ভালোবাসার জন্যে আমাদেরকে লড়ে যেতে হবে বিপ্লবী পন্থায় এবং জিতে নিতে হবে সঙ্গতভাবে: অরুন্ধতী রায়

অনুবাদকের ভূমিকা: ১৮১৮ সালের ১লা জানুয়ারিতে পুনের ভীম করেগাঁয় বৃটিশ সেনাবাহিনীর সাথে মারাঠা সাম্রাজ্যের পেশোয়া বাহিনীর একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে মহর দলিতদের নিয়ে গঠিত বৃটিশ সেনাদের একটি রেজিমেন্ট পেশোয়া বাহিনীকে পরাজিত করে। পেশোয়া ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে নির্যাতিত নিম্নবর্ণের মহর সেনাদের এই বিজয়কে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে দলিতদের বিজয় হিসেবে দেখা হয়। এই বিজয়ের দুইশত বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বরে পুনের শনিবর্বদা দূর্গে এক বিশাল গণজমায়েতের আয়োজন করে এলগার পরিষদ নামক একটি সংগঠন। ২৬০ টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটি জোট হিসেবে এই এলগার পরিষদ ভারতের নয়া-ব্রাহ্মণ্যবাদী, ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী সংগঠন আরএসএস ও তার রাজনৈতিক দল বিজেপি সরকারের সাম্প্রদায়িক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সে বছরে আয়োজিত প্রথম এলগার হিসেবে পরিচিত সেই গণজমায়েতে বহু সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে এবং তারা মহারাষ্ট্র পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। এলগার পরিষদের একটি মিছিলে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। ষোড়শ ভীম করেগাঁ হিসেবে পরিচিত ষোল জন অধিকারকর্মীকে পুলিশ বেনআইনি কার্যক্রম প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) আওতায় গ্রেফতার করে। চার বছর পর ২০২১ সালের ৩০শে জানুয়ারি দ্বিতীয় এলগারের আয়োজন করা হয়। এই দিনটি ছিল মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকী এবং বর্ণবাদের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করা হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলিত ছাত্র রোহিত বিমুলার জন্মবার্ষিকী। বহু রাজনৈতিক বাধাবিপত্তি ও করোনাভাইরাসের মধ্যে আয়োজিত দ্বিতীয় এলগার পরিষদের প্রধান বক্তা ছিলেন ভারতের বিখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক অধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়। সে সময়ে দিল্লির সীমান্তগুলোতে কৃষকেরা নতুন তিনটি খামার আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন তখনও আসন্ন। এমন একটি পরিস্থিতিতে অরুন্ধতী রায় তার বক্তৃতায় ভারতের নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামকে একটি নাম দিতে চেয়েছেন। ২০২১ সালের ৩০শে জানুয়ারি অনলাইন সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইনে প্রকাশিত হয় তার বক্তৃতার লিখিত রূপটি

অনুবাদক: জাকির হোসেন

 

 

আমি প্রথমে ধন্যবাদ জানাতে চাই ২০২১ সালের এলগার পরিষদের আয়োজকদের যারা আমাকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বক্তৃতা দানের জন্য। রোহিত বিমুলার ৩২তম জন্মজয়ন্তী এবং ১৮১৮ সালের ভীম করেগাঁয়ের যুদ্ধজয়ের বার্ষিকী উদযাপনে আপনাদের এই প্রয়াস। অদূরেই বৃটিশ সেনাবাহিনীতে যুদ্ধ করা মহর সৈন্যরা পেশোয়া রাজা দ্বিতীয় বাজিরাওকে হারিয়েছিল, যার শাসনামলে মহর ও অন্যান্য দলিত গোষ্ঠী নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতিত হয়েছিল এবং কাঠামোগতভাবে অবর্ণনীয় কায়দায় অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছিল।

এই মঞ্চ থেকে অন্যান্য বক্তাদের সাথে আমিও কৃষক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাই যারা তাদের ঘাড়ে জোয়ালের মতো চেপে বসা নতুন তিনটি কৃষি-খামার বিল অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। প্রতিবাদ চলাকালীন যারা নিহত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে শোক ও ক্রোধ প্রকাশ করি। গত দুমাস ধরে দিল্লির সীমান্তগুলোতে কৃষকেরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছেন, সেখানে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আন্দোলনকে বিভাজিত ও কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য সকল কৌশল ও উসকানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

আমরা এখানে কয়েক ডজন রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতেও একত্রিত হয়েছি যাদের মধ্যে ষোড়শ ভীম করেগাঁ হিসেবে পরিচিত রাজবন্দীরাও আছেন। তাদেরকে ভয়াবহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বেশ কিছু উদ্ভট অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে শুধু আমার সহযোদ্ধাই নন বরং ব্যক্তিগত বন্ধুরাও আছেন- যাদের সাথে আমি হেঁটেছি, হেসেছি এবং রুটি ভাগাভাগি করেছি। এমন কোনো ব্যক্তি এমনকি তাদের আটককারীরাও সম্ভবত তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রধানমন্ত্রীকে গুপ্তহত্যা বা কোনো হত্যা পরিকল্পনার সাথে যুক্ত থাকার বহুল ব্যবহৃত অভিযোগের সত্যতায় বিশ্বাস করেন না।

সবাই জানে যে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্পষ্টতা এবং নৈতিক সাহসের কারণে কারাবন্দি হয়েছেন, যে দুটি বৈশিষ্ট্যের উভয়কেই এই সরকার গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হিসেবে দেখে। যথাযথ প্রমাণের অভাবকে পুষিয়ে দিতে কয়েকজন অভিযুক্তের অভিযোগপত্রের কলেবর দশ হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। বিচার করে রায় দেওয়া তো দূরের কথা, সেগুলো শুধুমাত্র পড়ে শেষ করতে একজন বিচারকের কয়েক বছর লেগে যাবে।                                             

 

একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব      

সাজানো অভিযোগের বিপরীতে নিজেকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা আসলে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকা কোনো ব্যক্তিকে জাগানোর মতোই কঠিন কাজ। ভারতে আমরা জেনে গিয়েছি যে আইনি প্রতিকারের উপর নির্ভর করা আদতে একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব। এমন কোনো দৃষ্টান্ত কি দেখানো যাবে যেখানে এবং যখন আদালতগুলো ফ্যাসিবাদী ঢেউয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে? আমাদের দেশে আইনের প্রয়োগ হয় আপনার শ্রেণি, বর্ণ, জাত, ধর্ম, লিঙ্গ এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসকে বিবেচনায় নিয়ে। সুতরাং, কবি ও ধর্মাযাজক, ছাত্র, অধিকারকর্মী, শিক্ষক ও আইনজীবীরা যখন কারাগারে আটক, তখন গণহত্যাকারী, সিরিয়াল কিলার, প্রকাশ্য দিবালোকে নরহত্যাকারী দাঙ্গাবাজের দল, কুখ্যাত বিচারক এবং বিষাক্ত টিভি সঞ্চালকেরা ব্যাপকভাবে পুরস্কৃত হয় এবং পদোন্নতির প্রত্যাশা করতে পারে।

২০১৮ সালের ভীম করেগাওন শোভাযাত্রা, ২০২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিধানবিরোধী বিক্ষোভ এবং এখনকার কৃষক আন্দোলনের প্রত্যেকটিকে একদম একই কায়দায় যেভাবে কলঙ্কিত করতে চাওয়া হয়েছে এবং উসকানিদাতা দালালদের মাধ্যমে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তার নকশা যে-কোনো সাধারণ বোধ-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে না। এইসব দুষ্কৃতিকারীরা বর্তমান শাসকদলের কতটা সুনজরে রয়েছে সেটি তাদের সুরক্ষিত থাকা দেখেই বোঝা যায়। কিভাবে কয়েক দশক ধরে একই নকশার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এই লোকগুলোকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে সেটি আমি আপনাদের দেখাতে পারি। প্রাদেশিক নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে আমরা শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কপালে কি আছে সেটি দেখার জন্য।

গত দুই বছর ধরে একটি সংগঠন ও একটি ঘটনা হিসেবে এলগার পরিষদকে কর্পোরেট সংবাদমাধ্যম নিরলসভাবে কলঙ্কলেপন করেছে এবং দুশমন হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ‘এলগার পরিষদ’ শব্দ দুটি বহু মানুষের দৃশ্যপটে সন্ত্রাসী, জিহাদি, শহুরে নকশাল, দলিত চিতা এইসব ভারতবিধ্বংসী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কুচক্রী মৌলবাদীদের চেহারা হাজির করে। হুমকী-ধামকি, বিপদাশঙ্কা ও উদ্বিগ্নতা এবং নানা অপমানজনক ও ভয়ঙ্কর ট্যাগ লাগানোর এই আবহাওয়ায় শুধুমাত্র এমন একটি সম্মেলনের আয়োজন করাটাও একটি অভিবাদনযোগ্য সাহসী ও বিপদজ্জনক কাজ। আমরা যারা মঞ্চে আছি তাদের জন্য পারতপক্ষে খোলাখুলি অকপটে কথা বলাটা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।

মোটামুটি তিন সপ্তাহ আগে, ৬ই জানুয়ারি আমরা লক্ষ্য করলাম পশমের কাপড় পরিহিত এবং হরিণের শিংধারী এক অদ্ভূতদর্শন দাঙ্গাবাজের দল কনফেডারেট পতাকা, অস্ত্রপাতি, ফাঁসিকাষ্ঠ এবং ক্রুশবিদ্ধ যিশুমূর্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ভয়াবহ এক আক্রমণ করে বসল। এসব দেখে যে চিন্তাটি আমার মাথায় খেলে গেল সেটা হলো: “সর্বনাশ! আমাদের দেশে ইতিমধ্যেই আমরা এই লোকগুলোর ভারতীয় সংস্করণের দ্বারা শাসিত  হচ্ছি। তারা আমাদের ক্যাপিটল ভবন দখল করে ফেলেছে। তারা বিজয়ী হয়েছে।” আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা তছনছ করে দিয়েছে। আমাদের নেতৃবৃন্দেরা প্রত্যেকদিন আমাদের সামনে হাজির হয় ভিন্ন কিসিমের পশমি কাপড় পরে এবং অন্যরকম হরিণের শিং গায়ে চাপিয়ে। আমাদের প্রিয় রসায়ন হলো গোমুত্র। তারা এই দেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়ার পথে ঠিকঠাকভাবে এগোচ্ছে। রাজকীয় “স্বাভাবিক অবস্থার” দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে নিজেকে খাদের কিনার থেকে ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু ভারতে আমাদেরকে টেনে-হিঁচড়ে কয়েক শতাব্দী পূর্বের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যেখান থেকে আমরা পালিয়ে বাঁচার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলাম।

এসবের দায় আমাদের নাই- এলগার পরিষদের এই জমায়েত মৌলবাদী ও চরমপন্থী নয়। আমরা বেআইনি ও অসাংবিধানিক কোনো কাজে জড়িত নই। আমরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হাজার হাজার মুসলিম হত্যার বাস্তবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই নি বা সে কাজে প্রকাশ্যে উৎসাহ দিয়ে যাই নি। দলিতরা যখন শহরের রাস্তায় জনসম্মুখে পিটুনির শিকার হচ্ছিল, তখন আমরা নির্যাতকদের দিকে প্রশ্রয়ের দৃষ্টিতে তাকাই নি। আমরা মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিই নি, ঘৃণা ও বিভেদকে পুঁজি করে শাসনকাজ চালিয়ে যাই নি। যাদেরকে আমরা সরকার হিসেবে নির্বাচিত করেছি এবং যারা এই সরকারের নিজস্ব প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে এবং নিজেদেরকে ডাকে সংবাদমাধ্যম নামে, তারা উল্লেখিত প্রত্যেকটি কাজের জন্য দায়ী।

ভীম করেগাঁয়ের যুদ্ধের পর দুটি শতাব্দী কেটে গিয়েছে। বৃটিশরা চলে গেলেও তাদেরও কয়েক শতাব্দী পূর্বের পুরানো ঔপনিবেশিকতা বেঁচে আছে। পেশোয়ারা ধুলিস্মাৎ হয়ে গেলেও পেশোয়াই ব্রাহ্মণ্যবাদ টিকে আছে ঠিকই। ব্রাহ্মণ্যবাদ কি সেটা আজকের শ্রোতাদের কাছে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন না থাকলেও যারা এ সম্পর্কে ধারণা রাখেন না তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, এটি বর্ণবিরোধী আন্দোলনের সময়ে জাতি-ব্যবস্থা বা বর্ণপ্রথাকে বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দ। ব্রাহ্মণরাই শুধুমাত্র এর আওতাভুক্ত নন। ব্রাহ্মণ্যবাদ মতাদর্শিক কারখানায় গিয়ে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক ধাঁচের শব্দচয়ণ এবং জলধারার মতো বর্ণব্যবস্থাপনার দিক-নির্দেশিকা ও কর্মসূচীসহ হাজির হয়েছে (নতুন না হলেও ঢেলে সাজানো হয়েছে) যেটি কিনা একদা কিছুটা আশার আলো দেখানো দলিত-বহুজন নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এই মূহুর্তে একুশ শতকীয় ব্রাহ্মণ্যবাদের মনোনীত বাহন হিসেবে উগ্র-ডানপন্থী, ব্রাহ্মণ-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এক শতাব্দীব্যাপী নিরলস পরিশ্রমের পর সংগঠনের সবচেয়ে পরিচিত সদস্য নরেন্দ্র মোদীর মাধ্যমে দিল্লির মসনদ দখল করতে সক্ষম হয়েছে।

 

কর্পোরেট শ্রেণি      

কার্ল মার্ক্সসহ অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে আধুনিক পুঁজিবাদ ভারতীয় বর্ণপ্রথার ইতি ঘটাবে বা নিদেনপক্ষে এই ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য করে এগোবে। তেমনটা কি ঘটেছে? পৃথিবীব্যাপী পুঁজিবাদ কতিপয় ব্যক্তির হাতে ক্রমবর্ধমান হারে সম্পদের পুঞ্জীভবন ঘটিয়ে চলেছে। ভারতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩০ কোটি মানুষের জন্যে ঘোষিত কেন্দ্রীয় বাজেটের চেয়ে মাত্র ৬৩ জন ধনকুবের ব্যক্তির হাতে বেশি পরিমাণে অর্থ রয়েছে। অক্সফামের সাম্প্রতিক একটি জরিপ দেখিয়েছে, ভারতে করোনা সংক্রমণের সময়ে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে প্রতি ঘন্টায় যেখানে ১,৭০,০০০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছে, সেখানে পুরোটা সময় জুড়ে ভারতের শতকোটিপতিদের সম্পদ ৩৫% হারে বেড়েছে।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী একশ জনকে আমরা কর্পোরেট শ্রেণি বলে অভিহিত করতে পারি। এই শ্রেণিটি যে পরিমাণ সম্পদ বানিয়েছে তাতে করে তারা চাইলে ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র ১৩,৮০,০০০০০ লক্ষ মানুষের প্রত্যেককে অনায়াসে ১,০০০০০ লক্ষ রুপির সমপরিমাণ অর্থ বিতরণ করতে পারবে। মূলধারার একটি সংবাদপত্রে এই খবরের শিরোনাম ছিল নিম্নরূপ: “কোভিড বৈষম্য বাড়িয়েছে: সম্পদ, শিক্ষা, লিঙ্গ।” উক্ত প্রতিবেদন এবং শিরোনামে নিশ্চিতভাবেই অনুল্লেখিত শব্দটি হলো বর্ণ।

প্রশ্নটি হলো ছোট্ট এই কর্পোরেট শ্রেণি যারা বন্দর, খনি, গ্যাসক্ষেত্র, শোধনাগার, টেলিকমিউনিকেশন, উচ্চগতির ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক, বিশ্ববিদ্যালয়, পেট্রোকেমিকেল স্থাপনা, হোটেল, হাসপাতাল, খাবার বন্টনের বিভিন্ন দোকান এবং টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর মালিকানা ভোগ করে এবং কার্যত পুরো ভারতের মালিক বনে গেছে এবং পুরো ভারতকে চালায় যারা, তাদেরও কি জাত-পাত আছে?

বিস্তৃত পরিসরে এর উত্তর হলো, হ্যাঁ। ভারতের বহু বৃহৎ কর্পোরেশন বিভিন্ন পরিবারের মালিকানাধীন। অল্প কয়েকটি বড় বড় নামের উল্লেখ করা যায়- রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (মুকেশ আম্বানি), আদানি গ্রুপ (গৌতম আদানি), আর্সেলর মিত্তাল (লক্ষী মিত্তাল), ওপি জিন্দাল গ্রুপ (সাবিত্রী দেবী জিন্দাল), বিড়লা গ্রুপ (কেএম বিড়লা)। তারা সকলেই নিজেদেরকে বৈশ্য বা ব্যবসায়ীর জাত বলে মনে করে। তারা কেবলমাত্র তাদের ঈশ্বরনির্দেশিত কর্তব্য (অর্থ উপার্জন) পালন করে যাচ্ছে বৈকি।

কর্পোরেট সংবাদমাধ্যমের মালিকানা ও তাদের সম্পাদক, কলাম লেখক এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের বর্ণসংক্রান্ত বস্তুনিষ্ঠ একটি জরিপ থেকে সত্য-মিথ্যা যাবতীয় খবরের নকশা প্রনয়ণ ও প্রচারের পরিকল্পনায় সুবিধাপ্রাপ্ত বর্ণ, বিশেষত, ব্রাহ্মণ ও বণিকদের কঠোর নিয়ন্ত্রণের চিত্র বেরিয়ে এসেছে। দলিত, আদিবাসী ও ক্রমবর্ধমান হারে মুসলিম জনগোষ্ঠী এই ক্ষেত্রে প্রায় অনুপস্থিত থেকেছে। উচ্চ ও নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে জনপ্রশাসনের উঁচুতলা, বৈদেশিক সেবা, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টের জগৎ অথবা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রকাশনার জগতের সেরা চাকুরি অথবা প্রশাসনের যে-কোনো ক্ষেত্রে এই অবস্থার কোনো ব্যতিক্রম নাই। ভারতের মোট জনসংখ্যার মোটামুটি ১০% হলো ব্রাহ্মণ ও বৈশ্য। বর্ণপ্রথা ও পুঁজিবাদ মিলিতভাবে এক অদ্ভুত প্রাণঘাতী এবং বিশেষভাবে ভারতীয় এক খাদ তৈরি করেছে।

কংগ্রেস দলের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির কট্টর সমালোচক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আপাদমস্তক এই কর্পোরেট পরিবারগুলোকে সমর্থন ও তাদের সম্পদ বৃদ্ধি করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। যে পালকিতে করে তাকে প্রদর্শন করা হয়, সেটি বহনের ভারও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৈশ্য ও ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোর মালিকানাধীন কর্পোরেট সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে বর্তায়। কয়েকটির নাম উল্লেখ করা যায়: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়া টুডে, দৈনিক ভাষ্কর, দৈনিক জাগরণ। ২৭ টি টিভি চ্যানেলে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের গুরুত্বপূর্ণ সহমালিকানা রয়েছে। আমি ‘প্রদর্শন করা’ ক্রিয়াটি ব্যবহার করেছি, কারণ মোদী তার শাসনামলের প্রায় সাত বছরের মধ্যে কখনোই সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন নি। একবারের জন্যেও নয়।

আমাদের ব্যক্তিগত উপাত্ত যখন উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং আমাদের চোখের মণিকে যখন স্ক্যান করা হচ্ছে, তখন কর্পোরেট জগতের প্রতি অটল আনুগত্যের বিনিময়মূল্য পরিশোধ করার জন্য একটি অস্বচ্ছ ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করা হয়েছে। ২০১৮ সালে একটি নির্বাচনী ঋণপত্র প্রকল্প হাজির করা হয়েছে যার মাধ্যমে নাম গোপন করে যে-কোনো উৎস থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুদান প্রদানের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, আমাদের এখন সত্যিকারের একটি সুরক্ষিত নালীপথ রয়েছে যেখান দিয়ে রাজনৈতিক ও কর্পোরেট কুলীনদের নিজেদের মধ্যে অর্থ ও ক্ষমতা সরবরাহের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি যে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী রাজনৈতিক দল, তাতে আশ্চর্যের কিছু নাই।

এর চেয়েও কম আশ্চর্যের বিষয় হলো, ছোট্ট এই শ্রেণি ও বর্ণকুলীনেরা যখন জনগণের নামে, হিন্দু জাতীয়তাবাদের নামে দেশের উপর তাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে, তখন তারা তাদের নিজেদের ভোটারসহ সাধারণ মানুষকে শত্রুজ্ঞান করে সে অনুযায়ী তাদের নিয়ন্ত্রিত করে, স্বার্থানুযায়ী ব্যবহার করে, পাকড়াও করে, বিস্মিত করে, চোরাগোপ্তা হামলা চালায় এবং বজ্রমুষ্টির সাহায্যে শাসন করে। আমাদেরকে চোরাগোপ্তা বিবৃতি এবং বেআইনি অধ্যাদেশ কবলিত একটি জাতিতে পরিণত করা হয়েছে।

 

চোরাগোপ্তা বিবৃতি

নোটবন্দী রাতারাতি অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছিল। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলকরণ জম্মু ও কাশ্মিরের সত্তর লক্ষ মানুষকে হঠাৎ করেই কয়েক মাস যাবৎ সামরিক ও ডিজিটাল অবরোধের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। মানবতার বিরুদ্ধে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল আমাদের নামে এবং পৃথিবীকে সেটি অভিনয় করে দেখানো হয়েছিল। কাশ্মিরের সামষ্টিক প্রতিরোধের মেরুদন্ডের প্রত্যেকটা হাড় ভেঙ্গে যাওয়া সত্ত্বেও এক বছর পর চরম জেদি ও অবাধ্য একদল মানুষ তাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

চরমভাবে মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম নারীদের নেতৃত্বে কয়েক মাস ধরে প্রতিবাদ চলেছিল। এর শেষ হয়েছিল উৎসাহী দাঙ্গাবাজদের প্ররোচনায় এবং পুলিশ প্রশাসনের সতর্ক পাহারায় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত মুসলিমবিরোধী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাধ্যমে। এর জন্য আবার উল্টা মুসলিমদেরকেই দায়ী করা হয়েছিল। উমার খালিদ, খালিদ সাইফি, শারজিল ইমাম, মিরান হায়দার, নাতাশা নারওয়াল এবং দেবাঙ্গনা কালিতার মতো হাজার হাজার মুসলিম তরুণ, ছাত্র এবং অধিকারকর্মী বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। এই বিক্ষোভগুলোকে ইসলামিক জিহাদি চক্রান্ত হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।

সমগ্র জাতিব্যাপী গণঅভ্যুত্থানের মেরুদন্ড হিসেবে শাহীনবাগ চত্ত্বরের বিখ্যাত গণঅবস্থানের নেতৃত্বদানকারী নারীদের সম্পর্কে আমাদের বলা হয়েছে যে তারা “লিঙ্গীয় মোড়ক” হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়াও প্রায় প্রত্যেকটি বিক্ষোভস্থলে প্রকাশিত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রায় সকল মানুষের সংবিধানের প্রতি গণআকুতির বিষয়টিকে “ধর্মনিরপেক্ষ মোড়ক” বলে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ভাবনাটা এমন যে মুসলিমবিষয়ক যাবতীয় জিনিস সহজাতভাবেই “জিহাদি” (সন্ত্রাসবাদের পরিবর্তে তুলনামূলক শ্রুতিমধুর শব্দ হিসেবে ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে) এবং এর বিপরীত কোনো লক্ষণ প্রকাশ পেলে সেটি বর্ণনাসাপেক্ষ।

রাস্তায় মর্মান্তিকভাবে আহত মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষকে একজনের গায়ে অপরজনকে স্তূপ করে রাখা অবস্থায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য জোর করে তাদেরকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করেছিল। সেই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন তো দূরের কথা, তাদেরকে চিহ্নিতই করা হয় নি। দেশপ্রেমিক এক পুলিশ সদস্যের লাঠি আহতদের মধ্যে একজনের গলায় চেপে ধরার কারণে পরবর্তীকালে সে মারা যায়। এই মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “সংঘর্ষ” নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যে দিল্লি পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

গণহত্যার এক বছর পর মার খাওয়া একটি সম্প্রদায় যখন তার পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পেতে চাইছে, তখন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অযোধ্যার সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটে যাওয়া এলাকাগুলোতেই রাম মন্দির নির্মাণের খরচ তোলার জন্য রথযাত্রা ও মোটরসাইকেল কুচকাওয়াজের আয়োজন করছে।

আমরা চোরাগোপ্তা লকডাউনও প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা ১৩০ কোটি মানুষ মাত্র চার ঘন্টার বিজ্ঞপ্তিতে গৃহবন্দী হয়েছি। লক্ষ লক্ষ শহুরে শ্রমিক হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে তাদের বাড়িতে হেঁটে হেঁটে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং যাওয়ার সময় অপরাধীর মতো পিটুনি খেয়েছে।

অতিমারির ভয়াবহ আক্রমণের সময়ে জম্মু ও কাশ্মিরের প্রাদেশিক মর্যাদা পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় চীন ভারতের লাদাখে একটি বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছিল। আমাদের দুর্ভাগা সরকার এরপর ‘তেমন কিছু ঘটে নি’ এমন একটি ভান করতে বাধ্য হয়েছিল। সেখানে যুদ্ধ হোক বা না হোক, হাজার হাজার সেনাসদস্যকে অস্ত্রশজ্জায় সজ্জিত রাখতে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মধ্যে থাকা একটি অর্থনীতি থেকে অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে অর্থ অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাতের মতো করে ঝরে যাবে। প্রায়-শূন্য তাপমাত্রায় শুধুমাত্র আবহাওয়ার কারণে বহু সৈনিক জীবন হারাবে।

সংঘটিত বিপর্যয়ের তালিকায় বর্তমানে উপরের দিকে থাকা নতুন তিনটি খামার আইনের প্রস্তাব ভারতীয় কৃষির মেরুদন্ড ভেঙে দিবে, কৃষিখাতের নিয়ন্ত্রণ কর্পোরেশনের হাতে তুলে দিবে এবং কৃষকদের সাংবিধানিক অধিকারগুলোর প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাপ্রদর্শন না করে তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকারের চরম ব্যত্যয় ঘটাবে।

আপনি যেন দেখছেন একটি গাড়িকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলা হয়েছে, এর ইঞ্জিন ভেঙে গেছে, চাকাগুলো খুলে নেওয়া হয়েছে, আসবাবগুলোকে নষ্ট করা হয়েছে, বিধস্ত অবস্থায় গাড়ির কাঠামোটি মহাসড়কে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে যখন পশমি কাপড় ও হরিণের শিং গায়ে না-চাপানো চালকদের দ্বারা চালিত অন্য গাড়িগুলো শোঁ শোঁ করে এগিয়ে চলছে।

 

ক্রোধের একটি সামষ্টিক অভিব্যক্তি       

সে কারণে জরুরিভিত্তিতে আমাদের এই এলগারটির প্রয়োজন। ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, ইসলামভীতির বিরুদ্ধে এবং পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক, সামষ্টিক ও বেপরোয়া অভিব্যক্তিটির প্রয়োজন। এদের মধ্যে পিতৃতন্ত্র বাকিগুলোকে বৈধতা দেয়- কারণ পুরুষেরা যদি নারীদের নিয়ন্ত্রণ না করে বা করতে না পারে, তাহলে তারা জানে, তার আর কোনোকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

অতিমারির খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে কৃষকেরা যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো ধর্মান্তরকরণবিরোধী অধ্যাদেশসমূহ পাশ করার তোড়জোড় শুরু করেছে। আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য একটু সময় নেব, কারণ এর মধ্যে জাত নিয়ে, পুরুষত্ব নিয়ে, মুসলিম ও খ্রিষ্টানদেরকে নিয়ে, ভালোবাসা, নারী, জনসংখ্যা এবং ইতিহাস নিয়ে বর্তমান শাসককুলের উদ্বিগ্নতা-সংক্রান্ত যাবতীয় অন্তঃদৃষ্টির সারমর্ম রয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের বেআইনি ধর্মান্তরকরণে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ২০২০ সালের অধ্যাদেশের (লাভ জেহাদ বিরোধী অধ্যাদেশ হিসেবে পরিচিত) বয়স একমাসেরও কম। ইতিমধ্যেই সেখানকার বিভিন্ন বিবাহ অনুষ্ঠানগুলো বানচাল হয়ে যাচ্ছে, পরিবারগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিচ্ছে এবং কয়েক ডজন মুসলমান তরুণ কারাগারে আটক রয়েছে। সুতরাং, বর্তমানে মুসলিমরা না-খাওয়া গরুর মাংসের জন্যে এবং না-জবেহ করা গরুর জন্যে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মারা যাওয়ার সাথে সাথে, না-করা অপরাধের জন্যে (যদিও মুসলিমদের জন্য হত্যাকান্ডের শিকার হওয়াটাও ক্রমবর্ধমান হারে অপরাধী কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে), না-করা কৌতুকের জন্যে (তরুণ কৌতুকাভিনেতা মুনাওয়ার ফারুকির ঘটনা) কারাগারে অন্তরীণ হচ্ছে। মুসলিমদেরকে এখন প্রেমে পড়া এবং বিয়ে করার মতো অপরাধ সংঘটনের দায়ে কারাগারে আটক করা যেতে পারে।

উক্ত অধ্যাদেশটি পড়ার সময় আমি কিছু প্রাথমিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাব। যেমন: আপনি কিভাবে “ধর্মকে” সংজ্ঞায়িত করেন? কোনো একজন ব্যক্তি যদি অপর কোনো বিশ্বাসী ব্যক্তিকে নাস্তিক হতে প্ররোচিত করে, তাহলে কি সে ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনা যাবে?

২০২০ সালে উত্তর প্রদেশে জারিকৃত অধ্যাদেশ মূলত “মিথ্যা বর্ণনা, জবরদস্তি, অনৈতিক প্রভাব, বলপ্রয়োগ, বিবাহ বা যে-কোনো অন্যায় প্রলোভনের মাধ্যমে বেআইনি ধর্মান্তরকরণে নিষেধাজ্ঞা” প্রদান করে। প্রলোভনের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে পুরস্কার দেওয়া, পরিতুষ্টি সাধন, স্বনামধন্য বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষা অথবা শ্রেয়তর জীবন-যাপনের প্রতিশ্রুতি (যেটি কিনা মোটামুটি ভারতের প্রায় প্রত্যেকটি পারিবারিক বিবাহের মধ্যে ঘটে যাওয়া লেনদেনের প্রতিচ্ছবি)।

অভিযুক্ত ব্যক্তি (যিনি ধর্মান্তরকরণ ঘটিয়েছেন) শাস্তি হিসেবে এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড ভোগ করবেন। পরিবারের যে-কোনো সদস্য থেকে শুরু করে দূরতম আত্মীয়রাও অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা প্রমাণ করার দায়ভার অভিযুক্তের উপর বর্তাবে। “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি” আদালতের নিকট থেকে ৫,০০০০০ লক্ষ রুপির সমপরিমাণ অর্থ পেতে পারেন ক্ষতিপূরণ হিসেবে, যেটি কিনা পরিশোধ করবে অভিযুক্ত ব্যক্তি। এই বিধানের ফলস্বরূপ আপনি চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অসীম সম্ভাবনার বিষয়টি কল্পনায় আনতে পারবেন।

সবচেয়ে সেরা অংশটি হলো: ধর্মান্তরিত ব্যক্তিটি যদি অপ্রাপ্তবয়ষ্ক হন, কিংবা হন কোনো নারী অথবা তালিকাভুক্ত জাতি বা নৃগোষ্ঠীর মানুষ, তাহলে ধর্মান্তরকরণের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিটির শাস্তি দ্বিগুণ হয়ে যাবে: দুই থেকে দশ বছরের কারাবাস। অন্যকথায়, এই অধ্যাদেশটি নারী, দলিত এবং আদিবাসীদেরকে অপ্রাপ্তবয়ষ্কের সমপর্যায়ভুক্ত হিসেবে গণ্য করে। এটি আমাদেরকে শিশুদের কাতারে নিয়ে যায়। আমাদেরকে নিজেদের কর্মকান্ডের জন্য দায়ী পূর্ণবয়ষ্ক ব্যক্তি বলে গণ্য করে না। উত্তর প্রদেশের সরকারের চোখে উচ্চবর্ণের সুবিধাপ্রাপ্ত হিন্দু পুরুষেরাই কেবল নিজেদের পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব দাবি করতে পারে।

একই চিন্তা-চেতনার বশবর্তী হয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কৃষক আন্দোলনে নারীদেরকে (যারা কিনা বিভিন্ন দিক দিয়েই ভারতীয় কৃষিব্যবস্থার মেরুদন্ড) “রাখা হয়েছে” কেন? এছাড়াও মধ্যপ্রদেশের সরকার পরিবারের সাথে না-থাকা কর্মজীবী নারীদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদেরকে থানায় পুলিশের তালিকাভুক্ত করা এবং পুলিশের নজরবন্দির মধ্যে রাখার প্রস্তাব দেয়।

 

বর্ণ উদ্বেগ                       

মাদার তেরেসা আজ জীবিত থাকলে এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনি নিশ্চিতভাবেই জেল খাটতেন। যতগুলো মানুষকে তিনি খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করেছেন সে অনুযায়ী আমার অনুমান হলো তিনি দশ বছরের কারাবাস এবং অর্থদন্ডের ফলে সারাজীবন ঋণে জর্জরিত থাকতেন। ভারতের দরিদ্রদের মধ্যে কাজ করে যাওয়া প্রত্যেক ধর্মপ্রচারকের কপালে একই জিনিস লেখা থাকতে পারত।

এছাড়াও, এই লোককে আপনি কি বলবেন:

“আমাদের দুর্ভাগ্য যে নিজেদেরকে হিন্দু বলে পরিচয় দিতে হয় এবং সে অনুযায়ী আচরণ আমরা পাই। আমরা যদি অন্য কোনো বিশ্বাসের অংশীদার হতাম, তাহলে কেউ আমাদের সাথে এমন আচরণের সাহস করত না। সমান মর্যাদা ও সম আচরণের নিশ্চয়তা দেয় এমন যে-কোনো ধর্ম আপনারা গ্রহণ করুন। আমরা এখন নিজেদের ভুলগুলোকে শুধরে নিব।”    

আপনারা অনেকেই জেনে থাকবেন যে এগুলো বাবাসাহেব আম্বেদকরের কথা। এখানে শ্রেয়তর জীবন-যাপনের প্রতিশ্রুতিসমেত পরিষ্কারভাবে গণ ধর্মান্তরকরণের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশ মোতাবেক “দুই বা ততোধিক মানুষ ধর্মান্তরিত হলে” তাকে “গণ ধর্মান্তরকরণের” সংজ্ঞার মধ্যে ফেলা হয়েছে। সে অনুযায়ী উপরোক্ত বাক্যগুলো আম্বেদকরকে অপরাধী হিসেবে দন্ডিত করে ফেলতে পারত। মহাত্মা ফুলেও একইরকম বিপদে পড়তে পারতেন যখন তিনি গণ ধর্মান্তরকরণের প্রতি প্রকাশ্য অনুমোদন দিয়ে বলেন:

“মুসলিমরা চতুর আর্যাবর্তের পাথরে খোদাই করা চিত্রগুলোকে ধ্বংস করে তাদেরকে জোরপূর্বক দাসত্ববরণ করতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাদের হাত থেকে শূদ্র ও অতি-শূদ্রদেরকে ছিনিয়ে এনে তাদেরকে মুসলিম বানায় এবং তাদের মুসলিম ধর্মে অন্তর্ভূক্ত করে। শুধু তাই নয়, তারা তাদের সাথে একই পাতে খাবার খায়, তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং তাদেরকে সমান অধিকার প্রদান করে…”                            

উপমহাদেশের লক্ষ লক্ষ শিখ, মুসলিম, খ্রিষ্টান এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষেরা ঐতিহাসিক পরিবর্তন এবং গণ ধর্মান্তরকরণের সাক্ষী হয়ে আছে। “হিন্দু জনগোষ্ঠীর” ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা প্রাথমিকভাবে উচ্চবর্ণের সুবিধাপ্রাপ্ত হিন্দুদের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত বর্ণ উদ্বেগ ক্রমশ বাড়িয়ে তুলেছিল এবং আজ যাকে হিন্দুত্বের রাজনীতি বলা হচ্ছে, তাতে বিদ্যুৎসঞ্চার করেছিল।

যাইহোক, আজকে আরএসএস ক্ষমতায় এসে পাশার দান উল্টিয়ে দিয়েছে। এখন বৃহৎ পরিসরে গণ ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এর নাম দেওয়া হয়েছে “ঘার ওয়াপসি” (ঘরে ফেরা)। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে হিন্দু সংস্কারপন্থী দলগুলোর হাত ধরে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ঘার ওয়াপসি কার্যক্রমের মাধ্যমে জঙ্গলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষগুলোকে হিন্দুধর্মে “ফিরিয়ে আনা” হয়। তবে তার আগে তারা “ঘরের” রাস্তা থেকে পথভ্রষ্ট হয়ে যে দূষণ ঘটিয়েছে তার প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য একটি শুদ্ধাচারের আয়োজন করা হয়।

ধর্মান্তরকরণের এই চর্চা যুক্তিসঙ্গতভাবে যে অপরাধের পর্যায়ে পড়ে যেতে পারে, উত্তর প্রদেশে জারিকৃত অধ্যাদেশ কিভাবে এই অসুবিধার মোকাবিলা করবে? এর একটি ধারায় বলা হয়েছে: “এতদ্বারা বলা যাচ্ছে, যদি কোনো ব্যক্তি তার পূর্বের ধর্মে পুনরায় ধর্মান্তরিত হয় তাহলে একইভাবে তাকে এই অধ্যাদেশ মোতাবেক ধর্মান্তরকরণ বলে গণ্য করা হবে না।”

হিন্দুধর্ম হলো একটি অতি প্রাচীন ধর্ম, যেটি কিনা ভারতীয় উপমহাদেশের হাজার হাজার আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং দলিত ও দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর ধর্মগুলোর চেয়েও প্রাচীন এবং এটি তাদের ধর্মগুলোকেও নিজের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করে- এমন একটি পৌরাণিক দাবিকে অধ্যাদেশটি উপরোল্লিখিত উপায়ে চিরস্থায়ী করে এবং আইনগত বৈধতা প্রদান করে। দাবিটি অসত্য এবং ইতিহাসবিরোধী।

 

ইতিহাস হিসেবে পুরাণ

ভারতে বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে পুরাণকে ইতিহাসে এবং ইতিহাসকে পুরাণে রূপান্তরিত করা হয়। উচ্চবর্ণের সুবিধাভোগী হিন্দু কাহিনীকারেরা নিজেদেরকে সবচেয়ে আদিম ধর্মগোষ্ঠী এবং একইসময়ে আর্য বিজেতাদের বংশধর (যখন যেটি উপযুক্ত মনে হয়) হিসেবে দাবি করাতে কোনো সাংঘর্ষিকতা খুঁজে পায় না। দক্ষিণ আফ্রিকায় পেশাজীবনের শুরুতে গান্ধী যখন ডারবান পোষ্ট অফিসে তার ভাষায়, “কাফির” এবং “অসভ্য” কালো আফ্রিকাবাসীর সাথে একই প্রবেশপথ ভাগাভাগি করতে রাজি না হওয়ায় ভারতীয়দের আলাদা প্রবেশপথের জন্য প্রচারাভিযান চালাচ্ছিলেন, তখন তিনি যুক্তি দেখান যে ইংরেজ ও ভারতীয় উভয়ই “ইন্দো-ইউরোপীয় নামক একটি সাধারণ গোষ্ঠী” থেকে উদ্ভূত হয়েছে। তিনি অবশ্য উচ্চবর্ণের সুবিধাভোগী “ভারতীয় যাত্রীদের” থেকে নিম্নবর্ণের নিপীড়িত তালিকাভুক্ত শ্রমিকদেরকে আলাদা করতে ভোলেন নি। এটি হলো ১৮৯৩ সালের ঘটনা। এই তামাশা এখনো শেষ হয় নি।

আজকের বক্তাদের মধ্যে বৈচিত্র্যের পরিধি মূলত একটি বিষয় প্রমাণ করে যে, আমাদের দিকে যে চতুর্মুখী ও সম্মিলিত আক্রমণ ধেয়ে আসছে, সেটি দেখতে পাওয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য এলগার পরিষদের রয়েছে। আমরা নিজেরা নিজেদেরকে ছোট ছোট জলাশয়ে আবদ্ধ করে পরিস্থিতিকে সামগ্রিকভাবে না দেখে নিজেদের বা নিজেদের সম্প্রদায়ের হয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সাথে চারপাশে জল ছিটাতে থাকি এবং নিজেদের ক্ষোভকে একে অপরের দিকে ধাবিত করি- বর্তমান শাসককুলের কাছে এরচেয়ে আনন্দদায়ক বিষয় আর কিছু হতে পারে না।

আমরা যখন আমাদের ছোট ছোট পুষ্করিণীর পাড়গুলোকে ভেঙ্গে ফেলতে পারব, তখন একে আমরা নদীতে রূপান্তরিত করতে পারব। এবং তখন আমরা বাধাহীন ঢেউয়ের মতো প্রবাহিত হব। সেটি করতে গেলে আমাদের নিজেদের সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করে যেতে হবে, রোহিত বিমুলার মতো করে স্বপ্ন দেখার সাহস করতে হবে আমাদের। তিনি আজকে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের মাঝেই আছেন, মৃত্যুর পরেও পুরো একটি নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন, কারণ তিনি স্বপ্ন দেখতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তার মনুষ্যত্বের পূর্ণ বিকাশের অধিকার দাবি করতে গিয়ে, তার উচ্চাকাঙ্খার জন্যে এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতুহলের জন্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি সংকুচিত হতে চান নি, আপোষ করতে চান নি, তার জন্যে নির্ধারিত কাঠামোতে তিনি সীমিত হতে চান নি। বাস্তব দুনিয়া তার উপর যে তকমা সেঁটে দিতে চেয়েছিল, তিনি তা প্রত্যাখান করেছিলেন। তিনি জানতেন তাকে নক্ষত্রের ধুলি দিয়ে বানানো হয়েছে। তিনি নক্ষত্রের ধুলি হয়ে গেছেন।

 

আমাদের পরিচয়গুলোকে অতিক্রম করে               

নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করে এবং সারবস্তুতে রূপান্তরিত করে এমন ফাঁদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা কেউই নিজেদের বহুমুখী পরিচয়ের একটি সমষ্টিমাত্র নই। আমরা সেটি ছাড়াও আরো অনেক অনেক বেশি কিছু। নিজেদের শত্রুদের মোকাবিলায় যখন আমরা যোগ্য হয়ে উঠব, তখন আমাদের অবশ্যই বন্ধুদেরকে চিনে নেওয়ার সামর্থ্য থাকতে হবে। আমাদের অবশ্যই মিত্র খুঁজে বের করতে হবে, কারণ আমরা কেউই এই লড়াইয়ে একাকী শামিল হতে পারব না। গত বছরের সিএএ-বিরোধী দুঃসাহসী আন্দোলন এবং বর্তমানে আমাদের ঘিরে থাকা বৃহত্তর কৃষক আন্দোলন সেটি আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে। আন্দোলনে আসা বহু কৃষক জোট ভিন্ন ভিন্ন আদর্শিক বিশ্বাসের এবং ভিন্ন ইতিহাসের অসংখ্য মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। বড় ও ছোট কৃষকদের মধ্যে, জমির মালিক ও ভূমিহীন কৃষিজীবীদের মধ্যে, জাত শিখ ও মাজহাবি শিখদের মধ্যে এবং বামপন্থী জোট ও মধ্যপন্থী জোটের মধ্যে গভীর দ্বন্দ্ব রয়েছে।

সেখানে বর্ণের দ্বন্দ্বও রয়েছে এবং ভয়াবহ বর্ণবাদী সহিংসতার ঘটনাও আমরা শুনতে পেলাম বান্ত সিংয়ের মুখে। ২০০৬ সালের এক সহিংসতায় তার দুটি হাত ও একটি পা কেটে ফেলা হয়েছিল। এই দ্বন্দ্বগুলো মাটিচাপা পড়ে যায় নি। সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনাও চলবে। আজকে এখানে রনদীপ মাদ্দকের থাকার কথা ছিল যিনি ‘ল্যান্ডলেস’ নামক একটি সাহসী প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। সবকিছুর পরেও তারা একত্র হয়েছে, যাকে আমরা অস্তিত্বের লড়াই বলে জানি, তাতে শামিল হতে।

এই শহরে আম্বেদকর যেখানে আক্ষরিক অর্থেই হুমকির মুখে পুনা চুক্তিতে সই দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং জোতিবা ও সাবিত্রীভাই ফুলে যেখানে তাদের বিপ্লবী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে আমরা সম্ভবত আমাদের এই লড়াইয়ের একটি নাম দিতে পারি। নামটি সম্ভবত এমন হওয়া উচিত- সত্য শোধক প্রতিরোধ (সত্য শোধক রেজিস্ট্যান্স)- আরএসএসের জবাবে এসএসআর।

এটি হলো ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার লড়াই। ভালোবাসার জন্যে  লড়াই। এই লড়াইটিকে অবশ্যই লড়ে যেতে হবে বিপ্লবী পন্থায় এবং জিতে নিতে হবে চমৎকারভাবে।

ধন্যবাদ!

 

More Posts From this Author:

    None Found

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুদ্ধস্বর
Translate »
error: Content is protected !!
Scroll to Top