প্রসঙ্গ ভাষা : সাহিত্যে, দর্শনে

Share this:

এক.

ভাষা নিয়ে আমাদের অধিকাংশের ধারণাই বেশ ভাসা ভাসা। আমরা যতটা সরল মনে করি ভাষা ততটা সরল নয়। সাধারণভাবে মনে করা হয় ভাষার নিজেস্ব কোনো অর্থ নেই, সে সংগঠিত ঘটনা বা বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করে। কিন্তু যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদী দার্শনিকরা বলতে চান,ভাষার বহুল ব্যবহারে যে সব বিশেষণ বা অব্যয়ের জন্ম তারাই অধিবিদ্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। অধিবিদ্যায় যে সকল বিষয় চর্চিত হয়—সৃষ্টিকর্তা, আত্মা, আদি উপাদান, আদি কারণ ইত্যাদি—এসবের আদৌ বাস্তব অস্তিত্ব নেই। ভাষায় উপস্থিতির জন্য আমাদের অসতর্ক মন তাদের অস্তিত্ব মেনে নেয়। এই মতের যথার্থতা যাই হোক না কেন এখান থেকে এটা অন্তত বোঝা যায়—মানুষের প্রয়োজন থেকে ভাষার সৃষ্টি ওবিকাশ।

কিন্তু দর্শনের এমন স্কুলও বিরল নয়, যাদের মতে মানব-সৃষ্টির পূর্বেই ভাষা বিদ্যমান ছিল। মানুষ ভাষা তৈরি করেনি বরং ভাষাই মানুষকে সভ্য করেছে। এ মতের অনুসারীরা বলতে চান, শব্দই ব্রহ্ম। সৃষ্টিকর্তা বলেছেন হও আর সব হয়ে গেছে। অর্থাৎ শুধু মানুষ নয় যে কোনো সৃষ্টির চেয়ে শব্দ অধিক বয়সি।

কথিত আছে, সাধারণীকরণ ব্যতীত জ্ঞান অসম্ভব। অনেকগুলো চলককে(Variable) অন্তত বেশ কয়েকবার প্রত্যক্ষণের পর সাধারণীকরণ করা হয়। যেমন : ‘মানুষ’ একটি সাধারণীকৃত শব্দ। এখন এই সাধারণীকৃত শব্দ দ্বারা আমরা ঠিক কোন মানুষকে বুঝব?—নারী, পুরুষ,শিশু। নাকি সাদা, কালো, বাদামি অথবা লম্বা, খাটো, মাঝারি উচ্চতার মানুষ। অতএব দেখা যাচ্ছে মানুষকে লিঙ্গ, বর্ণ, উচ্চতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জাতীয়তা ইত্যাদি মানদণ্ডে শ্রেণীকরণ করা সম্ভব। তাই, যদি কেউ  কোনো সরল বাক্য বলতে চান তাহলে তাকে অনুপুঙ্খ ভাবে বলতে হবে। মানব চিন্তার ইতিহাসে সাধারণীকরণের ধারণা উদ্ভাবন করেছিলেন প্লেটো, আর ‘বিশেষ’ ধারণার জনক বার্কলে।

 

দুই.

কে অধিক বয়সী, দর্শন না শিল্প?—এই প্রশ্ন আমাদের পথ পথিক তৈরি করে না পথিকই পথ তৈরি করে এরকম হেঁয়ালির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে সক্ষম। ইলিয়াটিক দার্শনিকগণ ও বেদ-উপনিষদের চিন্তকরা তাদের পূর্ববর্তী শিল্প দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। আরো স্পষ্ট করে বললে শিল্পভাষা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তাদের সমকালীন সাহিত্যিকদের সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্য,  চিত্রকর্ম দ্বারাও কম-বেশি প্রভাবিত হয়েছেন। কিন্তু যখন দর্শন ‘দর্শন’ হিসেবে দাঁড়িয়ে গেল তখন তার প্রয়োজন হয়ে পড়ে নিজেস্ব ভাষা ও প্রয়োগ পদ্ধতির।

কথিত আছে, প্লেটো যৌবনে কবি ছিলেন কিন্তু সক্রেটিসের সঙ্গ লাভের পর নিজের কবিতাগুলো পুড়িয়ে ফেলেন। তিনি তার কল্পিত আদর্শরাজ্যে কবিদের স্থান দিতে অপারগ হয়ে তাদের নির্বাসন দেন। তাঁর মতে, কবিদের অবস্থান সত্য থেকে তিন প্রস্থ দূরে। কিন্তু নিয়তির পরিহাস, তিনি কাব্যাক্রান্ত ভাষায় সিদ্ধান্তগুলো দিয়েছেন। তার রচনায় প্রচুর নাটকীয়তা ও চিত্র-অঙ্কন প্রবণতা দৃশ্যমান। অবাক করার মতো বিষয় হলো তার শিষ্য অ্যারিস্টটলের লেখায় উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো একেবারে দেখতে পাওয়া যায় না। এরিস্টটল নিজে ‘কাব্যতত্ত্ব’ শিরোনামে গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন কিন্তু তার ভাষা কাব্যাক্রান্ত নয়। নাটকীয়তা তার রচনায় দৃষ্টিগোচর হয় না। তিনি যুক্তিভিত্তিক ভাষাবিন্যাসে অভ্যস্ত ছিলেন। তার বক্তব্য উপস্থাপনে চিত্রময়তা কোনো ভাবেই যুক্তি বিন্যাসের ওপরে প্রাধান্য বিস্তার করেনি। এরিস্টটল কর্তৃক ভাষার এই বিশেষ ধরনের ব্যবহার ও বিন্যাসের প্রতি পরবর্তী পর্যায়ের দার্শনিকগণ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। মানব-চিন্তার ইতিহাসে যারা প্রকৃত দার্শনিক হিসেবে পরিচিত তাদের রচনায় এর সফল প্রয়োগ দৃশ্যমান। কিন্তু প্রশ্ন হলো প্লেটোর এমন কী অনুধাবণ করেছিলেন যার প্রেক্ষিতে অ্যারিস্টটলের ভাষাভঙ্গি বদলে গেল?

প্লেটো বেশ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছিলেন : অর্জিত মানব জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। একদিকে ব্যক্তিনিরপেক্ষ জ্ঞান। অপর দিকে ব্যক্তিসাপেক্ষ জ্ঞান—আমরা কেতাবি ভাষায় এখন যাকে Subjective Human Knowledge বলি। অ্যারিস্টটলের মতো গ্রেট মাইন্ড সহজেই অনুধাবন করেছিলেন, ব্যক্তিক মানবিক জ্ঞান আর নৈর্ব্যক্তিক মানবিক জ্ঞানের উপস্থাপন এবং উপস্থাপন-কৌশল এক হতে পারে না। তিনি নিজে ছিলেন পদার্থবিদ্যাসহ একাধিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের জনক। তাছাড়া, আমরা এখন যাকে Philosophy বলে জানি তখন তা ছিল Natural Philosophy-র অংশ। জীবন ও জগতের সকল বিষয় ছিল Natural Philosophy-র অন্তর্ভুক্ত। তিনি সম্ভবত এ কারণে বক্তব্যকে যথাসম্ভব নৈর্ব্যাক্তিকভাবে উপস্থাপনার প্রয়াস নিয়েছিলেন। বিস্তারে না গিয়েও এ কথা জোরের সঙ্গে বলা যায়, আমাদের উপমহাদেশে যখন অভিজ্ঞতাভিত্তিক জীবনদর্শনের চর্চা হচ্ছিল তার প্রকাশভঙ্গির সঙ্গে পরবর্তীকালের বুদ্ধিবাদী জীবনদর্শনের প্রকাশভঙ্গির সুস্পষ্ট পার্থক্য দৃশ্যমান।

 

তিন.

বর্তমান বাস্তবতায় আমরা বেশ স্পষ্টভাবে জানি অর্জিত মানবজ্ঞান দুই ধরনের—ব্যক্তিক ও নৈর্ব্যক্তিক। উভয় প্রকার জ্ঞানের উপস্থাপন-কৌশল ও কার্যকারিতা ভিন্ন। এক ফোঁটা চোখের পানিকে কেউ বলবেন  গ্রন্থিরস আবার কারও দৃষ্টিতে তা বেদনার্ত হৃদয়ের আর্তি।গ্রন্থিরস হিসেবে যিনি দেখবেন তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন কৌশলের সঙ্গে বেদনার্ত হৃদয়ের আর্তিরূপে অবলোকনের পার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এ কারণে প্রথমজন বিজ্ঞানী আর দ্বিতীয়  জন কবি। তাই উভয়ের যুক্তিবিন্যাস ও লাভক্ষতির হিসেবে না মেলাটা বাস্তব।

বিষয় হিসেবে দর্শনের যেমন ‘দর্শন’ রয়েছে ঠিক তেমনি বিজ্ঞানেরও দর্শন বিদ্যমান। সুনির্দিষ্ট জ্ঞানতত্ত্বের আলোকে বিজ্ঞান ‘বিজ্ঞান’ হয়ে ওঠে।এই জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে দার্শনিক বিতর্ক থাকলেও একটি কর্মক্ষম সংজ্ঞার(Operational Definition) অধীনে বিষয়টি ঘটে। মোটা দাগে আমরা জানি দুভাবে জ্ঞান অর্জন সম্ভব : বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার সহায়তায়। অবশ্য কেউ কেউ শ্রুতি বলে আরেকটি পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।নির্মোহ বিচারে দেখলে এটি বুদ্ধিবাদের অংশ। এখন—চিন্তার জগতে বুদ্ধিবাদী দার্শনিকদের বক্তব্য উপস্থাপন-কৌশল একরকম, অভিজ্ঞতাবাদীদের অন্যরকম। এ কারণেই প্লেটো (৪২৭-৩৪৭ খ্রিপূ), দেকর্ত(১৫৯৬-১৬৫০ খ্রি), লাইবনিজ(১৬৪৬-১৭১৬ খ্রি), স্পিনোজা(১৬৩২-১৬৭৭খ্রি), হেগেল(১৭৭০-১৮৩১ খি), মার্ক্স(১৮১৮-১৮৮৩ খ্রি), ফুকো(১৯২৬-১৯৪৮ খ্রি), চমস্কি(১৯২৮- ), দেরিদা(১৯৩০-২০০৪ খ্রি) প্রমুখের সঙ্গে বার্কলে(১৬৮৫-১৭৫৩ খ্রি), লক(১৬৩২-১৭০৪ খ্রি), হিউম(১৭১১-১৭৭৬ খ্রি), কান্ট(১৭২৪-১৮০৪খ্রি) , লুডভিগ ভিটগেনস্টাইন(১৮৮৯-১৯৫১)-দের বক্তব্য উপস্থাপন-কৌশলের এই ভিন্নতা।

জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থানের নিরিখে যেহেতু বক্তব্যের ভাষাভঙ্গি নির্ধারিত হয় তাই বুদ্ধিবাদী দার্শনিকরা চান তাদের বক্তব্য সুরেলা ভঙ্গিতে ছন্দবদ্ধভাবে উপস্থাপিত হোক। উপরন্তু তাদের যুক্তি উপস্থাপনে চিত্রাঅঙ্কন প্রবণতা দৃশ্যমান। সঙ্গে তারা নাটকীয়তাকে যুক্ত করতে সচেষ্ট। আর ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতি তো ঐতিহ্যগতভাবেই তাদের সঙ্গি। তবে এতকিছুর পরও অ্যারিস্টটল পূর্ববর্তী বুদ্ধিবাদী দার্শনিকদের সঙ্গে পরবর্তীদের ভাষাভঙ্গিতে কিন্তু বিস্তর ব্যবধান লক্ষণীয়।

আর যারা অভিজ্ঞতাবাদী তারা মোটেই চান না তাদের চিন্তার উপস্থাপনে উপর্যুক্ত কৌশলগুলো জারি থাকুক। এদের মধ্যে আবার অনেকেই শ্রুতিকে সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখার পক্ষপাতী। তারা পাঠ ব্যতি রেখে শুধু শুনে বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা অর্জনের বিপক্ষে। এতে কেউ পরবর্তীকালে সংশ্লেষণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। কারণ, তারা জানেন দুর্বল ভিত্তির উপর বড় সৌধ গড়তে সহযোগিতা করা অনুচিত।এজন্য মানব-চিন্তার ইতিহাসে অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিকগণ বুদ্ধিবাদীদের কাছে বার বার নাস্তানাবুদ হয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বুদ্ধিবাদীদের সবচেয়ে বড় সহযোগী ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতি প্রায় ভেঙে পড়েছে। উন্মেষ ঘটেছে নন-ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতির। এখন স্টিফেন হকিং-সহ অন্যরা বলতে চান স্থান-কাল বক্রতার কথা। কিন্তু এরপরও মানব-চিন্তার ইতিহাসে অভিজ্ঞতাবাদীদের অবস্থা কবির এই বাণীর সঙ্গেই অধিক সঙ্গতিপূর্ণ : ‘সত্য যে কঠিন/কঠিনের ভালোবাসিলাম’।

 

চার.

আমরা বর্তমানে তিন রকমের ভাষার সঙ্গে পরিচিত : উচ্চস্তর(মানুষের মুখের ভাষা), মধ্যস্তর ও নিম্নস্তরের (মেশিন ল্যাংগুয়েজ) ভাষা।একজন মানুষ সাধারণত উচ্চস্তরের ভাষা ব্যবহার করে অপর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আবার মধ্যস্তরের ভাষা ব্যবহার করে যন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। যন্ত্র যেভাবে যে ভাষায় নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে সে অনুযায়ী তারা যন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সচেষ্ট নয়। কারণ, তারা নিজ প্রয়োজনে যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। এতে নিজস্ব ভাষায় কমান্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দেশকে যন্ত্র তার ভাষায় (মেশিন ল্যাংগুয়েজ) কনভার্ট করে সে অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করে। এই ভাষা হচ্ছে মধ্যম স্তরের। আবার যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ নিম্নস্তরের ভাষায় পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে।

আমাদের আলোচ্য বিষয়টি উচ্চস্তরের ভাষা ব্যবহার সংক্রান্ত। নির্দিষ্ট করে বললে, ভাষার কথ্য কিংবা লিখিত-রূপ নিয়ে। আমরা যদি মেনে নেই মানুষ নিজের প্রয়োজনে ভাষা তৈরি করেছে তাহলে এটা ব্যাখ্যা করা সম্ভব, কেন যে ভাষায় প্রবন্ধটি লিখিত হচ্ছে সেখানে নারী যৌনকর্মী সনাক্তে উপযুক্ত শব্দ থাকলেও পুরুষ যৌনকর্মী চিহ্নিতে সক্ষম শব্দ অনুপস্থিত। এটা স্পষ্ট পুরুষ যৌনকর্মীর অনস্তিত্ব শব্দটি থাকা বা না থাকার কারণ নয়। কারণ অন্য কোথাও নিহিত! কারণ—ক্ষমতা, পুরুষতন্ত্র। এরকম উদাহরণ আরো দেওয়া সম্ভব।

বর্তমান বাস্তবতায় বাংলা ও ইংরেজিতে অভিন্ন ঘটনা উপস্থাপিত হলে ইংরেজির ক্ষেত্রে এক ধরনের আভিজাত্য, ক্ষমতার গন্ধ পাওয়া যায়।তাই এটা বলা যায়, ভাষিক ব্যবহারের ন্যূনতম দুটি বিষয়ের ওপর দৃষ্টি রাখা জরুরি—ভাষার কোন রূপ ব্যবহৃত হচ্ছে, কে ব্যবহার করছেন।কৃত্রিম বুদ্ধির অধিকারী মানুষ তার সফল ও গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণে প্রথা, প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্য ও ক্ষমতার প্রতি বিশেষ সজাগ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

একটি জনপ্রিয় সাহিত্য ঘেঁষা প্রবাদ, ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়। এখানে স্পষ্টত স্বাস্থ্যকে গুণের সঙ্গে ও ব্যাধিকে দোষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আবার আরেকটি বেশ প্রচলিত সাহিত্যিক প্রবাদ, গোলাপের ঘ্রাণে মাটি সুগন্ধযুক্ত হয়। এখানে দেখা যাচ্ছে গুণ সংক্রামক। এরকম স্ববিরোধিতা সাহিত্যে তেমন সমস্যা তৈরি না করলেও দর্শনে করে বৈকি। কেননা, সাহিত্য হচ্ছে জীবনের সমান্তরাল কিছু। যতদিন জীবন থাকবে ততদিন সাহিত্য থাকবে। সাহিত্যে জীবন স্ববিরোধসহ উপস্থাপিত হয়। কিন্তু দর্শন হচ্ছে জীবন ও জগতের নির্মোহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রচেষ্টা। এখানে জীবনের স্ববিরোধের স্বরূপ নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থাকতে পারে কিন্তু এর উপস্থাপন স্ববিরোধী হলে তা আর দর্শন থাকে না।হয়ে যায় অন্য কিছু। দর্শনের যৌক্তিক পরম্পরাকে অভিজ্ঞতার নিক্তিতে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা যেতে পারে, পরিমাপনান্তে স্ববিরোধ ফলাফল হিসেবে আসতে পারে। কিন্তু তাই বলে দর্শনের সাহিত্য মূলধারার সাহিত্য হয়ে যায় না। তাই আমাদের মন যতই সাহিত্য-ভাবাপন্ন হোক-না কেন আমাদের মেনে নিতে হয়, সাহিত্যের ভাষা আর দর্শনের ভাষা এক নয়। এক হওয়া সম্ভব নয়।

More Posts From this Author:

Share this:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুদ্ধস্বর
Translate »
error: Content is protected !!
Scroll to Top