নিতান্তই বালিকার মত মেঘের নেকাব

Share this:

 

ক্রন্দনঘর

মেঘের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলাম মনে আছে তোমরা ছিলে হয়তো ছিলে কেউ জানো না পায়ের পাতায় তীব্র নেশা বাইরে যাবার অন্ধকারে উঠতো যে চাঁদ নীরব ঘরে তৃপ্ত মায়ায় কেউ কি মানো কেউ মানো না কেমন ক’রে অষ্টপ্রহর আসতো খাবার মদের মত এমনি ক’রে ঘুমিয়ে ছিলাম সুস্থ জ্বরে মেঘের ভেতর তুলতুলে এক মোমের দেয়াল বন্ধু ছিলো পরম সুখে আমার খবর বলতো জানি তাহার কাছে রমণ-রোগে আটখানা সে পৌঁছে দিতো আলোর ঝিলিক সূর্যটাকে রাখতো ঢেকে মোহন মায়ায় বেলুন যেমন অনায়াসে রুদ্ধ করে মুগ্ধ বাতাস ক্রমে ক্রমে হাড়ের প্রেমে বন্দী হলাম রক্ত জলে বিদ্ধ মগজ অলীক শরীর পায়ের পাতায় তীব্র নেশা বাইরে যাবার ডুবসাঁতারে বাইরে এলাম নষ্ট গ্রহে দু’হাত ভরা বিশাল স্মৃতির বৃক্ষ এখন মেঘের মায়ায় কাঁদতে থাকে কাঁদতে থাকে…

 

শিরোনাম নেই

একা যাবো।
আয়োজনে আছি।
চোখের দরোজা খুলে
হুটহাট ঢুকে পড়ে স্মৃতির ছুরিকা।

প্রজাপতি এসোঃ শুরু হবে মোমের ক্ষরণ
অস্থির বসতে আছে জল,রক্ত,নীলাভ মাছির মথ,
স্নেহজ কণিকা,বরফের শাদা সুখ,
বোধের বেলুন …

যেতে হবে।
আয়োজনে আছি।
যাই।

সূর্য,সখা ওগো তুমি —
প্রচ্ছন্ন প্রদোষে কেন বেহায়া ব্যাকুল?

নিকষ ওড়না ঢাকে চোখের পাথর।

 

চাঁদ-সূর্যের উপাখ্যান

নিতান্তই বালিকার মত মেঘের নেকাব
পরে অন্ধকারে ডুবে গেল চাঁদ।এই
দৃশ্যে পাহাড়ের পাদদেশে কতিপয়
চন্দ্রপ্রেমিক দু’চোখে পূর্ণ করে
নীল ঘন হিম।

তবু আকাঙ্ক্ষার আলোকেরা
অনায়াসে বল্লমের মত ফুটো করে
রাতের শরীর…

গড়িয়ে গড়িয়ে নামে তরল বিষাদ—

অতঃপর সূর্যোদয় ঘটে।

 

কমলা,এই উদরে

বুঝিনি,রূপকথা রূপ—
ডাকিনী,রাজকুমারী
পমেটম— কী অপরূপ
সবই যে ইচ্ছে তাঁরই

কমলা,এই উদরে…
শিশুদের ঘুম ভেঙে যায়
ডাকিনী— হলুদ ঘোরে
জনপদ,বিবেক কাঁপায়

সময়ের উৎসমুখে
কাঁদে কে আত্মরতি?
মেঘ-মেঘ ঋদ্ধ বুকে
প্রণীত অসঙ্গতি…

বোধিমূল খাই চিবিয়ে
আমি কি পাথর নাকি?
বেদনা বিকিয়ে দিয়ে
তুলেনি’ পেটখোরাকি!

কবি তুই,তোকেই বলিঃ
আমি নই অন্ধকারের…
কবি হে,কুসুমকলি
যেতেছি— মৃত্যু দ্বারে

প্রতিভাষ চংক্রমণে
নিশিদিন মুগ্ধ আছি
লৌকিক পর্যটনে—
আমি নই,দুধের মাছি

এসেছি,ডুব-সাঁতারে
সম্মুখে প্রখর দুপুর
র্সূয, অন্ধকারে…
শোনে কি কালের নূপুর?

আচানক,রক্তক্ষরণ…
জাগরণ ভোর-সকালে
কী ভীষণ কনক বরণ
রোদ্দুর, অন্তরালে

নক্ষত্র, কীর্তিনাশা—
ধাবমান আর কত দূর?
বোঝ নাই পক্ষী-ভাষা
পাঁজরের বিমূর্ত সুর!

তথাপি,দারুণ প্রলয়
ভয়ানক হলুদ ঘোরে—
প্রতিদিন জয়-পরাজয়
কমলা, এই উদরে…

 

গরীবশাহর উপাখ্যান ও মাছরাঙা

ও বাবা গরীবশাহ নীরবে ঘুমিয়ে আছো ভৈরবের স্রোতহীন কূলে।সালুর অতলে বাবা এ পাপীর আবেদন শোনঃ অতীতের বিপরীতে আমি এক অনুজ্জ্বল মাছরাঙা পাখি।মনে নেই ভুলে গেছি মাছ-ঘ্রাণ স্বাদ— কচুরিপনার তলে অগণিত ঢোঁড়াসাপ ভাসে।আমন্ত্রিত এরীতিতে বারবার কেঁপে উঠি আমি— অবশেষে ডানাকে দু’হাত করে মাজারে তোমার করজোড়ে মিনতি জানাই— বলিঃ ক্ষুধিত আমাকে তুমি ফিরায়ো না দূরে— আমি তো অচেনা নই মাছরাঙা পাখি;দাও বাবা আমার আহার।

জলের জরায়ু ছিঁড়ে ঠোঁটে চাই ক্ষুদে কিছু মাছ।দাও;তবে প্রকাশ্য দুপুরে বাবা ভৈরবও একদিন খরস্রোতা হবে— যেভাবে একদা হায় থেমেছিলো নদীটির স্রোত।করজোড়ে আজ মিনতি জানাই— বিষণ্ণ আমাকে তুমি ফিরায়ো না আর— একদিন পদতলে ঠিক,তোমার ওই পবিত্র খড়ম ফিরবেই ঋতুমতী ভৈরবের ঘাটে

  • More From This Author:

      None Found
  • Support Shuddhashar

    Support our independent work, help us to stay pay-wall free by becoming a patron today.

    Join Patreon

Subscribe to Shuddhashar FreeVoice to receive updates

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুদ্ধস্বর
error: Content is protected !!