একদিন

Share this:

একদিন

 

ঝিম ধরা এক দুপুরে কোনো কারণ ছাড়াই দোকান বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসে আজহার মল্লিক।

তার দোকানটা বংশী নদীর কুল ঘেঁষে, বিশাল এক বটগাছের তলায়। দোকানের আশেপাশে এলোমেলোভাবে নেমে এসেছে বটের ঝুরি, তাদের দৌরাত্ম্যে দোকানটাই প্রায় অদৃশ্য হতে বসেছে। অস্বাচ্ছন্দ্যকর এ জায়গা থেকে দোকান সরিয়ে নিতে অনেকেই বলেছে তাকে। কিন্তু আজহার মল্লিকের কখনও ইচ্ছে হয়নি। তার বাপ রমজান মল্লিক চল্লিশ বছর টানা দোকান করে গেছে এখানে। তার নিজেরও বছরদশেক হয়ে গেছে। বকুলপুর বাজারের সর্বদক্ষিণে, নদীর প্রায় পেটের মধ্যে তার এই বটতলার দোকানে আছে হরেক রকম মুদিমাল। ঝাড়ু, স্যান্ডেল, বালতির মতো কয়েকটি গার্হস্থ্য পণ্যের পাশাপাশি আছে খাতা, কলম, কাগজ-নানাবিধ শিক্ষা উপকরণ। ব্যবসার অবস্থা যে খুব ভালো তা বলা যায় না। বস্তুত গোটা বকুলপুর বাজারটাই ধুঁকছে। মাইলদেড়েক দূরে ইউনিয়ন সদরে হাকিমপুর বাজারের সঙ্গে পেরে উঠছে না বকুলপুর। অথচ কী রমরমাই না ছিল একসময়। আশেপাশের দশ গ্রামের মধ্যে একমাত্র বাজার। হাটের দিন শত শত লোকে গমগম করত। এখন কেমন বিষণ্ন, রোগাটে, মৃতপ্রায়।

‘আর বড়জোর দুই বছর। বকুলপুররে মরণরোগে ধরছে। নিস্তার নাই।’ পাশের মিনা সেলুনের মালিক শিবু প্রায়ই বলে।

হনহন করে মাইল আধেক হাঁটার পর হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় আজহার। এপাশ ওপাশ তাকায়। যতদূর চোখ যায় কেউ নেই। চামড়ার মধ্যে ভিমরুলের মতো হুল ফোটাচ্ছে রোদ। দূরে বিলের ধারে কয়েকটি গরু নির্বিকার চেহারা করে ঘাস খাচ্ছে। এছাড়া কোনো জনপ্রাণী নেই। মাথা চুলকায় আজহার। নিজের আচরণের অর্থ নিজেই বুঝতে পারছে না। সাধারণত মাগরিবের আজানের পর দোকান বন্ধ করে বাজারের মসজিদে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরে সে। আসরের নামাজের পর দু-চারজন করে খদ্দের আসে। নয়-নয় করেও দু-চারশো টাকা বিক্রি হয়। কেন কোনো কারণ ছাড়া এই মাঝদুপুরে দোকানের ঝাঁপ ফেলল সে? ভাবতে থাকে আজহার। ভেবে কুলকিনারা পায় না। তাই আবার হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে একসময় টের পায়, গোরস্তানের কাছে চলে এসেছে সে। গ্রামের পশ্চিম মাথায়, ইউনিয়ন বোর্ডের রাস্তা যেখানে বাঁক খেয়ে ছোটতাজপুরের দিকে চলে গেছে, সেখানেই গ্রামের গোরস্তান। গোরস্তানে ঢোকার মুখে কাত হয়ে থাকা মৃতপ্রায় এক মাদার গাছের পাশে বসে পড়ে আজহার। গলায় প্যাঁচানো গামছায় মুখ মুছে।

বুকটা হঠাৎ ছমছম করে ওঠে তার। এদিক ওদিক তাকায়। মানুষ তো মানুষ, পশুপাখিরও চিহ্ন নেই কোথাও। এদিক ওদিক ছড়িয়ে আছে অজস্র কবর। কোনোটার বেড়া ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। কোনোটার বুকের মধ্যে বিশাল গর্ত, যেন উঁকি দিলেই কবরে শোয়া মানুষটাকে চোখে পড়বে। আবার কোথাও কবর যে আছে সেটাই বোঝার উপায় নেই। যেমন তার বাবা রমজান আলী মল্লিকের কবর। বেড়া বা আর কোনো সীমানাচিহ্ন নেই। গোরস্তানে ঢুকতেই হাতের বাঁয়ে, আরও দু-চারটা কবরের আড়ালে একটেরে, ন্যাড়া একটুখানি জায়গা। কিছুক্ষণ সেদিকটায় তাকিয়ে থাকে আজহার। মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ জন্ম নেয়। বাপের মৃত্যুর পর গত দশ বছরে ঈদের জামাতের পর নিয়ম মেনে দোয়া করতে আসা ছাড়া পারতপক্ষে গোরস্তানে পা পড়েনি তার। সত্যি বলতে কী, গোরস্তান জায়গাটাকে একটু ভয়ই লাগে তার। সে নিজেই একদিন মরে গিয়ে এখানে অজস্র কবরের একটিতে শুয়ে থাকবে, এটা ভাবতেও দম বন্ধ হয়ে আসে।

বাপের কবরের দিকে ঠায় তাকিয়ে চুপচাপ বসে থাকে আজহার আলী মল্লিক, এবং গুরুতর সেই চিন্তাটা ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে: কেন হঠাৎ ঝাঁপ বন্ধ করল দোকানের? তারচেয়েও বড় কথা, হঠাৎ করে গোরস্তানের পাশেই বা এসে বসে আছে কেন!

এবং তখনই শফিউদ্দিন হাওলাদারের কথা মনে পড়ে আজহারের। বছর-চল্লিশেকের শফিউদ্দিনের মুদি দোকানটা ছিল আজহারের দোকানের গা ঘেঁষেই। মাসদুয়েক আগে এমনই এক দুপুরে কথা নেই বার্তা নেই আজহারের সামনেই হুট করে পড়ে মরে গেল শফিউদ্দিন। ঘটনাটা মনে পড়লে এখনও বিশ্বাস হতে চায় না তার। শক্তসমর্থ, রীতিমতো জোয়ান পুরুষ শফিউদ্দিন। বিয়েটা একটু দেরিতেই করেছিল, ত্রিশ পেরোনোর পর। চার পাঁচ বছরের মধ্যেই চার বাচ্চার বাপ হয়ে দেরিতে বিয়ের খেসারতটা পূরণ করে ফেলেছিল। সেদিন ব্যবসা-পাতি নিয়ে আফসোস করছিল শফিউদ্দিন, জমি-জিরাত বেচে ব্যবসায় টাকা ঢালবে নাকি দোকানই বেচে ফেলবে এ পরামর্শ করছিল আজহারের সঙ্গে। শফিউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে হঠাৎ আনমনা হয়ে যাচ্ছিল আজহার। চোখ চলে যাচ্ছিল বংশী নদীতে। নদীটাও কেমন মরে আসছে, আগে কত মাছ পাওয়া যেত, এখন দু-চারটা পোনা ছাড়া কিছু নেই, সাতপাঁচ এসব ভাবছিল আজহার, হঠাৎ ‘খোক্ক্’-জাতীয় অস্ফূট একটা শব্দ করে তার পায়ের কাছে পড়ে গেল শফিউদ্দিন। মুখ দিয়ে গাঁজলা বের হওয়া, দাঁতকপাটি লেগে থাকা চেহারাটা দেখে বুঝতে সমস্যা হয়নি আজহারের, শরীরে প্রাণ নেই শফিউদ্দিনের। কিন্তু কথা বলতে বলতে, একেবারেই কোনো কারণ ছাড়া জোয়ান মর্দ একটা পুরুষ কেন মরে যাবে তার কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি আজহার। আশপাশ থেকে যখন লোকজন ছুটে আসছিল, তাকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিল তখনও পাথরের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল আজহার।

আজ দুপুরবেলা কোনো কারণ ছাড়াই দোকান বন্ধ করে দেয়া, গোরস্তানের ধারে এসে বসে থাকা-এ সবের পেছনে কি শফিউদ্দিন হাওলাদারের হাত আছে? সে কি কোনোভাবে ভুলিয়ে ভালিয়ে গোরস্তানে নিয়ে এসেছে তাকে, মেরে ফেলার জন্য?

দোয়া-কালাম পড়তে পড়তে বুকে ফুঁ দেয় আজহার। এদিক সেদিক তাকায়। মাছি পর্যন্ত উড়ছে না কোথাও। জাদুমন্ত্রবলে জীবনের সকল চিহ্ন যেন উধাও হয়ে গেছে চারপাশ থেকে। কেবল গোরস্তানভর্তি কয়েকশো মৃতদেহ নিয়ে সে একা বসে আছে। নাকি শফিউদ্দিন হাওলাদারের মতো সে নিজেও দোকানের মধ্যে হঠাৎ মরে গেছে? গোরস্তানে এসে বসে আছে যে লোকটা সে আসলে তার লাশ?

বুকে থু থু দেয় আজহার। নিজের গালে থাপ্পড় মারে। কী সব উল্টোপাল্টা ভাবছে সে? শফিউদ্দিন হাওলাদারের কবরের দিকে চোখ চলে যায়। মাত্রই মাসদুয়েক আগের কবর, দেখে বোঝা কঠিন। কাঁচামাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। হেলায়ফেলায় দেয়া সীমানা বেড়া ভেঙে একপাশে কাত হয়ে আছে। জঙ্গুলে লতা এঁকেবেঁকে কবরটা ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করছে। শফিউদ্দিন হাওলাদার নামে কেউ একজন যে ছিল সে ব্যাপারটাই মুছে ফেলার নীলনকশা নিয়ে যেন মাঠে নেমেছে প্রকৃতি।

সে মরে গেলে তার কপালেও কি একই পরিণতি অপেক্ষা করছে?

অস্বস্তিকর ভাবনাটাকে মাথা ঝেড়ে দূর করার চেষ্টা করে আজহার। সফল তো হয়ই না, বরং আরও বেশি করে জেঁকে বসে মাথার মধ্যে। উঠে দাঁড়ায় আজহার। স্খলিত পা ফেলে গোরস্তানের মধ্যে ঢোকে। বাবা রমজান আলী মল্লিকের কবরের পাশে দাঁড়ায়। কবরের মাঝ বরাবর বেশ বড় একটা গর্ত। লম্বালম্বি। গর্তের অন্ধকার বুকে উঁকি মেরে দেখার চেষ্টা করে রমজান। এমন ঘোর কালো, নিকষ অন্ধকারে ঢাকা গর্তটা, মাথা ঘুরে ওঠে আজহারের। এত অন্ধকার কেন কবরের ভেতর? তার বাপ রমজান আলী মল্লিকের লাশটার কী অবস্থা এখন? দশ বছর পর কি কিছু থাকে, নাকি মাটির শরীর মাটিতে মিশে যায়?

শেষের ক’টা দিন বড় কষ্টে কাটিয়েছিল রমজান মল্লিক। পুকুরঘাটে পড়ে পা ভেঙে গিয়েছিল। সেই যে পড়ল আর উঠল না। তখন ফাগুন মাস। ভীষণ গরম পড়েছিল। সারাদিন শুয়ে শুয়ে কাতরাতো আর কপালকে শাপ-শাপান্ত করত রমজান মল্লিক। যেদিন মরে গেল, আজহার আর তার ভাই ছামেদ সকালবেলা বাপকে কোলে করে উঠানে এনে পাটিতে শুইয়ে দিয়েছিল। সেখানে, শিরীষ গাছের ছায়ায় শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে আর নিজের কপালকে অভিসম্পাত দিতে দিতে মরে গেল রমজান মল্লিক। খানিক দূরে বসে মোড়া বাঁধছিল আজহার। অনেকক্ষণ বাপের সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়েছিল। হা করে আছে। চোখদুটো ঈষৎ খোলা। আজহার ভেবেছিল বকতে বকতে ঘুমিয়ে পড়েছে। একটু পর সন্দেহ হওয়ায় উঠে আসে। তারপরও বুঝতে পারেনি। বুঝতে পারল তার ভাই ছামেদ। বাপের বুকে হাত দিয়ে, নাড়ি ধরে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলেছিল, ‘বুড়া নাই।’

মনে মনে কি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল সে? সারাদিন বুড়োর অশ্লীল গালিগালাজ শুনতে হবে না। খাইয়ে দেয়া, প্রস্রাব পায়খানা করানো এসবও করতে হবে না। আবার একদম খারাপও যে লাগেনি তাও নয়। তিন সন্তানের মধ্যে আজহারকেই বেশি স্নেহ করত রমজান মল্লিক। ছোটবেলায় হাটবারে কাঁধে করে তাকে হাটে নিয়ে যেত বাপ, সে স্মৃতিও মনে পড়ল। তবে যতই চেষ্টা করুক, চোখে পানি আনতে পারল না আজহার। তার বোন সুফিয়া, যে মাইলবিশেক দূরে মকছেদপুরে শ্বশুরবাড়িতে থাকে, ক’দিন পরপরই একবার বাপের বাড়ি এসে বাপের এক গণ্ডা জমিও তার কপালে কেন জুটল না এ নিয়ে সারাদিন বাপসহ সবার সঙ্গে ঝগড়া ফ্যাসাদ করে, সে-ও খবর পেয়ে ছুটে এসে উঠানে গড়াগড়ি দিয়ে কান্না করল। বাপকে হারিয়ে সে যে চিরজীবনের মতো এতিম হয়ে গেল এ নিয়েও আহাজারি করল। আজহাররা দুইভাই নির্বিকার চেহারা করে বসে থাকল। আজহারের মনে আছে, বেশ অধৈর্য বোধ করছিল সে। দাফন কাফনের সব কাজ মূলত তাকেই করতে হবে, এ নিয়ে বিরক্তিতে ফোঁসফোঁস করছিল মনে মনে।

কতদিন হয়ে গেল! বাপের দোকান, জমিজিরাত নিশ্চিন্তে ভোগ করছে। একদিনের জন্যও ইচ্ছে হয়নি বাপের কবরটার সামনে গিয়ে দুটো দোয়াদরুদ পড়ে আসে।

তবে কি শফিউদ্দিন হাওলাদার নয়, রমজান আলী মল্লিকই অকৃতজ্ঞ পুত্রকে ডেকে এনেছে গোরস্তানে? একদিন তার মতোই এখানে এসে শুয়ে থাকতে হবে সে কথাটা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য?

বাবার কবরের পাশে হাটু গেড়ে বসে আজহার। এলোমেলো পড়ে থাকা কয়েকটা মাটির ঢেলাকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করে। দু-একটা ঢেলা কবরের মাঝখানে মুখ ব্যাদান করে থাকা গর্তটার মধ্যে পড়ে। আজহার কান খাড়া করে; ঢেলাগুলো ভেতরে পড়ার শব্দ হয় কিনা বোঝার চেষ্টা করে। মাটি আর গাছের ডাল দিয়ে গর্তটা বুঁজে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টাও করে। হঠাৎ মনে হয়, সাপও তো থাকতে পারে গর্তে! ‘থাকতে পারে’ নয়, থাকার সম্ভাবনাই বেশি। চটজলদি কবরের পাশ থেকে সরে যায় আজহার। কিন্তু গর্তটা যেন জাদুর মতো আকর্ষণ করছে তাকে। খানিক তফাতে দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে গর্তের দিকে।

বহু-বহু বছর আগে, একদিন তাকে নিয়ে বকুলপুর বাজারে আসার পথে এই গোরস্তানের পাশেই থেমেছিল রমজান মল্লিক। অনেক বড় একটা দিঘি ছিল এখানে, এখন ছোট পানাপুকুরে রূপ নিয়েছে। দিঘির ঘাটে বসে নামাজের ওজু করছিল রমজান মল্লিক, বাপের পাশে দাঁড়িয়েছিল আজহার। হঠাৎ, বলা নেই কওয়া নেই, পা পিছলে দিঘিতে পড়ে যায় সে। মুহূর্তেই গলা পানিতে, তারপর পুরোপুরিই ডুবে যায় আজহার। সাঁতার জানত না, প্রাণপণে হাত পা নেড়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করছিল, তখনই, একেবারে শেষ মুহূর্তে থাবা দিয়ে তার চুল চেপে ধরে রমজান মল্লিক। একটানে উঠিয়ে আনে পানি থেকে। এরপর শতসহস্রবার, ঘুমে ও জাগরণে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার সে অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেছে আজহার। আর কয়েক সেকেন্ড দেরি হলেই গভীর পানিতে তলিয়ে যেত সে। রমজান মল্লিক তাকে উদ্ধার করার আগেই পরিণত হতো লাশে। ছেলেকে পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে মরিয়া হয়ে হাত চালিয়েছিল রমজান মল্লিক। কী হতো, যদি আজহারের চুলের মুঠি তার হাতে না বাঁধত? সেদিন গোরস্তানের পাশের এই দিঘির জলেই ডুবে মরত সে। সুফিয়া আর ছামেদ তো চোখের দেখা দেখতই না তাকে, বাপ-মাসহ বাকি সবার কাছেই সে হয়ে থাকত ধূসর একটা স্মৃতি।

রমজান আলী মল্লিকের কবরের বুকে অন্ধকার কালো খোড়লের দিকে তাকিয়ে থাকে আজহার। ইচ্ছে করে পিতার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। এতদিনের অবহেলার জন্য। তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর পরও যথেষ্ট পরিমাণে কৃতজ্ঞতা অনুভব না করার জন্য। বেঁচে থাকতে ঠিকমতো বাপের যত্নআত্তি না করার জন্য। বাপের মৃত্যুর পরও যথেষ্ট পরিমাণে শোক অনুভব না করার জন্য।

ফের মাদার গাছের ছায়ায় এসে বসে আজহার। বড্ড খা খা করছে চারদিক। গোরস্তানের পাশের জমিগুলোতে ফাটা বেলের মতো এখানে ওখানে শত শত চিড়। পুকুরটা রোগেশোকে ধুঁকতে থাকা গাভির মতো ঝিম মেরে পড়ে আছে। নিষ্প্রাণ, বর্ণহীন আকাশ যেন সর্বস্বহারা মানুষ- মুখ ব্যাদান করে পড়ে আছে।

আচমকা দোকানের ঝাঁপ ফেলে রাস্তায় নেমে আসার কার্যকারণ ঠান্ডা মাথায় বের করার চেষ্টা করে আজহার। সত্য বটে, ব্যবসাপাতি নিয়ে একটা হতাশার ভাব বহুদিন ধরেই পাক খেয়ে ঘুরছে মনের মধ্যে। সাত বছর বয়সী পুত্র আব্দুর রাকিব কিছুদিন হলো জ্বরে ভুগছে, ঔষধপথ্য খাওয়ানোর পরও জ্বর ছাড়ছে না, এ নিয়েও দুশ্চিন্তা আছে। কিন্তু ব্যবসার মন্দাবস্থা বা পুত্রের অসুখবিসুখ তো নতুন কিছু নয়। তাছাড়া বাপের দেয়া জমি-জিরাত আর সহায়সম্পত্তি একেবারে কম নয়। এমনকি ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও না খেয়ে মরার ভয় নেই। তাহলে কেন মনের মধ্যে এমন হাহাকার? কোথায় উৎস এই মন খারাপ রোগের? কথা নেই বার্তা নেই, ভূতে পাওয়া মানুষের মতো কেন সব ছেড়েছুড়ে গোরস্তানের পাশে বসে আছে?

রঙজ্বলা আকাশের নিচে, থম মেরে থাকা এক পৃথিবীকে সাক্ষী রেখে নিজের জীবনের ময়নাতদন্ত করতে বসে আজহার। ডাক্তার যেমন বিছানায় চিৎ করে শুইয়ে রোগীকে দেখে, সেভাবেই উল্টেপাল্টে দেখার চেষ্টা করে। আগামী অঘ্রাণে আটত্রিশ হবে তার বয়স। উল্লেখ করার মতো কোনো অসুখবিসুখ নেই শরীরে। স্ত্রী জোবেদা বেগম (৩০) আর পুত্র আব্দুর রাকিবকে নিয়ে সুখেশান্তিতে না হোক, ভালোই আছে। বাপের রেখে যাওয়া আটচালা বিশাল ঘরে থাকে। ছোটভাই ছাবেদ গাজীপুরে একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে, স্ত্রী মোমেনা আর দুই ছেলেমেয়ে সাকিব আর শান্তাকে নিয়ে গাজীপুর শহরেই থাকে। মাঝেসাঝে বাড়িতে আসে। ভাইয়ের সঙ্গে যথেষ্ট মিলমিশ আজহারের। বাপ বেঁচে থাকতে সহায়সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বোন সুফিয়ার মনে কষ্ট ছিল বটে, তবে বাপের মৃত্যুর পর সব পাওনা বুঝিয়ে দিয়েছে আজহার। ফলে সুফিয়াকে নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। আসলে কোনোকিছু নিয়েই সমস্যা নেই আজহারের। খেয়েপরে, স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে দিব্যি সুখে আছে।

তবু গলায় আটকে থাকা মাছের কাঁটার মতো কেন ক’দিন ধরে খোঁচা দিচ্ছে একটা অস্বস্তি? কোথায় উৎস এর?

আনমনে গোরস্তানের দিকে তাকায় আজহার। একটা হাওয়া দিচ্ছে, সেই হাওয়ায় কাত হয়ে থাকা শফিউদ্দিন হাওলাদারের কবরের বেড়া তিরতির করে কাঁপছে। দু-চারটে শুকনো পাতা হঠাৎ দুরন্ত হয়ে উঠে একছুটে হাওলাদারের কবরের ওপর গিয়ে উঠে। সেখানে মহানন্দে দু-চারটি পাক খেয়ে বেড়ার ফাঁক গলে আবার কোথায় যেন হারিয়ে যায়।

তবে কি চোখের সামনে শফিউদ্দিন হাওলাদারের হঠাৎ মরে যাওয়ার ঘটনাটাই তার মনের এ অবস্থার জন্য দায়ী? প্রাত্যহিকের নানা ব্যস্ততায় হাওলাদারের আকস্মিক মৃত্যুর ব্যাপারটা চাপা পড়ে গিয়েছিল মনের মধ্যে। তবে কি সেটি সাময়িক? যতটা ভেবেছে বাস্তবে কি হাওলাদারের মৃত্যুটা তার চেয়ে বড় অভিঘাত সৃষ্টি করেছে তার মনে?

শফিউদ্দিন হাওলাদারের কথা ভাবে আজহার। নরমসরম মানুষ ছিল। চাল-আটার ব্যবসা ছিল। বাজারের আর দশজনের মতো ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল তারও। মাঝেমধ্যে আজহারের দোকানের সামনের বেঞ্চিতে এসে বসত। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সংসার আর ব্যবসাসহ অনেক কিছু নিয়ে আলাপ করত। সহজসরল মানুষ ছিল হাওলাদার। রেখেঢেকে কথা বলার অভ্যাস ছিল না। কানের দুল বানানো নিয়ে বউয়ের সঙ্গে মনান্তর, শ্বশুরের সম্পত্তি নিয়ে শালা-সম্বন্ধিদের সঙ্গে হুজ্জত, দুই গন্ডা জমির মালিকানা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝামেলা-একবার শুরু করলে গড়গড় করে বলে যেত সব। সেদিনও শ্বশুরপক্ষের দূর সম্পর্কের কোন ব্যবসায়ী আত্মীয় কীভাবে ভালো চাল বলে পচা চাল তাকে গছিয়ে দিয়েছে সে গল্পই করছিল। গল্পের মধ্যেই হঠাৎ সেই ঘটনা। এখনও চোখ বন্ধ করলে স্পষ্ট দেখতে পায় আজহার, গুঙিয়ে উঠে কীভাবে তার পায়ের কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল হাওলাদার; পড়ার আগমুহূর্তে কীভাবে চোখ উল্টে কিছুক্ষণের জন্য পুরোপুরি সাদা হয়ে গিয়েছিল চোখের ভেতরটা; মাটিতে পড়ার পর দু-একবার কেঁপে উঠে কীভাবে স্থির হয়ে গিয়েছিল শরীর, ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে সামান্য একটু গাঁজলামতো বেরিয়েছিল-সবই দেখতে পায় আজহার। পুরোপুরি স্বাভাবিক একটা মানুষ কথা বলতে বলতে কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে নাই হয়ে যেতে পারে ভেবে কূল পায় না আজহার।

এবং তখন আবার নিজের বাপ-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, এমনকি এই গোরস্তানে শুয়ে থাকা চেনা অচেনা সবগুলো মানুষের কথা ভাবে আজহার মল্লিক। কেন হঠাৎ দুপুরবেলা ব্যবসাপাতি ছেড়ে বাউণ্ডুলের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে, নিজের কাছে সে রহস্যের নিদান না হলেও, জীবিত ও মৃত সকল আত্মীয়স্বজন, পরিচিত-অপরিচিত সব মানুষ, পৃথিবীর সমস্ত মানুষ, এমনকি পশুপাখিদের জন্যও তার বুকের ভেতরটা হা-হা করে ওঠে।

চেষ্টা করে নিজেকে সুস্থির করে আজহার। শার্টের হাতায় ঘর্মাক্ত কপালটা মুছে উঠে দাঁড়ায় ফের। পা বাড়ায় বাড়ির দিকে। সে যখন বাড়ি পৌঁছায় তখন প্রায় সন্ধ্যা। বাড়ির পেছনের ঝাঁকড়া অশ্বত্থ গাছটার পেছনে মুখ লুকাচ্ছে টকটকে লাল সূর্যটা। পায়ের চপ্পলজোড়া ধুলোয় ভরে গেছে। বাড়ির সামনের পুকুরে হাত-মুখ ধুয়ে বাড়িতে ঢোকে আজহার। ততক্ষণে দুপুর থেকে বিকেল অব্দি মাথার মধ্যে ঝিম মেরে থাকা সমস্ত শূন্যতা দূর হয়ে গেছে।

সন্তানের খবর নেয় আজহার, ছেলেকে ঘুম থেকে তুলে ওষুধ খাইয়ে দেয়, প্রতিবেশী সোবহানের ছাগল দুটো দফারফা করে ছেড়ে দেয়ার আগেই সবজিক্ষেতে বেড়া দিতে হবে-এ নিয়ে পরামর্শ করে জোবেদার সঙ্গে, রাতে জোবেদার রান্না করা তেলাপিয়া মাছ আর পটলের তরকারি দিয়ে ভরপেট ভাত খেয়ে ঘুমাতে যায়, তারপর, কেন কে জানে, মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে পাশে শুয়ে থাকা সন্তানকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।

 

প্রশ্নোত্তর

শুদ্ধস্বর: গল্প লেখার ব্যাপারে আপনার তাড়নার জায়গাটা কোথায়? অর্থাৎ কোন বিষয় এবং ঘটনাগুলো আপনাকে গল্প লেখার জগতে পৌঁছে দিলো?

মোস্তাক শরীফ: জীবনানন্দ বলেছিলেন, ‘মাথার ভিতরে … কোন এক বোধ কাজ করে’। কখনও বইয়ের পাতা, কখনও জীবনাভিজ্ঞতা থেকে এমন টুকরো টুকরো বোধের জন্ম হয়। অনুভব করি, ভাবনাটার কথা মানুষকে জানানো দরকার। জানানো মানেই নতুন করে সেই বোধটাকে অনুভব করা। এটাই গল্প লেখার তাড়না। সোজা কথায় বলতে গেলে, যেসব বিষয়, ঘটনা, অনুভূতি আমাকে রোমাঞ্চিত করে, ভাবায়, সেগুলোকেই গল্পের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার তাড়না অনুভব করি।

শুদ্ধস্বর: কীভাবে আপনার ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা আপনার গল্পকে আকার দেয়?

মোস্তাক শরীফ: পুরোপুরি আকার দিতে না পারলেও গল্পের ভ্রুণটার জন্ম দেয়। মনের মধ্যে জ্বেলে দেয় মহার্ঘ্য সেই স্ফূলিঙ্গ, যেটি একদিন গল্প হবে। এ শুধু জীবনযাপনসঞ্জাত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই নয়, ছোটবেলা থেকে এ ইস্তক যা পড়েছি, যত কথা শুনেছি, শোনার পর যা ভেবেছি- এ সব মিলেই। এসব কাঁচামাল না থাকলে কোনো গল্পেরই জন্ম হতো না।

শুদ্ধস্বর: আপনি কি মনে করেন সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব কথাসাহিত্যের উপর রয়েছে বা থাকা উচিত? আপনার অভিজ্ঞতা এবং পঠনপাঠনের আলোকে বলুন।

মোস্তাক শরীফ: মনে করি। কারণ মানবজীবনের এমন একটা অনুষঙ্গ নেই যা রাজনীতির বাইরে, সেটা লেখক অনুভব করুন বা না করুন। কাজেই রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব প্রায়শই কথাসাহিত্যে আসবে, আসা উচিত। তবে সেটি স্লোগানের আকারে, ইশতেহারের আকারে, স্থূলভাবে এলে তা আর সাহিত্য থাকে না, এটা লেখকের মনে রাখা উচিত। সবার আগে সেটি সাহিত্য হতে হবে। একটা লেখা কোন কোন প্রসাদগুণে সাহিত্য হয় সে ধারণাটি স্পষ্টভাবে লেখকের মাথায় রাখা উচিত।

শুদ্ধস্বর: এমন একটি ছোটোগল্প সম্পর্কে বলুন যা আপনাকে কাঁদিয়েছে বা আপনার চিন্তা ও বোধকে প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা দিয়েছে।

মোস্তাক শরীফ: এমন গল্প অসংখ্য আছে। তবু যদি একটিমাত্র গল্পের কথা বলতে হয় তবে সেটি জগদীশ গুপ্তের ‘দিবসের শেষে’। আপাতদৃষ্টিতে অতি সাধারণ একটি গল্প, কিন্তু পড়া শেষে পাঠককে অস্বস্তিতে ভোগায়, জ্বালাতন করে এবং সারাজীবন মনের মধ্যে রয়ে যায়। যেটি একটি মামুলি গল্প হতে পারত সেটিকে পরিণত করেছেন বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে স্মরণীয় সৃষ্টিগুলোর একটিতে। গল্প বলার মুন্সিয়ানা, শুরু থেকে শেষ অব্দি পাঠককে ধরে রাখা এবং বড্ড বেশি প্রেডিকটেবল হয়েও শেষমেষ ভীষণ রকমের আনপ্রেডিক্টেবল হয়ে উঠার মতো বেশ কিছু ব্যাপারের জন্য এটি আমার প্রিয় গল্প।

শুদ্ধস্বর: আপনার গল্প লিখতে আপনি কীভাবে কাঠামো, ভাষা এবং ব্যাকরণ নির্মাণ/ব্যবহার করেন? আপনি কি নিজস্ব ফর্ম গড়তে এবং ভাঙতে অভ্যস্ত?

মোস্তাক শরীফ: এটি যে খুব সচেতনভাবে করি তা নয়। গল্প লেখার ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততাকে গুরুত্ব দিই। এ অনেকটা সহিসের ঘোড়াগাড়ি চালানোর মতো। লাগামটা আলতো করে ধরে রেখে ভাবনার ঘোড়াকে স্বাধীনভাবে চলতে দিই। চলতে চলতে ঘোড়া অনেক সময় অচেনা নতুন পথেও হাঁটে। যা ভেবে লিখতে বসেছি, অধিকাংশ সময়ই তার চেয়ে ভিন্ন কিছু দাঁড়িয়ে যায়। এ ব্যাপারটা উপভোগ করি। অনুভব করি, লিখতে লিখতে আমার নিজস্ব একটা লিখনভঙ্গি ক্রমশ সৃষ্টি হচ্ছে। যে ভাষায়, যে শৈলীতে লিখতে চাই একদিন হয়তো সেখানে পৌঁছাতে পারব। আপাতত ভ্রমনটা উপভোগ করছি। একঘেয়ে হতে চাই না। এজন্য ফর্ম নিয়ে মাঝে মাঝে পরীক্ষা নিরীক্ষা করি। ফর্ম ভাঙাগড়া করছি, এ দাবি করতে পারব না, তবে নতুন আঙ্গিক নিয়ে ভাবি, চেষ্টাও করি। কতটা হয়ে ওঠে জানি না।

শুদ্ধস্বর: আপনার কাছে একটি সার্থক ছোটোগল্পের মূল উপাদান কী?

মোস্তাক শরীফ: ‘কী বলছি’ এবং ‘কীভাবে বলছি’ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। গল্পে প্রচুর মেসেজ থাকবে, পাঠকের ভাবনায় জোরেশোরে ঝাঁকি দিতে হবে, বা তাকে আনন্দ দিতে হবে-এরকম ভাবি না। তবে কিছু না কিছু একটা দিতে হবে-হোক সেটা সামান্য, মন খচখচ করা একটা উপলব্ধি, কিছু একটা তো থাকতে হবে। যে ভাবনা নিয়ে পাঠক গল্প পড়তে শুরু করেছিলেন, পড়া শেষে তাতে সামান্য হলেও পরিবর্তন আসতে হবে। অনুভূতির সরোবরে দু-চারটা মৃদু তরঙ্গ উঠতে হবে। মনে রাখার মতো চরিত্র, চমৎকার প্লট-এসব থাকলে ভালো, না থাকলেও তেমন কিছু আসে যায় না।

শুদ্ধস্বর: লেখকের রাজনৈতিক বোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ? রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অন্যায্যতার বিরুদ্ধে লেখকের কোন ধরনের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

মোস্তাক শরীফ: খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লেখক আর দশজন মানুষের মতো নন। যেদিন কলম হাতে নিয়েছেন সেদিন সব ধরনের অন্যায্যতার বিপক্ষে কথা বলার অলিখিত দায়িত্বও তুলে নিয়েছেন কাঁধে। কাজেই অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে লেখকের কলমকে কথা বলতে হবে। আইনস্টাইন বলেছিলেন, ‘খারাপ মানুষদের কুকর্মের কারণে দুনিয়া বিপজ্জনক স্থান নয়, বরং খারাপ মানুষরা কুকর্ম করার সময় কিছু লোক আরেক দিকে তাকিয়ে থাকে, ভাব করে কিছুই হয়নি-এদের কারণেই দুনিয়া বিপজ্জনক স্থান।’ লেখকদের এটি মাথায় রাখতে হবে।

শুদ্ধস্বর: আপনি এখন কী লিখছেন? আপনার বর্তমান লেখালেখি সম্পর্কে পাঠকদের জন্য কিছু বলুন!

মোস্তাক শরীফ: ইদানীং শিশুকিশোরদের জন্য লেখালেখির চেষ্টা করছি। ভৌতিক গল্পের একটা সিরিজ লেখার পরিকল্পনা করছি। অল্প কিছু লিখেছিও। সপ্তদশ শতকের ভারতবর্ষ নিয়ে একটা উপন্যাস লেখার ইচ্ছে আছে। সে উদ্দেশ্যে পড়াশোনা করছি।

 

  • More From This Author:

      None Found
  • Support Shuddhashar

    Support our independent work, help us to stay pay-wall free by becoming a patron today.

    Join Patreon

Subscribe to Shuddhashar FreeVoice to receive updates

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুদ্ধস্বর
error: Content is protected !!