই একমাত্র মতামত নয়, এই অভিজ্ঞতাটি আপনার দিগন্তকে প্রসারিত করতে পারে। এটা আপনাকে একটা চকিত অন্তর্দৃষ্টির মুহূর্ত পাইয়ে দিতে পারে, পারে এই বিশ্বের ব্যাপারে একটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে।”

 

একটা ভিন্ন ধরণের থেরাপি

 সাইন সান লোয়েস সেই অংশগ্রহণকারীদের একজন যারা একটি পঠনপাঠক নেতৃত্বমূলক কোর্সে অংশ নিয়েছেন। তিনি একজন লেখক এবং একইসাথে একজন থেরাপিস্ট। লোয়েস অসলোর ডিয়াকোনজেমেত হাসপাতালের অ্যাডাল্ট সাইকিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। তিনি বলেন, “কল্পকাহিনী আমার জন্য সবসময়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর থেকে আমি সান্ত্বনা আর শক্তি দুটোই পেয়েছি।” যখন তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল তানগেরাসের ভাগ করে নেয়া পঠনপাঠন পদ্ধতির সাথে, তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, এটা তাঁর থেরাপি চর্চায় একটা বিকল্প উপায় হিসেবে কাজ করতে পারে।

 

আমাদের ভেতর আরেকটা জায়গা

লোয়েস বলেন, “সাহিত্য মানুষকে সেইসব জায়গায় স্পর্শ করে যা মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এমন অনেক রোগী আসেন যাদের শুধু উদ্বেগ আর বিষাদগ্রস্ততার বিপর্যয় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এই অসুখগুলো প্রায়ই তাঁদের সামগ্রিক জীবনের সাথে খুব নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। আর তাদের অনেকেই থেরাপির সময় নিজেদের ব্যাপারে ও নিজেদের জীবনের ব্যাপারে কথা বলতে কুন্ঠাবোধ করেন। তারা ভাষা খুঁজে পান না। এই জটিল অনুভূতিগুলো ধরতে পারার ক্ষেত্রে কখনো কখনো এমন একটা টেক্সট অনেক কম আশঙ্কাজনক, যাতে তারা নিজেরা প্রতিফলিত হয়েছেন বলে মনে করেন বা অন্যদের ভেতর দিয়ে নিজেদেরকে বুঝতে পারেন।” লোয়েস নরওয়েজীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সাহিত্যকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছেন। বহির্বিভাগের সকল রোগীর জন্য উন্মুক্ত একটা পাঠচক্র শুরু করেছেন তিনি।

 

কল্পকাহিনী ছাড়াও বহু লোক পরিতৃপ্ত জীবনযাপন করছেন

উপন্যাসের বিক্রি কমছে, আর পুরুষরা নারীদের চেয়ে কম কল্পকাহিনী পড়ছে। জনরাঁটিতে মেয়েদের তুলনায় অল্পবয়সী ছেলেদের আগ্রহ কম। এই প্রবণতাগুলো সাহিত্যের সাথে জড়িয়ে থাকা কিছু মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। তাঁর গবেষণায় কল্পনাপ্রবণ সাহিত্যের সাথে জীবন বদলে যাওয়ার সম্পর্কটা নথিভুক্ত সত্ত্বেও সাহিত্য গবেষক ও গ্রন্থপ্রেমী তানগেরাস বিশ্বাস করেন, সকলেরই উপন্যাস পড়া দরকার এমন কিছু জোর দিয়ে বলার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। তিনি বলেন, “আমি এমন বেশ কিছু মানুষকে চিনি যারা পরিতৃপ্ত জীবনযাপন করছেন এবং কল্পকাহিনী পড়ার ব্যাপারে তারা থোড়াই কেয়ার করেন। কিন্তু তাদেরকে হয়তো গল্প বলার অন্য কোনো উপায় আকর্ষণ করে। তাদের কেউ কেউ চলচ্চিত্রের সাথে সম্পৃক্ত হন, অন্যরা সঙ্গীত বা শিল্পের সাথে।” তানগেরাস সবিস্ময়ে ভেবেছেন, কীভাবে গল্পটা বলা হল, হয়তো তার থেকে গল্প বলা যাপন করাটাই আমাদের জীবনে বেশি গুরুত্ব রাখে। কিছু মানুষকে হয়তো এই অভিজ্ঞতাটি পাইয়ে দেয় ধ্রুপদী উপন্যাস। অন্যরা একই অভিজ্ঞতা লাভ করেন কমিক বই পড়ে বা তাদের মনে দাগ কাটে এমন কোনো চলচ্চিত্র দেখে। তিনি বলেন, এর বাইরেও হয়তো আছেন এমন অনেকেই, একটা শিল্পকর্ম দেখে যারা নড়েচড়ে বসেন।

 

 

মূল লেখক

সিউ এলেন জ্যাকবসেন একজন সাংবাদিক। তিনি রিসার্চ কাউন্সিল অফ নরওয়ে কর্তৃক ২০০২এ প্রতিষ্ঠিত অসলোভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা forskning.no এর জন্য নিয়মিত লেখেন। তাঁর বিভিন্ন লেখার ইংরেজি অনুবাদ ScienceNorway.noতে প্রকাশিত হয়েছে।

 

ইংরেজি অনুবাদক

ইনগ্রিদ পি. ন্যুসে Ingrid P. Nuse মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে থাকেন। তিনি ScienceNorway.no এর জন্য নরওয়েজীয় থেকে ইংরেজিতে নিবন্ধ অনুবাদ করেন।

 

Translator from English to Bangla

Irfanur Rahman Rafin is based in Bangladesh. He is a writer and a translator. Currently, he is editor-in-chief at Bread & Roses, a Bangladesh-based online translation initiative.

 

Reference: 

English translated link

sciencenorway.no/books-literature-therapy/can-a-book-change-your-life/1702900

Norwegian original link

forskning.no/boker/kan-en-bok-endre-livet-ditt/1695671

More Posts From this Author:

    None Found

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুদ্ধস্বর
Translate »
error: Content is protected !!
Scroll to Top