মোদি-বিরোধী আন্দোলন : দুয়েকটি প্রাসঙ্গিক মন্তব্য    

Share this:

বাংলাদেশে ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট বা মনোভাব খুবই প্রবল। এই মনোভাবের প্রবাহ যেমন একমুখী নয়, তেমন একই ধারারও নয়। ভারতে যেমন বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাবের জোয়ার দেখা যায়, বাংলাদেশেও তেমন দেখা যায়। আবার, বাংলাদেশে ভারত বিরোধী যত ধারা তাদের সুর ও স্বর সমান নয়। সম্প্রতি মুজিববর্ষ উপলক্ষে মোদির ভারত সফরকে নিয়ে প্রচণ্ড তর্কবিতর্ক শুরু হয়। মোদি ও বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি এবং তাদের ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড ভারত বিরোধীতায় নতুন জ্বালানি সরবরাহ করে।

২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায়, কেউ কেউ একে গণহত্যা বলেও অভিহিত করেন, মোদির সম্পৃক্ততা মোদি বিরোধীতাকে অন্যান্য যে কোনো ভারতরাষ্ট্র প্রধানের তুলনায় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। গুজরাট দাঙ্গার পরিণতিকে স্মরণ করে অরুন্ধতী রয় লিখেছিলেন, তুরষ্ক আর্মেনিয়ান গণহত্যা অস্বীকার করে নিরবতার মাধ্যমে এবং ভারত গুজরাটের কথা অস্বীকার করে উদযাপনের মাধ্যমে। সেই সাথে গতবছরে মুজিববর্ষ উদযাপনের কিছুদিন পূর্বেই দিল্লি কিলিং এর ভয়াবহ ঘটনা মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতার আরো শক্তিশালী বাস্তবতা তৈরি করে। যদিও করোনার কারণে মুজিববর্ষ উদযাপন স্থগিত করা হলেও এবার মোদি সফর করবেন।

এবার মোদির সফরের প্রাক্বালে গতবছরের রেশ এখনো ফুরিয়ে যায় নি। উল্টো আমাদের কর্তাব্যক্তিদের ‘রসালো’ মন্তব্য সেই বিরোধীতাকে আরো উষ্কে দিচ্ছে। যেমন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ‘মোদি আসছেন এতেই আমরা খুশি, তিস্তা নিয়ে আলোচনা এবার না’। আরো বলেছেন, ‘আমরা যেটা চাই সেটা হচ্ছে, এই যে একটি আনন্দ উৎসব, আমাদের এই বড় উৎসবে সবাই এসেছে, আমরা তাতেই আনন্দিত। এটাই তো আমাদের বড় পাওয়া, আর কী চান আপনি? আপনাকে কে কাপড় দিল, ভাত দিল ওইটা নিয়ে বেশি চিন্তিত, ওইগুলা আমরা ম্যানেজ করব। তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি তাদের সমস্যা আছে। আমরা বুঝি, আমরা বোকা নই।’ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার (পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান) মো. মনিরুল ইসলাম হুশিয়ার করেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনকে সামনে রেখে যারা মোদিবিরোধী মিছিল-মিটিং করছে কিংবা করবে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ শক্তভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’। তিনি রাষ্ট্রের ‘সম্মান’ বাচানোর জন্য জনগণকে ‘স্যাক্রিফাইস’ করার আহ্বান জানান।

প্রতিবারের মতো এবারের মোদি বিরোধী তথা ভারতরাষ্ট্র বিরোধী আন্দোলন বা মনোভাবে মোটাদাগে দুটো ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ জন্মের পর থেকে যখনই ভারতরাষ্ট্র বিরোধী সেন্টিমেন্ট প্রবল হয়েছে তখন এই দুটো ধারাই সক্রিয় থেকেছে, যদিও উছিলার অদল-বদল ঘটছে প্রতিনিয়ত। তবে দুটো ধারাই যে একেবারে প্রবলভাবে সীমানা রক্ষা করে চলেছে, তাও না। কখনো সখনো সেই সীমানা মাড়িয়েও যাওয়া হয়েছে।

 

আন্দোলনের দুটো ধারা

মোদি বিরোধী (বা ভারত বিরোধী) আন্দোলনের যে দুটো ধারা দেখা যায়, তার প্রথম ধারায় আছেন গুজরাটের নৃশংস মুসলমান-বিরোধী গণহত্যা, সাম্প্রতিক দিল্লী কিলিং, এনআরসি ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে যারা মোদিকে দাঙ্গাবাজ, গণহত্যাকারী, সাম্প্রদায়িক, মুসলমানবিদ্বেষী বলে মনে করেন। করোনার আগ মুহূর্তে এনআরসি বিরোধী মুভমেন্ট বা সাম্প্রতিক কৃষি আন্দোলনে খোদ ভারতেই মোদি তথা বিজেপির রাজনীতির শক্তিশালী বিরোধিতা পষ্ট দেখা গেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সাথে ভারত রাষ্ট্রের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক চুক্তি ও আচরণ, সীমান্ত হত্যা, বিজেপি-আরএসএস কর্তৃক ভারতব্যাপী বাংলাদেশ-বিদ্বেষী মনোভাব উস্কে দেয়ার ফলস্বরূপ এই বিরোধীতার শক্ত জমিন আছে।

কিছুদিন পূর্বে খুলনাতে আগুয়ান-৭১ নামক একটি সংগঠন সীমান্ত হত্যা নিয়ে একটি কনভেনশনের আয়োজন করেছিল; যেভাবে উপর মহল থেকে চাপ দিয়ে সেই অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়া হয় তা আয়োজকদের খুব পাশ থেকেই দেখা ও বোঝার ‘সৌভাগ্য’ হয়েছিল। এছাড়া ভারতীয় নীতি ও সীমান্তহত্যা নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের প্রচণ্ড আপত্তিকর ও অপমানজনক [বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য] মন্তব্য মোদি বিরোধী বা ভারতরাষ্ট্র বিরোধী সেন্টিমেন্টকে আরো জোরদার করে তোলে। কাশ্মীর ইস্যুও এই অঞ্চলে প্রচণ্ড ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি করে। এইদিক থেকে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মুক্তির সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে মোদি তথা ভারতের হিন্দুত্ববাদী পরিচয়বাদি রাজনীতির বিরোধীতা এই ধারাতে স্পষ্ট।

দ্বিতীয় ধারায় আছেন যারা মোদি বা ভারত রাষ্ট্রের বিরোধীতাকে হিন্দুধর্মের বিরোধিতায় পর্যবসিত করেন। তারাও বাংলাদেশের সাথে ভারতের বৈষম্যমূলক চুক্তি, সীমান্ত হত্যা এবং ভারতের ভেতর মুসলমানবিরোধী হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সমালোচনা করেন, কিন্তু তাদের সমালোচনা ভারত রাষ্ট্রের সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বরঞ্চ এক. তারা ভারত রাষ্ট্রের সমালোচনাকে ভারতীয় নাগরিকদের সমালোচনায় পর্যবসিত করেন, এবং দুই. হিন্দুত্ববাদী পরিচয়বাদী রাজনীতির সমালোচনা করতে গিয়ে খোদ হিন্দু ধর্মের ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বিষেদগার করেন, সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে মাঠে নিয়ে আসেন। ভারতে বিদ্যমান হিন্দুত্ববাদী পরিচয়বাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সবচাইতে বড়ো আন্দোলন খোদ ভারতের নাগরিকরাই করছেন, তারা তাদের নানামাত্রিক আন্দোলন জারি রাখছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের এই সাম্প্রদায়িক হিন্দুবিরোধী উল্লেখিত ধারায় রাষ্ট্র ও জনগণ সব একাকার হয়ে যায়। তারা যেমন করে হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুত্ববাদী পরিচয়বাদী রাজনীতিকে একাকার করে ফেলেন, তেমনি ভারত বিরোধীতাকে হিন্দুবিরোধীতা হিসাবে হাজির করেন। আবার তাদের ঠিক বিপরীতে আছেন আরেক পক্ষ, যারা যে কোনো প্রকার ভারত বিরোধীতার মধ্যে হিন্দুবিরোধীতার গন্ধ খুঁজে পান। দুই পক্ষই এখানে একে অপরকে জোরদার করেন।

 

 

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, পরিচয়বাদী রাজনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার মুক্তি  

বাংলাদেশ রাষ্ট্র তিনটা ভয়ঙ্কর খরস্রোতা নদীর মোহনায় দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের ভেতরকার ইসলামপন্থী রাজনীতি, ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি, আওয়ামীলীগের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি – তিনটার যুগপৎ সম্মিলন ঘটেছে বিদ্যমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদে। বাংলাদেশের তাবৎ এক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক কর্মীদের এই হিসাবটা মাথায় রাখতে হবে। এখানে যে কোনো ধরণের পরিচয়বাদী, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আসলে একসাথে তিনটা পক্ষকেই শক্তিশালী করবে।

খেয়াল করে দেখুন ইসলামপন্থী মহল বিভিন্ন উছিলা ধরে কতদিন পরপর আওয়ামীলীগের শাসনামলকে ধর্মসম্মতি দিতে উঠে পড়ে লাগে। পূর্বে ‘নবীজীর বন্ধু’ আখ্যায়িত করা হয়েছিল। বয়কট ফ্রান্স আন্দোলনে সময় হেফাজতে ইসলামীর ফ্রান্সের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচির পর হেফাজতের মহাসচিব বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সরকার আরও ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকুক। কিন্তু আমাদের দাবি পূরণ করে ক্ষমতায় থাকতে হবে।…সরকার নবীর বন্ধু, আমরা নবীর বন্ধু। হেফাজতে ইসলামের আরও দাবি আছে, সেগুলো পূরণ করতে হবে।’ অর্থাৎ কেবল মাত্র হেফাজতে ইসলামীর দাবি মেনে নিলেই বিদ্যমান রেজিমের বিরুদ্ধে তাদের আর কোনো অভিযোগ নেই, সরকার নির্বাচিত কি অনির্বাচিত এসব নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই, দেশে গণতন্ত্র আছে কি নেই সেটাও নিয়েও তাদের কোনো সমস্যা নেই। কেবল তাদের দাবি মানলেই সরকার ‘নবীর বন্ধু’ হয়ে যাবেন। এবার মোদির আসা-না আসার সাথে নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। একটা ভিডিওতে দেখা যায় মওলানা মামুনুল হক বলছেন, যদি মোদির সফর বাতিল করা হয় তাহলে ‘আপনি [শেখ হাসিনা] যেইভাবেই নির্বাচিত হয়েছেন আর আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না।’

বাংলাদেশে ইসলামপন্থী পরিচয়বাদী রাজনীতি যত জোরদার হবে সেটা আওয়ামীলীগের জন্য দিনশেষে সুবাতাস বয়ে নিয়ে আসে, ‘আমরা না থাকলে দেশ আফগানিস্থান’ হয়ে যাবে দেখানোর মওকা পায়; অন্যদিকে মোদির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে আরও উষ্কে দেয়। এই সম্পর্কটা একদম দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক। ফলে বাংলাদেশে যে কোনো ধরণের পরিচয়বাদী রাজনীতির ফল দিনশেষে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকেই শক্তিশালী করে তুলবে।

রাষ্ট্রীয় বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়, যাদের কাজ আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে বৈধতা প্রদান করা, তারা যে কোনো ফরম্যাটের ভারত বিরোধীতাকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার’ চশমায় দেখতে চান। অবশ্য, এই চেতনার চশমা একান্তই ওনাদের, জনগণের মুক্তি সংগ্রামের যে চেতনা তার কোনো লেশমাত্র এতে নাই। গতবছর যখন মোদির সফরকে বিরোধীতা করে বিভিন্ন মহলে আন্দোলন-দাবি-দাওয়া চলছিল, তখন আবার রাষ্ট্রীয় [বা দলীয়, বা সরকারি] বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় উল্টো আন্দোলনকারীদের একহাত করে নেন। যেমন শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘ভারতের সাম্প্রতিক ঘটনাকে নিয়ে যারা নরেন্দ্র মোদির সফর বন্ধ করতে আন্দোলন করছে তারা দেশের ভালো চায় না।’ বিবিসিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যারা এ ধরণের বিক্ষোভ করছে তারা আসলে এর আড়ালে ‘ভারত বিরোধিতা এবং পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিতে’ সক্রিয় হবার চেষ্টা করছে।’ সুতরাং আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের আলাপ-সালাপ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সাথে মোদির রাজনীতির সম্পৃক্ততারই প্রমাণ দেয়, যদিও বা তারাই আবার ‘সেকুলার’ রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসাবে নিজেদেরকে হাজির করেন।

এছাড়াও মনে রাখা দরকার, ভারত রাষ্ট্র এবং মোদি-আরএসএস-বিজেপি বাংলাদেশ থেকে এক বিশেষ রকমের ভারত-বিরোধীতা চায়। যাতে বিজেপি আরেকটু ‘বিজেপি’ হয়ে উঠতে পারে। সেই বিরোধীতাগুলা চিহ্নিত করে সেগুলার কবর দিতে হবে। ভারতের হিন্দুত্ববাদের জবাবে যারা রাজনৈতিকভাবে মুসলমান হতে চায়, তারা বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর বিপদ বয়ে আনছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী ও আধিপত্য-বিরোধী ধারাকে এ সম্পর্ক সচেতন থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ভৌগলিক কারণেই এমন একটা অবস্থানে আছে যে তার ভালো থাকা ও মন্দ থাকা নির্ভর করে তার প্রতিবেশীদের ভালো থাকা মন্দ থাকার ওপর। রোহিঙ্গা ইস্যু, আসাম ইস্যু বহু আগ থেকে আমাদের সামনে এমন বাস্তবতা হাজির করেছে। এইদিক থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভালো থাকতে চাইলে দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর রাষ্ট্রের জনগণকেও ভালো থাকতে হবে। সে অর্থে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের ভাগ্য এক সুতোয় আটকা পড়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর নাগরিকদের ন্যায্য আন্দোলন সংগ্রামে সমর্থন দেয়া, পাশে দাঁড়ানো, এবং তাদের আনন্দ-বেদনায় সহমর্মী হওয়া আমাদের জন্য জরুরি। আমাদের পাশের দেশ মিয়ানমারের জনগণ স্মরণকালের এক বিশাল লড়াইয়ে রত আছেন। সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক এই আন্দোলন পৃথিবীব্যাপী নন-ভায়োলেন্ট রেসিস্ট্যান্সের এক উজ্জ্বল ইতিহাস তৈরি করছে। সেখানেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে নাগরিকদের রক্ত ঝরছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রতি আমাদের সমর্থন-ই বা কোথায়?

দক্ষিণ এশিয়ার সকল মানুষের মুক্তি হোক। ফ্যাসিবাদী, সামরিক স্বৈরশাসন ও পরিচয়বাদী রাজনীতির কবল থেকে এই অঞ্চলের মানুষ মুক্ত হোক।

 

Sohul Ahmed, activist, and author. Topics of interest are politics, history, liberation war, and genocide. Published Books: Muktijuddhe Dhormer Opobabohar (2017), Somoyer Bebyocched (2019), and Zahir Raihan: Muktijuddho O Rajnoitik Vabna (2020)

More Posts From this Author:

Share this:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুদ্ধস্বর
Translate »
error: Content is protected !!
Scroll to Top