অভিমত | করোনা; যেভাবে বদলে দিচ্ছে পৃথিবী | নাদিয়া ইসলাম

1

করোনা ভাইরাস প্যানডেমিকের মত ঘটনা আধুনিক পুঁজিবাদী পৃথিবী এর আগে কখনো দেখে নাই।

 

খুব অল্প সময়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি, বেকারত্ব বৃদ্ধি, গ্লোবাল অর্থনীতিতে ধ্বস নামা- এইসব শুধুই টিপ অভ দ্যা আইসবার্গ

 

আমি যখন এই লেখা লিখছি, তখন মাত্র কোভিড-১৯ এর ফার্স্ট ওয়েভ বা প্রথম ধাক্কা শেষ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর কিছুদিনের মধ্যেই এর সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হতে যাচ্ছে, যার আফটার ইফেক্ট আরও ভয়ংকর হওয়ার কথা। তারা বলছেন, পৃথিবীকে আর করোনা পরবর্তী বিশ্ববলে বিশেষায়িত করা সম্ভব না, বরং করোনা তার ওমনিপ্রেজেন্ট বা সর্বত্র বিরাজমান অস্তিত্ব সহই পৃথিবীকে করোনা বিরাজমান বিশ্ববলে নির্ধারণ করবে। অবশ্য আপনি যদি কনস্পিরেসি থিওরির ভক্ত এবং আমার কিছু হবে নামার্কা ঘাড় ঝাঁকিয়ে সবকিছু ফেলে দেয়া ডিনায়াল প্রেমিক হন, তাহলে আপনি এইসব বিশেষজ্ঞদের টোটালিটারিয়ান বলে গালি দিয়ে হালকা মুতে গায়ে কাঁথা টেনে পাশ ফিরে কোলবালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। ঘুমানোর আগে হার্ড ইমিউনিটি জাতীয় সম্পূর্ণ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অসুস্থ কথাও বলতে পারেন

 

আমাদের এই নতুন পৃথিবী, এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির, পাওয়ার শিফটিং, পাওয়ার হেজেমনি থেকে শুরু করে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার- নতুন মার্কেট মেকানিজম, মোড অফ প্রডাকশান এবং এমনকি নতুন সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিসরের পৃথিবীর এই পরিবর্তন গড়ে দেবার শর্ত তৈরি করেছে ক্রিপটোকারেন্সি- যা সেন্ট্রালাইজড ইকোনমিক পাওয়ার কে পাল্টে দিচ্ছে। এছাড়াও বদলে যাওয়া পৃথিবীর আগাম বার্তা দিয়েছিলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির আন্দোলন যা গত কয়েক দশক ধরে আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হয়েছে

 

আমাদের গত চার হাজার বছরের উদ্বৃত্ত সম্পদ নির্ভর অর্থনীতি যেটা পরবর্তীতে লগ্নি পুঁজিতে রূপান্তরিত হয়ে আধুনিক পুঁজিবাদের সূচনা করেছে, তা শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার আপাতঃ উন্নতি সাধন করলেও, আমাদের গড় আয়ু বাড়ালেও, আমাদের মঙ্গল গ্রহে রিয়েল এস্টেটের সায়েন্স ফিকশানে ঢোকার ঢিস্টিং ঢিস্টিং ইলন মাস্কিয় স্বপ্ন দেখালেও, আমাদের সামগ্রিক পারচেজিং পাওয়ার বাড়ালেও, মধ্যযুগের মধ্যবিত্ত আর আধুনিক সময়ের মধ্যবিত্তের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য তৈরি করলেও এই পুঁজিবাদের ইন্সটিটিউশনালিজমের গোড়ায় নারীবিদ্বেষ, শ্রেণিবিদ্বেষ, ধর্মান্ধতা, বর্ণবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ ছাড়াও ভয়ংকর তিনটা গলদ আছে

 

প্রথমটা হচ্ছে, প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস না করলে পুঁজিবাদ অগ্রসর হতে পারেনা

 

দ্বিতীয়তঃ পুঁজিবাদ তার সাফল্য বিচার করে মুনাফা দিয়ে,

 

আর তৃতীয়তঃ- পুঁজিবাদ মানুষকে স্বার্থপর প্রাণী হিসেবে দেখে

 

অল্প সময়ে অধিক ফলনের জন্য আমাদের যুগ যুগ ধরে বিবর্তিত ফসল যা আমাদের পরিবেশে টিকে থাকার জন্য বিবর্তিত হয়েছিলো, তার বদলে জি-এম-ও প্রযুক্তি, দীর্ঘস্থায়ী শেলফ লাইফের জন্য খাবারে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ এবং সস্তায় খাবারের পাত্র তৈরিতে বিপিএ ব্যবহারের ফলে সিস্টেম্যাটিকালি আমাদের অসুস্থ করে হাসপাতাল ও ফার্মাসিউটিকালস ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার নামের কর্পোরেট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার কুব্যবস্থা আছে; যা আমরা বেশিরভাগ সময় দেখি না। কারণ পুঁজিবাদ খুব সিস্টেম্যাটিকভাবেই আমাদের লোভের দাস বানিয়ে অন্ধ এবং বধির করে রেখেছে গত কয়েকশ বছর

 

এটা ভাবা খুব ভুল হবে যে, আমরা আমাদের আগের ইকোনমিক প্রডাকশানে ফেরত গেলেই বিশ্ব অর্থনীতি আবার আগের জায়গায় ফেরত যাবে। কারণ, প্রথমতঃ  প্রডাকশানের জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামালের সাপ্লাই পাওয়া যাবে না, দ্বিতীয়তঃ প্রডাকশান থাকলেও সেই প্রডাক্ট কেনা বা ভোগ করার জন্য মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকবে না। আমাদের বাজারের সাপ্লাই-ডিমান্ড চেইন পুঁজিবাদের তৈরি করা আর্টিফিশিয়াল সিমুলেশান ছিলো এতদিন। একটা আধুনিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে প্রতিদিন কত কেজি চাল লাগে, তা মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যভ্যাস বা চালের চাহিদা থেকে তৈরি হতো না, বরং সিস্টেম বা স্মিথের ইনভিজিবল হ্যান্ডহিসাব করে দিতো কত কেজি চাল মানুষের কেনা উচিত। এই কাজ আরো সহজ হয়েছে ডেটা সভেরিনিটিকে বুড়া আঙ্গুল দেখায়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের অনলাইন ফুটপ্রিন্ট বা ডিজিটাইজড আইডেন্টিটি তৈরি করার মাধ্যমে। এতদিন পাবলিক অপিনিয়ন তৈরি হত ইন্টেলেকচুয়ালি সেন্ট্রালাইজড কর্তৃত্ব বা প্রেশার গ্রুপের মাধ্যমে। এখন আর সেটা সম্ভব হবে না। ইন্টারনেট এবং সাধারণ মানুষের নিজের কথা নিজে বলার প্লাটফর্ম থাকার কারণেই ক্ষমতাসীন দলের বুদ্ধিজীবি গোষ্ঠীর ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করবে

 

বিল গেইটস বা অন্যান্য টেকনোক্রাটিকরা যেভাবে মানুষের জীবন ডিজিটাইজড হবার ভবিষ্যতবাণী করেছেন, আমি পুরাপুরি তার সাথে একমত না হলেও বিশ্বাস করি যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে টেকনোলজির প্রভাব বাড়বে। তবে আমেরিকা বা ইওরোপের দৈনন্দিন টেকনোলজি দিয়ে বাংলাদেশের মার্জিনাইজড কমিউনিটির পরিস্থিতি বিচার করা ভুল হবে নিশ্চয়ই। সেই কারণে এ্যাপল ওয়াচ বা এ্যাপল গ্লাস বা ড্রোনের মাধ্যমে চিঠি ডেলিভারি না হলেও আমরা- অন্ততঃ মধ্যম আয়ের মানুষেরা বাসায় বসে খাবার ডেলিভারি, বা অনলাইনে চিকিৎসা সেবা সহ ইন্টারনেটে লোকাল কমিউনিটি মোবিলাইজড হয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা বাড়তে দেখবো

 

জিজেকের ভাষ্য অনুযায়ী এই মূহুর্তে আমেরিকায় যে ইডিওলজিকাল সিভিল ওয়ার শুরু হয়েছে, তাতে তারা খুব দ্রুতই তাদের রাজনৈতিক এবং সেই সূত্রে অর্থনৈতিক আধিপত্যর স্টেটাস কৌ হারাতে যাচ্ছে। একইসাথে প্রায় চার যুগ ধরে ভারত-চীনের সীমান্ত সম্পর্কে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা না ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে লাদাখে চীনের মারফত ভারতের বিশ জন সেনা কর্মকর্তার খুনের পরেও মোদীর ভারত শান্তি চায়জাতীয় মিউমিউ বাণীর মারফত প্রমাণিত হয় জুম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের সিদ্ধান্তে চীন মোটেও আনন্দিত না এবং তারা জানে, এই মূহুর্তে মিউমিউ করা ছাড়া ভারতের হাতে আর কোনো অপশন নাই। প্লাস, রাশার সাথে ওপেকের মতানৈক্যর কারণে সারা পৃথিবীতে এমনিতেই তেলের দাম কমা শুরু হয়েছিলো, এরপর করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় সেই দাম গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌছেছে। আই-এম-এফ এর ভাষ্য অনুযায়ী পৃথিবীর সবগুলি শক্তিশালী রাষ্ট্র এই বছরের মধ্যেই রিসেশানে পড়তে যাচ্ছে এবং এই প্রকার রিসেশান ১৯৩০ সালের গ্রেইট ডিপ্রেশানের পর পৃথিবী আর দেখে নাই

 

আমেরিকা এবং ভারত এই দুই পরাশক্তির মিউমিউ অবস্থার ভূরাজনৈতিক প্রভাব খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশেও পড়বে। খুব স্বাভাবিক কারণেই বাংলাদেশ ভারতের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হবে। বিবিসির ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, “ভারত বাংলাদেশে রফতানি করে বছরে প্রায় আট বিলিয়ন ডলারের পণ্য। কিন্তু আমদানি করে মাত্র ২৬ কোটি ডলারের। কিন্তু এই দুই দেশের মধ্যে অনেক ইনফরমাল ট্রেডবা অবৈধ বাণিজ্য হয়, যা মূলত ভারতের অনুকুলে। এর পরিমাণ কমপক্ষে দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের সমান হবে বলে মনে করা হয়।অবৈধ বাণিজ্য ছাড়াও সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশীদের অবৈধভাবে খুন করার ঘটনা, পানি চুক্তি লঙ্ঘন সহ ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাব বাংলাদেশ এতদিন মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে কারণ ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলো। এখন শুধুমাত্র কেরালা বা এই জাতীয় কিছু ক্ষুদ্র রাজ্য ছাড়া করোনা ভাইরাস প্যানডেমিকের কারণে সামগ্রিকভাবে পুরা ভারত যখন অর্থনৈতিকভাবে ধ্যাদ্দারা দূর্বল, তখন চীন খুব স্বাভাবিক মুভ হিসাবেই বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়ে, বিনিয়োগ করে এবং খুব সম্ভবতঃ বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের জন্য নিজের বাজার খুলে দিয়ে বাংলাদেশকে নিজের ব্লকে নিয়ে যাবে। শেখ হাসিনা ভারতের রাজনৈতিক সমর্থন আর চিনা বিনিয়োগের এই দুই বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলছিলেন এতদিন। কিন্তু সেই ভারসাম্যের কৌশল দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারেনা।

 

ভারত থেকে চীনের প্রভাব বলয়ে থাকলে বাংলাদেশের কয়েক ফোল্ডে লাভ হতে পারে। সেমি-প্রেসিডেনশিয়াল একদলীয় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও চীনের উগ্র জাতীয়তাবাদী টেকনোক্রাটিক সরকার তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সরকারী মিডিয়া, বাণিজ্যিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সহ আইন ও বিচার বিভাগ এবং এমনকি ইন্টারনেট ব্যবহারকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে বঙ্গপসাগরে প্রভাব রাখতে হলে চীনকে খুব সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উৎসাহিত করতে হবে। সারা পৃথিবীতে বিটকয়েনের মত ক্রিপটোকারেন্সির উত্থানের কারণে খুব স্বাভাবিকভাবে গত কয়েক বছরে খুব ধীরগতিতে হলেও অর্থনৈতিক ডিসেন্ট্রালাইজেশান শুরু হয়েছে। একইসাথে করোনা ভাইরাসের ফলে মানুষের জীবন যখন টেকনোলজি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং পাবলিক অপিনিয়ন পাবলিকের মাধ্যমেই তৈরি হচ্ছে, তখন রাজনীতিতেও আর সেন্ট্রালাইজড পাওয়ার থাকার কথা না। এই পাওয়ার শিফট হচ্ছে করপোরেট হাউজগুলির হাতে। সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্ত হয়ে চীনা ব্লকে প্রবেশ করে, তাহলে প্রথমতঃ বাংলাদেশের উগ্র জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টে মিশ্র সমাজতান্ত্রিক-পুঁজিবাদী ওয়েলফেয়ার স্টেট তৈরির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি হতে বাধ্য এবং দ্বিতীয়ত, নিও-কলোনিয়ালিজম  মুক্ত ইন্টারনেট নির্ভর লোকাল ক্রাফট এবং লোকাল এগ্রিকালচারাল প্রডাক্ট কেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি করপোরেট হাউজের হাতে ডিসেন্ট্রালাইজড ক্ষমতা ডিসট্রিবিউশানের মাধ্যমে তুলনামূলক সাম্যবাদী অর্থনৈতিক অবস্থা তৈরি হবে। যার দুইটাই বাংলাদেশের জন্য সুখবর।

 

চীনা সাহায্য আসার সাথে সাথেই সুবির ভৌমিকের মতো ভারতীয় মাউথপিসগুলো যেই সামরিক অভ্যুত্থানের আভাস দিয়েছেন, বাংলাদেশের সেনা প্রধান প্রকাশ্য বিবৃতি ও বক্তব্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে সুবির ভৌমিকের কথাগুলো নিছক গুজবও নয়।

 

এইক্ষেত্রে উল্লেখ্য, চীন সরকার যেহেতু খুব কৌশলের সাথেই আওয়ামী লীগ এবং বি-এন-পি এই দুই দলের সাথেই সমান প্রেম বজায় রেখেছে, সেইক্ষেত্রে বি-এন-পি যদি আগের মত ধ্বজভঙ্গদের দল হিসাবে এখনো কোনো রাজনৈতিক মুভ না নেয় এবং শেখ হাসিনা যদি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে তাদের দলের তুলনামূলক নবীন কর্মীদের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেন, সেইক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগই হয়তো আবার ক্ষমতায় আসবে

 

বাংলাদেশে এই মূহুর্তে সরকারী হিসাব অনুযায়ী ১ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত। আজকের দিন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে সরাসরি মারা গেছেন ১৬৬০ জন বাংলাদেশী। যদিও আমি বিশ্বাস করি, এই সংখ্যা আরও বেশি। তবে যদি তর্কের খাতিরে এই সংখ্যা সত্য বলেও ধরে নেই, তারপরেও জানি, বাংলাদেশের মানুষ যদি কার্বাইড দেয়া আম আর ফর্মালিন দেয়া মাছ আর প্রতিদিন বিষাক্ত বাতাস খেয়ে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে বা আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে করোনা থেকে মুক্তিও পান, তাহলেও করোনা পরবর্তী দূর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশকে বিশাল পরিশ্রম করতে হবে। আমরা জানি যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ না। বাংলাদেশকে তার আভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে খাদ্য আমদানী করতে হয়। এই মূহুর্তে সরকারের কাছে যা রিজার্ভ আছে তা আগামী ছয় মাসের আমদানী ব্যয় মেটানোর মতো। এই রিজার্ভ তৈরি হয়েছিলো রেমিটেন্স আর গার্মেটস খাত থেকে। আপাততঃ এই দুটোই বন্ধ। ভ্যক্সিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত গার্মেন্টস রপ্তানী বা অর্ডার কোনটাই শুরু হবে না। সুতরাং খুব মিরাকল কিছু না ঘটলে আমরা খুব সামনেই আরেকটা দূর্ভিক্ষ দেখতে যাচ্ছি।

 

হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ আর কয়েক মাসের মধ্যেই করোনার হট স্পট হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। সে যতই টেষ্ট কম করুক, আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখাক তাও সে করোনা আক্রান্ত শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে দ্রুতই ঢুকে যাবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়বে, কেউ তাকে পণ্য দিবেও না, কেউ তার পণ্য কিনবেও না। বাংলাদেশ থেকে কারুর অন্য দেশে যাওয়াও সমস্যার সামনে পড়বে

 

এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে বাংলাদেশকে পরিশ্রম করতে হবে বলাই বাহুল্য।

 

এবং সেই পরিশ্রম এনজিও বা মধ্যবিত্ত বাড়ি থেকে আহাউহু সেলফি তোলা খিচুড়ি আর ডিম ভুনা মার্কা ত্রাণ দিয়ে হবে না, এই পরিশ্রম করতে হবে সরকারী বা রাজনৈতিক লেভেলে। আওয়ামী লীগকে বুঝতে হবে, তাদের এতদিনের ভারত প্রেম এখন আর কোনো কাজই আসবে না, সুতরাং টিকে থাকতে চাইলে তাদের মানুষের কথা শোনার মত কান তৈরি করতে হবে। মানুষের কাছে স্বচ্ছ থাকার অভ্যাস শুরু করতে হবে। কারণ, চীনের কাছে তার মিত্র রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল পরিস্থিতি থুক্কু- টাকাই প্রধান, সুতরাং তাদের জন্য আওয়ামী লীগও যা, বি-এন-পিও তা

 

মুক্তিযুদ্ধর চেতনা ব্যবসা চীন বুঝবে না।

 

 

Nadia Islam was born in Libya in 1985. She studied fashion design, forensic science, and genetic engineering in London, UK. She is currently working and living between Bosnia and Russia. She is a vegan, agnostic, and feminist in personal-social life. Her passions include parallel world, Indian classical and heavy metal music, conspiracy theories, fictional novels, going green movement, scuba diving, painting, theology, writing, and cat-cafes.

Share.

1 Comment

  1. সমসাময়িক চিত্রের উপর ভর করে ভবিষ্যৎ দর্শন।লোকাল ক্রাফটিং বিজনেস অনলাইনে” বিষয়টা নিয়ে আরেকটু ডিটেলড দিক -নির্দেশনা মার্কা লেখা লিখলে ভাল হয়।

Leave A Reply

Translate »