লেখক, কবি, আর্টিস্ট যদি স্বৈরতন্ত্রের গোলামি করে, ফ্যাসিস্টের জয়গান গায়, এরচেয়ে অশ্লীল কিছু তো কিছু হতে পারে না

Share this:

প্রশ্নোত্তর:

শুদ্ধস্বর: কবিতা লিখতে হবে বা কবিতা লেখার জন্য তাড়না বোধের ব্যাপারটা প্রথম কিভাবে অনুভব (মানসিক অবস্থা, পরিবেশ-প্রতিবেশের সাথে সংশ্লেষ) করতে শুরু করলেন?

রুহুল মাহফুজ জয়: আমার আব্বা কবিতা লিখতেন। সেসব কতটুকু কবিতা হয়েছে জানি না, তবে প্যাশনেটলি লিখতেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়াতে সাহিত্য সংসদ করতেন। ওনারা ছোট কলেবরে একটা পত্রিকা বের করতেন। অনিয়মিত হলেও করতেন। আমাদের অঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতিমনা লোকজন এসে আমাদের লাইব্রেরিতে (বইয়ের দোকান) আড্ডা দিতেন। আর আব্বাকে খুব সম্মান দিতেন। কেউ প্রেমের প্রস্তাব দেবে একটা চিঠি লিখে, তো বাবার কাছ থেকে সেজন্য কবিতা লিখিয়ে নিতেন। ঈদের সময় ঈদকার্ড উপহার দেবে, কার্ডের ভেতর আব্বাকে দিয়ে কবিতা লিখিয়ে নিতেন। অন্ত্যমিল দিয়ে আব্বা সুন্দর সুন্দর কথা লিখে দিতেন। অইসব দেখে ভাবতাম আমারও কবিতা লিখতে হবে। ক্লাস ফোরে পড়ার সময় একদিন আব্বা অনেক রাতে ঘুম থেকে জাগায়ে একটা ডায়েরি হাতে দিয়ে বললেন, তুমি প্রতিদিন যা যা করবা বা তোমার সাথে যা যা ঘটবে সেসব এটায় লিখে রাখবা। নিজে প্রথম পৃষ্ঠায় উদাহরণস্বরূপ কিছু কথা লিখে দিলেন। তো অই আমি দিনলিপি লিখতাম। ওখানেই প্রথম চার লাইন লিখেছিলাম কবিতার মতন—’হরিণ দেখলো বাঘের পাও (পা অর্থে) / কার মাংস কেডায় খাও / কাউয়ায় করে কা কা / শিয়াল চালাক মুরগি খা’। এভাবে আমার কবিতা লেখার চেষ্টা শুরু। অই লেখাটা এক সহপাঠীকে দেখাইছিলাম। শে খুব হাসছিলো। মনে হইলো কিছুই হয় নাই। এরপর ছোটবেলায় আর কবিতা লিখতে চেষ্টা করি নাই। কলেজে পড়ার সময় জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলা বইটা পড়ে আবার কবিতা লিখতে ইচ্ছা করলো। জীবন দাশ, নির্মলেন্দু গুণ, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ওনাদের বেশি পড়া হলো এবং ওনাদের মতন করে লিখতে হবে ভাবতাম। চেষ্টাও করতাম। কবিতায় যে নিজের জগৎ-ভাষা থাকা জরুরি, সেটা বুঝলাম ২০১২ সালে। এর আগে অইভাবে চিন্তা করি নাই। অবাক করা ব্যাপার হলেও ইউনিভার্সিটি লাইফে আমি কবিতার পেছনে ছুটিনি একেবারেই। যে কারণে বিকাশটা মনে হয় একটু দেরিতেই হইছে। বিকাশ বলতে আমি বলতে চাইছি নিজের কবিতার ভাষা এবং জগতের সন্ধান করার চেষ্টা। কবি জুয়েল মোস্তাফিজের সঙ্গে একটা সন্ধ্যার আড্ডা আমার কবিতাচিন্তা বদলে দিয়েছিল। আজকে আমি যা লিখেছি, যতটুকু লিখছি, তা হয়তো ২০১২ সালের অই সন্ধ্যাটা না পেলে হতো না।

 

শুদ্ধস্বর: আপনার কবিতার সমসাময়িকতা, রাজনৈতিক বোধ, নিজস্ব ভাষাশৈলির বিষয়গুলো যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত ভাবে শুনতে আগ্রহী।

রুহুল মাহফুজ জয়:  আমার কবিতা সমসাময়িকতা ধারণ করে। অতীতাশ্রয়ী লেখা যে একেবারেই লিখি নাই বা লিখি না, তা না। তবে যাপিত জীবন, চারপাশের দেখা এবং অভিজ্ঞতাগুলি আমাকে যখন তাড়িত করে, তখনই মূলত লিখি। আমি চুপ থাকতে পারি না। বলতে চাই। বলতে চাই বলেই লিখতে এসেছি। সেই বলাগুলি কবিতাতেই বলি। রাজনীতিবোধ আমার ভেতরে প্রচণ্ডভাবে আছে। সেই রাজনীতি কোনো দলকে রিপ্রেজেন্ট করে না। যেকোনো আর্টিস্টের রাজনীতিই মনে হয় গণমুখি। আমার রাজনীতিও তা-ই। আমার রাজনীতির কথাগুলিও আমি কবিতাতেই প্রকাশ করি বা করতে চাই। কতটা পারি, সেটা অন্য আলাপ।

আর নিজস্ব ভাষাশৈলীর বিষয়ে যদি বলি, এটুকুই বলব যে, আমি যে ভাষায় সবসময় কথা বলি, যে ভাষায় ঢাকায় মানুষকে কথা বলতে দেখেছি, যে ভাষায় আমার এলাকা ফুলবাড়িয়াতে মানুষকে কথা বলতে দেখেছি, সেসবের মিশ্রণ হলো আমার কবিতার ভাষা। এবং আমার কবিতায় ভাষার প্রকাশভঙ্গি একেবারেই ক্যাজুয়াল। আমার লাইফস্টাইল যেমন, কবিতাও তেমনি ক্যাজুয়ালিটি ধারণ করে। আমার কবিতার ভাষা কলকাতাইয়া বাংলা না। আমি এটুকু বুঝি, কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার সঙ্গে বাংলাদেশের বাংলা ভাষার অনেক পার্থক্য আছে। সেই পার্থক্যটুকু সিরিয়াস সাহিত্য করা সকলেরই বোঝা দরকার। আমাদের সাহিত্যে যে চলিত ভাষা বর্তমান, তা মূলত কলোনিয়াল মানসিকতায় চাপিয়ে দেওয়া ভাষা। আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের মুখে মুখে ব্যবহৃত অনেক অসাধারণ শব্দই এখনও সাহিত্যের ভাষায় ঠাঁই পায় নাই। আমরা কবিতা লিখতে এলে, সাহিত্য করতে এলে ধরেই নিই যে কলকাতার বাংলাটাই সাহিত্যের মানভাষা। আশার কথা হলো, এই ভাষারাজনীতির ব্যাপারে এখনকার তরুণরা সচেতন। বাংলাদেশে কলকাতাইয়া বাংলার সাহিত্য ধসে পড়ছে।

 

শুদ্ধস্বর: কবিতার শ্লীল অশ্লীল ব্যাপারগুলো সম্পর্কে আপনার ধারণা ও অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

রুহুল মাহফুজ জয়:  শ্লীল-অশ্লীল ব্যাপারটা আসলে ভাষার ব্যবহার এবং উপস্থাপনের ওপর নির্ভর করে। কবির মুন্সিয়ানায় জনমানুষের কাছে চরম অশ্লীল ব্যাপারগুলিও কবিতায় শৈল্পিক হয়ে ওঠে। শামসের আনোয়ারের ‘স্তন’ কবিতাটার কথা মনে পড়ছে। আবার আনাড়ি হাতের লেখা অনেক শ্লীল শব্দ, বিষয়ও অশ্লীল হতে পারে। আমি আর্টে সেন্সরশিপ আরোপের পক্ষে নই। কোনো লেখক, কবি, আর্টিস্ট যদি স্বৈরতন্ত্রের গোলামি করে, ফ্যাসিস্টের জয়গান গায়, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা না বুঝে ক্ষমতার পক্ষে থাকে, এরচেয়ে অশ্লীল কিছু তো কিছু হতে পারে না। এখনও আমাদের কবিতায় ‘চুদাচুদি’, ‘স্তন’, ‘যোনি’ এসব শব্দ অইভাবে গ্রহণযোগ্য হয় নাই। কারণ শব্দগুলা কবিতার ক্রাফটস হিসাবে ব্যবহার খুব একটা হয় নাই। অনেক সময়ই খিস্তির মতো লাগে, পারভার্সন প্রকাশ হয়ে যায়। সেকারণে অশ্লীল লাগে। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে, নারীর যৌনাঙ্গ ‘যোনি’ যতটা ব্যবহার হয়, পুরুষের যৌনাঙ্গ ‘ধোন’ বা ‘ল্যাওড়া’ হয় না। পৃথিবীর কোনোকিছুই যৌনতার বাইরে নয়। কবিতাতেও যৌনতা থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যৌনতার ব্যবহার ঠিকমত না করতে পারলে তা অশ্লীল লাগে বৈকি। আবার ধরেন, এখন কেউ যদি শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদির বন্দনা করে কবিতা লিখে, তা চরম অশ্লীল লাগবে আমার কাছে। শ্লীল-অশ্লীল ব্যাপারগুলা আশলে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন।

 

শুদ্ধস্বর:  বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের বাংলা কবিতা নিয়ে আাপনার নিজস্ব মূল্যায়ন/ বিশ্লেষণ জানতে চাই। এটা যে কোনো সময় ধরে হতে পারে, আপনার যেমন ইচ্ছে।

রুহুল মাহফুজ জয়: আমি যতটুকু কবিতা পড়ি, তাতে মনে হয় গত ত্রিশ বছর ধরে বাংলাদেশের কবিতা পশ্চিমবঙ্গের কবিতার চেয়ে বৈচিত্রে ও নতুনত্বে অনেক এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের তরুণরা শক্তি, উৎপল, ভাস্কর, জয় গোস্বামীর স্টাইলের বাইরে এসে নতুন আঙ্গিকে কিছু লিখতে পারছে না। ভাষা ও আঙ্গিকে, ছন্দের ব্যবহারে বাংলাদেশের তরুণ কবিরা নানারকম বৈচিত্রময় কাজ করছেন। এবং নিজেদের শেকড়ের দিকে ফিরে গিয়ে কবিতার অনুসন্ধান করছেন। আমার সমসাময়িক কবিদের কথাই যদি বলি—হাসান রোবায়েত, হাসনাত শোয়েব, উপল বড়ুয়া, তানিম কবির, মোস্তফা হামেদী, হিজল জোবায়ের, কবির হোসেন, শামশাম তাজিল, শাহ মাইদুল ইসলাম, অমিত চক্রবর্তীকে যদি আপনি পড়েন, বুঝবেন যে প্রত্যেকে কত আলাদা।

 

শুদ্ধস্বর: খুব সাম্প্রতিক সময়ে আপনার পাঠ অভিজ্ঞতা (যে কোনো বই বা লেখা) নিয়ে কিছু বলুন

রুহুল মাহফুজ জয়: অতি সম্প্রতি (গত একমাসে) হাসান রোবায়েতের মুসলমানের ছেলে, মোস্তফা হামেদীর ঋতুরহস্যের ধারে, মিসবাহ জামিলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ মানুষ খাওয়ার পদ্ধতি এবং মীর হাবীব আল মানজুরের প্রথম কবিতার বই নবাবের কবিতা পড়লাম। আমার ধারণা মুসলমানের ছেলে ক্ল্যাসিক হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আবেগগুলি চমৎকারভাবে এই বইয়ের কবিতায় ধরা হয়েছে। এই বইয়ের চল্লিশটি সনেট আল মাহমুদের সোনালি কাবিনকে অনেকখানি ম্লান করে দিবে। সোনালি কাবিন নিয়ে আর একতরফা আলোচনা হবে না মনে হয়। হামেদীর ঋতুরহস্যের ধারে বইটিও বেশ ভালো লেগেছে। এই কবি কবিতায় খুব সুরেলা ও নরম ভাষায় কথা বলেন। দৃশ্যগুলি জীবন্ত হয়ে ওঠে। ঋতুরহস্যের ধারে বইটিতেও সেই সাক্ষর আছে। মিসবাহ জামিলের কবিতা আমার বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি একেবারে সরলভাবে খুব গভীর কথাগুলি কবিতায় বলতে পারেন। আমার ধারণা, এই গুণের কারণে তিনি গণমানুষের কবি হতে পারেন একদিন। নবাবের কবিতায় বেশ নতুনত্ব আছে। তবে অতিকথনের কারণে কোথাও কোথাও ভালো লাগেনি। আর ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও বিরক্ত উৎপাদন করেছে। মিল্টন রহমানের উপন্যাস অগ্নি সারসেরা পড়ছি এই মুহূর্তে। যেহেতু এখনও শেষ হয়নি, তাই কোনো মতামত দিতে চাই না।

 

 

কবিতা:

হাউ টু ফরগেট অ্যা মমিসিংগা পোলা

মমিসিং গেছ তুমি

গেছ নদে, যেইখানে রইছে মরে আত্মার বিশদ আমার

নাগরসনে মমিসিং গেছ তুমি¾

যাও নাই খুঁজিতে ফেলাই আইছি কারে আমার

মমিসিং গেলা তুমি

গেলা নদের ওপারে, কেঁপে কেঁপে উঠলা জলের কিনারে

দুপরক্তে ব্রহ্মপুত্রচরে

ছ্যামার প্রতিসরণ ফালাফালি করছিল নদে

দাড়কিনা মাছের লাহান তুমি ছটফটাইছিলা খুব

কাদা ঠুকরায়ে ঠুকরায়ে

দংশিত ঠোঁটের অনুকম্পা নিতাছিল পায়ের বুড়া আঙুল¾

খুব করিছ রিসার্চ হাউ টু ফরগেট অ্যা মমিসিংগা পোলা

নাগরসহ গিয়া ব্রহ্মপুত্রের চরে¾

প্রেম খুব ধুলা, সর্দি লাগিয়া যায়¾

সর্দি জমায়ে বক্ষে নিছিলাম তোমারে

ধুলার মতন ব্রহ্মপুত্রে ঝাইরা আইছ আমারে

পালাবার রাস্তায়

না থাকিয়া পাতার দলে আমি আমার পাশে বসিয়া আছি। বসিয়া আছি। নরকাব্দি নিজের নামে নালিশ জানানোর নীরবতা শিখিতাছি। না যাইয়া ঘাসের ডগায়, আমি আমার শ্বাসের ধারে বাঁচিতাছি। বাঁচিয়া আছি। মরণাব্দি নিজেরে মারায়ে যাবার সরল অঙ্ক শিখিতাছি।

বন্ধু হে, ফারাকে গিয়া আমার নিকটে আমি তোমারে ফরিয়াদ করিতাছি। আমি তুমি তোমাদের আমাদের সমাধিফলক থিকা পালাবার রাস্তায় গোল্লাছুট খেলিতাছি।

.

আলাদা বিছানায় চলো একলগে ঘুমায়ে যাই। দূরত্বটুকুতে জেনো জেগে আছে কোজাগরী একতার ধবল দৃষ্টির ভিতরে আসো একলগে লাফ দেই।

প্রেম তো এক মহাশূন্যই…

না মানুষের দেশে

রাত একটা সাতাশে গান ভেসে আসছে বাতাসে

বরফ হ’তে পলানো এ বাতাস

                                  ত্রাস, ভেঙে দিয়েছে সুর

নোবডির লগে এই থার্টিফাস্টে আমুদ করতাছে

                                         নোবডি

স্বৈরবঙ্গে, আতশবাজির হল্কায়

                               দেবীসঙ্গ পাইলো অসুর

পৌষ, তখনও কী সরিষার হলুদে দিতাছ দোলা,

দুলাইতাছ তেলের সম্ভাবনা¾

                                    সুবর্ণচরে? হায় হায় হায়!

বিরুদ্ধ ফুলের ঘ্রাণে, পাগলা কুত্তা

                                    আরও পাগল হয়ে যায়

রাত একটা সাতাশে গান ভেসে আসছে বাতাসে

ধর্ষক হ’তে পলানো এ বাতাস

                                    শ্বাস, না-মানুষের দেশে

                                                খেলতেছে নির্ভয়

 

 .

অতিকায় এক পাগলা হাতির পায়ের তলে

টুঙটাঙ বেজে যাচ্ছ, কেউ তোমারে বাজাচ্ছে

ঘুমাচ্ছ

চুদাচুদি করছ

বাচ্চা-কাচ্চা নিচ্ছ

ধর্মালয়ে ঘুরে

গোরস্থানে যাচ্ছ

নতুন নতুন আজরাইল তোমারে সেলাম ঠুকছে

 পরকীয়া

 জোড়া বক হয়ে বসে আছে আমাদের ভাষা¾

কথা ভেসে উঠলেই খপ করে ঠোঁটে তুলে নেয়া

যায় যদি, এক প্রহরের কেঁপে ওঠা দেখা যায়।

যথেষ্ট শঙ্কার পানি ঘোলাটেই হয়¾পরীক্ষিত

এ সত্যের তলে ডুবে পুনরায় তুমি মাছ হতে

এসেছ ময়লাবিলে, আমার হারানো শীতে!

আমিও কী আসি নাই, রিরংসার জামা খুলি নাই

ভাষাশিকারির ছদ্মবেশে, বলো?

আমরা স্বীকার করি কথামাছ, আমাদের পেতে

অন্য কোনো শিকারির চতুরতা আছে পাতা¾

স্বামীও শ্বশুর বাড়ি থিকা আসা লোক

                    তা ক্যানো বুঝবা না তুমি!

 

নোংরা নোংরা বাতাস বহিছে ভবে

 .

লাখ লাখ তারা লুটে এনে কালপুরুষের

বাহুতে ঘুমিয়ে গ্যাছো।

তরঙ্গের শব্দ পাই। চিন্ময় রোদসী আজ কালো।

আকাশগঙ্গার কেন্দ্রে প্রবল দপানি

নিয়ে বেঁচে থাকা গ্রহে তোমাকে চেয়েছি দেহে, প্রাণে¾

প্রেমিকের বুক একটা আস্থা ছায়াপথ। বিস্তর গ্র্যাভিটি

তুমি মাপো টেলিস্কোপ কয়েনের কম্পনে কম্পনে¾

ছুটে চলা ব্যতিচারে আলোর বিস্তার

ভেবে কালপুরুষ মানো কাকে, হে অদিতি?

বিপুল ভরের নক্ষত্রের মুত্যু কৃষ্ণগহ্বরের জন্ম দ্যায়।

জন্মেই আশপাশ গিলে বড়ো হতে থাকে।

আমি শুধু তুমি ছায়াপথজুড়ে, তোমার কেন্দ্রের

ভরে ক্ষুদ্র এক ধুকপুকানির রসুন বুনেছি।

তুমি এই প্রেমিকের নিযুত

আলোকবর্ষের দূরে থাকা মৃত স্যাজিটেরিয়াস¾

কতিপয় অসততা শুধু ঘূর্ণমান¾যৌনতার নামে।

১৫.

তাপের নিকটে পাপের জলসা

ভবের নগরকূটে,

বাতাস পোড়ার গন্ধে গোশতে

লালসা ঝলসে ওঠে।

নগরের রাস্তায় যিনি ঘোড়া

চড়ান গৃহস্থের,

আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া কিবা

আছে সেই সহিসের!

ভেল্কিবাজির পাপেট-দৈত্য

নুনাক্তে একে একে

সরায়ে ফেলেছে ফলের বছর

বীজের ভাবনা থেকে¾

দৈত্যের মুঠি না ডরায়ে বহু

আমি বের হয়ে আসি

পথে-প্রান্তরে, কৃষকের মুখে

চিনে নেই কালনাশী।

নোংরা নোংরা এই পৃথিবীতে

আসিয়াছি মরে যেতে¾

তারো আগে হই তারকার হাসি,

শৌর্যের সঙ্কেতে।

নাশে নাশে খেলি চারার খেলা,

লিরিক্যাল দেশি কৃষি¾

প্রতিহিংসার তলে বেড়ে ওঠে

পাতাবাহী মিশামিশি।

রোদেরে ছায়ার পাঠ দ্যায় পাতা

বৃক্ষগীতির সুরে,

আমারেই রোজ পড়াই তোমারে

শীতল-গীতলপুরে।

আমারে পড়িয়ো, শিখিয়ো আমারে

ঘুমপাড়ানির কালে,

যেবায় পড়িতা আলিফ বা তা ছা

মক্তবের সকালে।

 মৌমিকুঞ্জ

 আকাঙ্ক্ষার, রিরংসার তলে ডুবে যাই আমি আজ।

ফরিয়াদ করি, তুমি য্যানো অহেতুক বেজে ওঠো

রিপুনাদে, বসন্তনের বাতাসের মতো পুষ্পরাগে,

নরকের পাড় ঘেঁষে সামান্য সুখের পৃথিবীতে¾

মৌয়াল প্রস্তুতি নিচ্ছে, যথেষ্ট মধুর হলাহল

মিথের পুরানা সত্য সে খুঁজে পেয়েছে মৌমিকুঞ্জে।

More Posts From this Author:

    None Found

Share this:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

শুদ্ধস্বর
Translate »
error: Content is protected !!
Scroll to Top