নারীর লড়াই আত্মপোলব্ধি, অস্তিত্ব ও আত্ম-মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে | শামীম রুনা

0

Women’s Struggle for Self-fulfillment, Survival, and Confidence | Shamim Runa

English Summary:

Women need to achieve the freedom they deserve by themselves. For that they need to have self-awareness. A feminist or a feminist organization cannot just hand out a present named “freedom” to women. To create this self-awareness and self-respect among women, women need to develop their own individual motivation. It is very narrow-minded to assume that this power exists only within educated women, or that illiterate women are the only ones subordinated by patriarchy. Both of these assumptions are faulty. Established and educated women in society often do not notice the protest that come from self-respecting but less educated women. This piece is about these two types of women.

নারীকে তার অধিকার আদায়ের জন্য সেই আদিকাল থেকে এখন পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হচ্ছে। নারী সংগ্রামের এই ক্রান্তিকাল কোনো অবস্থাতেই শেষ হচ্ছে না। উন্নত বিশ্বের নারীরা যাও বা নিজেদের স্বাধীন করতে পেরেছে কিন্তু আমাদের মতো দেশের নারীরা ক্রমশই পাকে ডুবে যাচ্ছে। অথচ স্বাধীনতা আমাদেরও ন্যায্য অধিকার।
নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের প্রয়োজনমাত্র। নারীর অধিকারের দাবী তোলা কোনো বাড়তি চাহিদা বা সুযোগ চাওয়া নয়।নারীর অধিকার আদায়ের দাবী মানে সে পুরুষের সমান হতে চাওয়ার দাবী নয়, বরং; নারী একজন মানুষ হিসাবে মৌলিক দাবীগুলো যেমন, সামাজিক, রাজনৈতিক আর অর্থনৈকিত অধিকার আদায়ের দাবী’র কথা বলছে। সে অন্যের অধিনে যেমন নিষ্পেষিত জীবন চায়না তেমনি নারী হওয়ার কারণে তার ওপর অর্পিত ধর্মীয়,সামাজিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন স্তরের বৈষম্যগুলো ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে চায়, বলা চলে; এটাই নারীর আত্মপোলব্ধি। আর নারীর এই আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার দাবীই হলো নারীবাদ।

নারীর পুরুষের সমান হওয়ার প্রসঙ্গ তখনই আসে যখন সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নারীকে একজন মানুষ হিসাবে গণ্য না করে তার যাবতীয় মূল্যবোধকে অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে বলা চলে, নারীর পুরুষের সমান হতে চাওয়া নয়,বরং পুরুষ কর্তৃক অবরুদ্ধ সমাজ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সে। পুরুষের জন্য বরাদ্ধ সামাজিক, ধর্মীয় আর রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত অধিকারকে নারীরা উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরে। আর নারী-পুরুষ উভয়কে যদি সমাজ বা সমাজ-ব্যবস্থা নিজ নিজ স্বকীয় মূল্যবোধের অধিকার দিয়ে থাকে তবে সে সমাজ ব্যবস্থায় “সমঅধিকার” চেয়ে আদায়ের কোনো প্রয়োজন পড়ে না বরঞ্চ নারী-পুরুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে একটি সুষ্ঠ সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে।

আমাদের সমাজে অসংখ্য নারী সঙ্গী পুরুষের চেয়ে বেশি আয়-রোজগার করে। অনেক বেশি পারিবারিক দায়-দায়িত্ব পালন করে। তারপরও সে নারীকে থাকতে হয় পুরুষের নজরদারীতে। অনেক নারী ধর্ম-সমাজ-সংস্কারের দোহাই মেনে এই নজরদারী মেনে নেয়, অনেকে মেনে নেয় না, প্রতিবাদ করে আবার অনেকে হয়ত মানে না কিন্তু এর থেকে বেরিয়ে আসার পথটা খুঁজে পায় না।

আজকাল সমাজের খুব সাধারণ নারীরা নিজেদের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হচ্ছে, যদিও নারীবাদ বা নারীর অধিকার সম্পর্কে ওদের অনেকেরই পষ্টত কোনো ধারণা নেই। ওরা সোচ্চার হচ্ছে মূলত শুধুমাত্র টিকে থাকার দাবীতে। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার দাবীতে। পরিচিত এক নারী গৃহকর্মীকে দেখেছিলাম, তিন চার বাসায় কাজ করেও রিক্সা চালক স্বামীকে সময় মতো গরম ভাত রান্না করে না দিতে পারা বা খুঁটি নাটি বিষয়ে সকাল দুপুর স্বামীর কাছে বেদম প্রহৃত হতো,শুধুমাত্র স্বামী’র স্ত্রী হওয়ার দাবীতে। সংসারের খরচ যোগাত নারীটির নাজেহাল অবস্থা হতো আর স্বামী তার টাকা মূলত গাঁজার পেছনে খরচ করতো। স্ত্রী টাকা চাইলে অকথ্য গালিগালাজ আর মার-ধোর জুটত তার। তারপরও সে নারী সংসার টিকিয়ে রেখেছিলো, স্বামী ছেড়ে দিলে বা সে ছেড়ে গেলে ভবিষ্যতে মেয়ের ভালো বিয়ে হবে না-মা তালাক প্রাপ্তা বলে। লোকে ওকে মন্দ বলবে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারিনি বলে। কিন্তু সহ্যের সীমা বলে একটি কথা আছে, শেষ পর্যন্ত সে নারী বাধ্য হয়ে একটি নারীর অধিকার আদয়ের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের উদ্যোগে স্বামী নিজেকে সভ্য করে তুলতে বাধ্য হয়। এই নারীর এই ঘুরে দাঁড়ানো কোনো নারী অধিকার আদায়ের জন্য করেনি, করেছে নিজের টিকে থাকার স্বার্থে, নিজের অস্তিত্বের স্বার্থে। আর সে নারী অধিকার সংগঠন থেকে যে সুবিধাটুকু পেয়েছে সেটুকুও তার এগিয়ে চলার পথকে প্রসস্ত করেছে। তাই বলা যায়, নারী মুক্তি যেমন একক প্রচেষ্টায় আসে না তেমনি, ব্যক্তি উদ্যোগ না নিলেও কেউ তার হাতে মুক্তি নামক সোনার মোয়া ধরিয়ে দিয়ে আসবে না।

এমন নারীকে দেখেও অনুপ্রেরণা পেয়েছি,যিনি পড়াশোনায় ব’কলম কিন্তু বোধের বিষয়ে বড়ো সজাগ। গ্রামে রাস্তা-বাঁধ নির্মাণের নির্মাণ শ্রমিক, স্বামীর বরংবার বিয়ের প্রতিবাদে স্বামীকে ছেড়ে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে একলা ঢাকা চলে এসেছিলেন, নিজেকে আয় করে সংসার চালাতে হয়,স্বামীকে পালতে হয় আর স্বামী হওয়ার সুবিধা ভোগের জন্য সে লোক তার আয়ে ভাগ বসায়, গায়ে হাত তোলে আর বছর বছর বিয়ে করে-এমন স্বামীর কী প্রয়োজন জীবনে? তা সে নারীর বোধে আসে না। তাই তো স্বামীকে ছেড়ে আসার পক্ষে ওর অনুভূতি ছিলো, “অমন খসমের মুখে মুতি। আয় রোজগারের বেলায় ঠনঠনা আর হাঙ্গা করার বেলায় ষোল আনা।” এই নারী ধর্ম,সামাজিকতা আর লৌকিকতাকে পাত্তা না দিয়ে বরং নিজের উপর আস্থা রেখেছেন-নারীর সিদ্ধান্ত নেয়ার এর চেয়ে বড়ো উদাহরণ আর কী হতে পারে। এতোটা আত্ম বিশ্বাস খুব কমই আছে আমাদের সমাজের চেনা অনেক তুখোড় নারীদের মাঝেও।

মোদ্দা কথা, নারীর নিজের মুক্তির জন্য, নিজের স্বাধীনতার জন্য নিজের উপর নিজেকে আস্থা রাখতে হবে, লড়াইটা নিজেকেই করতে হবে। নারীবাদ বলি কী নারী স্বাধীনতা বা নারী মুক্তি- অর্জন না করলে পাওয়া যাবে না। নরওয়ে নারী-পুরুষের সমতার জন্য একটি পারফেক্ট দেশ বলা চলে। তারপরও এই দেশেও তেমন নারীর সাক্ষাৎ মেলে যে নিজে ডাক্তার হয়েও ডাক্তার স্বামীর ভয়ে তটস্ত থাকে।স্বামী শুধু স্যান্ডউইচ দিয়ে লাঞ্চ করতে চায় না বলে স্ত্রীকে সাথে স্যুপও বানাতে হয়। আর এই স্যুপ বানানোটা ভালোবেসে বানানো না রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে বানানো। এর জন্য নিজের অফিসিয়াল কাজ শেষ কোথাও বসে দু’দণ্ড জিরায় না, পাছে বাসার কাজে দেরী হয়ে যায়। অথচ নরওয়ের সমাজে স্বামী-স্ত্রী সপ্তাহের দিনগুলো ভাগাভাগি করে রান্নাসহ ঘরের যাবতীয় কাজ করার নিয়ম। দেখা যাচ্ছে, আইন থাকলেও সব নারী তা যথাযথ নিতে পারছে না। এমন শিক্ষিত নারীকে কে নারী-স্বাধীনতা এনে দেবে বা তার কাছে নারী স্বাধীনতা বা নারীমুক্তির সংজ্ঞা কী কে জানে!

এক স্বনাম ধন্য প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী’র ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে আমরা জানতে পারি তার সু-রাঁধুনি হয়ে ওঠার আত্মকাহিনী।বিয়ের কিছু দিন পর, তখন তিনি কয়েক মাসেরঅন্ত:স্বত্ত্বা(জমজ বাচ্চা’র) টাকা সাশ্রয় করার জন্য রান্নার লোকটিকে বিদায় করে নিজেই রান্নারদায়িত্ব নেয়। যদিও তার পূর্বে রান্নার কোনো অভিজ্ঞতা ছিলো না, ভাবনা ছিলো, দু’জন মানুষেররান্না কী আর এমন ঝক্কির! প্রথম দিন তিনি স্বামীর জন্য রান্না করে মুরগীর তরকারী।স্বামী সে তরকারী মুখে দিয়ে জানতে চাইলো, এটা কী রান্না করেছো? তারপর উত্তর শোনার অপেক্ষা না করে অন্ত:স্বত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলো। ভদ্রমহিলার কথা হলো, সেদিনের সে লাথি তার জন্য মনোকষ্টের কারণ হয়নি কোনো দিন।আমরা বুঝে নেই, হয়ত(!)তার জন্য বর হয়েছিলো। তার কথা হলো, সেদিন রান্না না জানার জন্য তিনি লজ্জিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরে উপোলব্ধি কর, না জানার মধ্যে কোনো অপরাধ নেই বরং জানতে না চাওয়াটাই অপরাধ। তার উপোলব্ধি ভালো, সমর্থন যোগ্য।

কিন্তু এতো বছর পার হয়ে তিনি হয়ত আজও এইটি উপোলব্ধি করতে পারেন নাই, একজন মানুষ কোনো কিছু না জানা বা না পারার জন্য তার গায়ে অন্য কারো হাত তোলা কতটা অপরাধ? এবং এই অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়। একজন অন্ত:স্বত্ত্বানারীর গায়ে হাত তোলা কতটা অমানবিক এবং নির্মম নিষ্ঠুরতা তা বোঝার মতো বোধবুদ্ধি এই নারীর যেমন সেকালেও ছিলো না তেমনি একালেও নেই-থাকলে এমন আবেগে গদগদ স্বীকারোক্তি কেউ দিতে পারে না। মৃত ব্যক্তির অন্যায়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করা যায়। নারী বা স্ত্রী হলেই পুরুষ বা স্বামীর লাথি উষ্টা খেয়ে শিখতে হবে এমন বোধওয়ালা নারীর কাছে স্বীয় আত্মমর্যাদা বোধ আশা করা দুষ্কর। নারী মুক্তি বা নারী স্বাধীনতা এসব নারীদের কাছে বাতুলতা ব্যতীত আর কিছু নয়।

নারীস্বাধীনতা বা নারীমুক্তির জন্য কাজ মূলত প্রত্যেক নারীদের নিজ নিজ জায়গা থেকে করতে হবে। নারীবাদীরা কিছু রুলস্-রেগুলেসন-ফর্মূলা বা দাবী-দাওয়া নিয়ে কাজ করতে পারে, নারীদের কাছে হয়ত স্বাধীন ভাবে বাঁচার উপায়ের পথ বাতলে দিতে পারে, নারীদের নিজেদের সচেতন করে তুলতে সহায়তা করতে পারে, আত্মসম্মান-ক্ষমতায়নের স্বপ্ন দেখাতে পারে,তবে সাধারণ নারীরা সেটা কতটা গ্রহন করবে, আদৌ গ্রহন করবে কী করবে না তা পুরোপুরিই প্রত্যেক নারীর উপর আলাদা আলাদা করে নির্ভর করে।চাইলেই কেউ তা হাতে ধরিয়ে দিতে পারবে না, এই নাও তোমার স্বাধীনতা,মুক্তি।

এই মাসেই দেশে এক পরিচিত জনের কন্যার আকত্ বা কাবিন সম্পন্ন হলো। ছেলে মেয়ে দু’জনেই একই বিষয়ে ভিন্ন দুই প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষ করেছে, মেয়ে পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে আর ছেলে না পড়লেই নয় এমন এক প্রাইভট ইউনিভার্সিটি থেকে। আমাদের দেশের মাপকাঠিতে বলা চলে, মেয়ের ছেলের চেয়ে পড়াশোনার রেজাল্ট ভালো ভবিষ্যতে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার সম্ভাবনা জ্বলজ্বলে। প্রথমে কথা ছিলো, এই নতুন জুটির আপাতত এনগেইজমেন্ট করা হবে পরে ছেলেমেয়ের চাকুরীর পাওয়ার পর বিয়ের আয়োজন করা হবে। কিন্তু মেয়ের বাবা এনগেইজমেন্টে রাজী না, এনগেইজমেন্টের পর ছেলেমেয়ের মেলামেশা মূলত বাড়বে, তাদের মধ্যে শারিরীক সম্পর্কও হতে পারে, এরপর যদি এই ছেলে তার মেয়েকে বিয়ে না করে তবে মেয়েটির ভবিষ্যৎ কী হবে? আমাদের সমাজের মানসিক গঠনে যদি এখনও একটি শিক্ষিত মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে এতো অনিশ্চয়তা থাকে, এখনও যদি একটি মেয়ের ভার্জিনিটি নিয়ে সবাই এতো উদ্বিগ্ন থাকে, এখনও যদি পুরুষের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে নারীর ভবিষ্যত অন্ধকারের অনিশ্চয়তায় ঢেকে থাকে তবে সে সমাজে নারীর একলা চলা বা নারী স্বাধীনতা নামটি একটি অলিক বস্তু মাত্র।

নরওয়েতে আমার এক আফ্রিকান নারী বন্ধুর কথা বলি, দুই সন্তান নিয়ে সিঙ্গেল মাদার সে। হাসি-খুশী নারী, জীবনকে উপভোগ করতে চায়। তার একজন পুরুষ সঙ্গীর প্রয়োজন এখন, সে উদ্দেশ্যে দু এক জনের সঙ্গে তার কথা বার্তাও হয়েছে। আমাদের আরেক বন্ধু জানতে চাইছিলো, ভালো লাগলে বিয়ে করবে? সে নারী চমকে বলেছে, না না! আমি আর বিয়েতে নাই। এখন যদি একজন প্রেমিক পাই যত দিন ভালো লাগবে তত দিন সম্পর্কে থাকবো কারো একজনের যদি এক সাথে থাকতে আর ভালো না লাগে যে যার পথে হাঁটা দিবো। এমনটাই তো হওয়ার কথা নারীর যৌন স্বাধীনতা বা সঙ্গী নির্ধারণের ক্ষমতা। নারীর এই সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতার জন্য অবশ্য নারীর আর্থিক স্বাধীনতাও একটি বিশাল ব্যাপার। আর্থিক ভাবে স্বচ্চল না হলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহন সম্ভব নয়। তাই নারী স্বাধীনতার জন্য মুখ্য ভূমিকা রাখে নারীর আর্থিক স্বাধীনতাও বটে।

একজন নারী জানে কোন পোশাকে সে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে তারপরও যখন তাকে কোন ব্যক্তিকে বা গোষ্ঠিকে খুশী রাখার জন্য নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক না পরে অন্য কোনো পোশাকে নিজেকে আবৃত করতে হয় তখন নারীর নিজের শরীরে উপর নিজের অধিকারও থাকে না, যা আমরা আমাদের চারপাশে হরহামেশা দেখে থাকি। বিয়ের আগে জিন্স ফতুয়া পরা মেয়েটিকে বিয়ের পর দেখি পুরোপুরি নেকাবধারী বা বাপ-ভাইয়ের ভয়ে বোরখা পরে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। যেখানে নারীর পোশাক পছন্দ করার অধিকার নাই সেখানে নিজ সঙ্গী পছন্দ করা বা যৌন স্বাধীনতা ভোগ করার দাবী তা বহুত দূর কী বাত-বলে বোধ করি।
আমাদের চারপাশের যে সব সাধারণ নারীদের আমরা দেখি ঘুরে দাঁড়াতে বা প্রতিবাদ করতে বা নিজেদের একলার পথ নিজেদের নির্মান করে এগিয়ে যেতে-তা কিন্তু কোনো বই’য়ে পড়া নারীবাদ বা কারো শিখিয়ে দেয়া নারীবাদকে মুখস্ত করে নয়। বরং নিজেদের প্রয়োজনে,নিজেদের তাগিদে,আত্মপোলব্ধি থেকে,নিজেদের আত্ম-মর্যাদার দায় থেকে নিজেরা নিজেদের পথ ঠিক করেছেন তারা। কারো প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নয়, একজন মানুষের সম্মান নিয়ে নিজেদের লড়াই করতে চেয়েছেন, বাঁচতে চেয়েছেন।

Shamim Runa, novelist, playwright, film critic, and women’s rights activist.

Share.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate »