ইস্যু ৩৮, নববর্ষের কবিতা

সম্পাদকীয়

কবিতার সংক্রম, কবিতাবোধ ও কবিতা মানুষকে ভাবতে, চিন্তা করতে, জীবনকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখতে উদ্বুদ্ধ করে এবং জীবনের সংরাগকে উসকে দেয়। অন্যদিকে সাহিত্য-শিল্পের যেমন, যে-কোনো ধরনের চিন্তারও আদি প্রকাশমাধ্যম হলো কবিতা। আমরা তাই বারবার কবিতার কাছে ফিরে আসি, কবিতা উদযাপন করি। উল্লেখ্য যে, ১৯৯০ সালে লিটল ম্যাগাজিন ‘শুদ্ধস্বরে’র প্রথম সংখ্যা এবং ২০০৪ সালে প্রকাশক শুদ্ধস্বর-প্রকাশিত প্রথম বই-দুটিই ছিল কবিতার।

১৯৯০ থেকে এখন পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে ‘শুদ্ধস্বর’ তার যাত্রপথের তৃতীয় পর্যায় অতিক্রম করছে। প্রথম পর্যায় ছিল লিটল ম্যাগাজিন, দ্বিতীয় পর্যায় ছিল যৌথভাবে লিটল ম্যাগাজিন ও বইপ্রকাশ এবং বর্তমান বা তৃতীয় পর্যায় অনলাইনভিত্তিক লিটল ম্যাগাজিন, বই প্রকাশ ও মুক্তচিন্তা—কথাবলার স্বাধীনতা—গণতন্ত্র-বিষয়ক চিন্তা সমন্বয়ের সমোন্নীত পর্যায়। উল্লেখ্য যে, আমাদের পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীরা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ২০১৫ সালের যে-সমস্ত হত্যা, আক্রমণ এবং রক্তাক্ত ঘটনা, পরিস্থিতির সরাসরি শিকার হওয়ার মধ্য দিয়ে ‘শুদ্ধস্বর’কে তৃতীয় এই পর্যায়ের যাত্রাপথে চালিত হতে হচ্ছে। বস্তুনিষ্ঠতা, সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জ্ঞান ও তথ্যের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে অন্ধ বিশ্বাস ও প্রচলিত জনতুষ্টিবাদকে অতিক্রম করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা একটি কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজ। এমতাবস্থায় বিশ্বব্যাপী কতৃত্ববাদ, জনতুষ্টিবাদ, সামাজিক ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের বিভিক্তিকরণমূলক আচরণ; সর্বোপরি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা রাষ্ট্রশক্তিগুলোর মানবিক মূল্যবোধ ও সভ্যতার প্রতি দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় এই কাজটি এখন আরো কঠিন। এই কঠিন ও ক্রুর অবস্থার মধ্যেও সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনার জন্য ‘শুদ্ধস্বর’ কাজ করে যাচ্ছে এবং এব্যাপারে যাত্রাকাল থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘শুদ্ধস্বর’ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলা ভাষায় একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করার চেষ্টা করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে বাংলা ১৪৩১ উপলক্ষ্যে এই বিশেষ কবিতাসংখ্যাটি প্রকাশ করা হলো। ইতিপুর্বে আমরা একটি কবিতাসংখ্যা এবং একটি গল্পসংখ্যা প্রকাশ করেছি। ‘শুদ্ধস্বর’ অনলাইন-মাধ্যম বাংলা ভাষায় নিয়মিত লেখা, বিশেষ সংখ্যা এবং ইবুক প্রকাশ করতে ইচ্ছুক। এজন্য আমরা ক্রমাগতভাবে আমাদের গবেষণা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি যে, স্থানিক দূরত্ব এবং ‘শুদ্ধস্বরে’র কার্যক্রম দ্বিতীয় পর্যায় থেকে তৃতীয় পর্যায়ে স্থানান্তরের কারণে বাংলাভাষী লেখকবন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের একটা উল্লেখযোগ্য বিচ্ছেদ তৈরি হয়েছে। এই বিচ্ছেদ ‘শুদ্ধস্বরে’র লক্ষ্য অনুযায়ী লেখা জোগাড়ের অন্তরায় হিসেবে তৈরি করেছে এক অদৃশ্য দেয়ালও। এই দেয়াল অতিক্রম করে এ-সংখ্যার জন্য লেখা জোগাড় করতে আমাদেরকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। অথচ বাংলাভাষার লেখকগণ সর্বোচ্চসংখ্যক পাঠকদের কাছে পৌঁছোনো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনপর্যন্ত অনলাইন মাধ্যমকে লেখাপ্রকাশের উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে পারেননি।

‘শুদ্ধস্বরে’র এই কবিতাসংখ্যায় অংশগ্রহণকারীবৃন্দ কবিতার সঙ্গে সঙ্গে ছোটো গদ্যও লিখেছেন নিজেদের প্রিয় কবি বা কবিতার বই সম্পর্কে। আমরা মনে করি কবিতার (বা গল্পের) সঙ্গে সঙ্গে কবিদের (বা গল্পকারের) কবিতা-(বা গল্প-)ভাবনা, পর্যবেক্ষণ এবং অবলোকন পাঠকের সঙ্গে কবিতার (বা গল্পের) এবং কবির (বা গল্পকারের) সংযোগ স্থাপনে একটি আলাদা ভূমিকা পালন করে থাকে। যে-কারণে ‘শুদ্ধস্বরে’র যে-কোনো কবিতা বা গল্পসংখ্যায় সৃষ্টিশীল/মৌলিক লেখার সঙ্গে সঙ্গে লেখক-ভাবনার সাক্ষাৎকার বা গদ্য অংশটুকু আমরা যুক্ত রাখার চেষ্টা করে থাকি। তবে এই সংখ্যার ক্ষেত্রে পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়ে রাখছি, অনেক চেষ্টা করেও দুজন কবির কাছ থেকে আমরা শেষ পর্যন্ত গদ্য-অংশটুকু জোগাড় করতে পারিনি। এখানে স্বীকার্য যে, আমরা কবিদের অহংবোধকে শ্রদ্ধা করি এবং এই শ্রদ্ধাবোধ থেকেই বলা যায় গদ্যঅংশটুকু ছাড়াই দুই কবির কবিতা প্রকাশ করেছি।

আমরা কবিতার বন্দনা করি, এবং শুধু পাঠের পরিবর্তে তার অমৃত পান করেও আনন্দিত হই, আন্দোলিত হই। আমরা মনে করি, কবিতার মধ্যে এক অপরিসীম ও অপরাভব শক্তি আছে—যা অন্য যে-কোনো শিল্পমাধ্যম থেকে আলাদা। আমরা এও উপলব্ধি করি যে, কবিতার সুগভীর সংবেদ, আপসহীন শক্তি এবং সাহস বিদ্যমান সমস্ত কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং প্রতিবাদী স্লোগান হিসেবে হোক, কিংবা আরাধ্যকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে হোক, কিংবা ক্যানভাসে বিমূর্ত চিত্রকল্প হিসেবে হোক, অথবা সুরময় ধ্যানের ধ্বনি হিসেবেই হোক—কবিতার মতো মর্মস্পর্শী সুন্দর আর কিছু কি হয়?

শরণার্থী শিবিরের সর্বব্যাপী দুর্গন্ধের ভারে

  তেইশের অক্টোবরে গাজা সেই রাতে ভোরের আলোকরেখা লক্ষ্য ক’রে একান্তে ঘুমিয়ে ছিলো পরিশ্রান্ত প্রশান্ত মানুষ। তারাদীপ্ত রাত্রির বিজনে হঠাৎই গর্জন শোনা গেলো; যেন লক্ষ দানবের  ক্রুদ্ধকণ্ঠ যন্ত্রের নির্ঘোষ হয়ে দিগ্বিদিক আতঙ্কে কাঁপালো; মুহুর্মুহু বিরাট বীভৎস  শব্দে পুঞ্জ পুঞ্জ কৃষ্ণ ধোঁয়া অভ্রংলিহ পীতবর্ণ অনলে অনলে আর অসংখ্য নারীর নাড়ীছেঁড়া আর্তনাদে মূর্তি পেলো ধাতব পাণ্ডব আনৃশংস্য, …

শরণার্থী শিবিরের সর্বব্যাপী দুর্গন্ধের ভারে Read More »

ফুল ফোটানোর ছলে যে-কোনো উচ্চারণ তাঁহাকেই আলিঙ্গন

  গ্রহদোষে গ্রহগুণ সূর্য হলেন কমলযোনি। প্রধান পদ্ম। যদি চন্দনঘ্রাণ যুক্ত, তাহলে জীবন—আশা-আকাঙ্ক্ষা রঙিন দৃশ্যাবলি। যদি সূর্যের আকার পোড়ামাটির সেতার, তাহলে জাতক প্রকৃতির ক্যানভাস। যদি সূর্যের প্রতিবিম্ব ঈষৎ বাদামি, ডানার মতো উদার চোখের মণি তাহলে জাতক বিহঙ্গরাশির। সূর্যের রোদ্দুর যদি সবুজ কাচের যুবতীদুপুর, তাহলে হলদে প্রজাপতির ঢল, প্রতিটি মুহূর্ত  দৈবপ্রতিম অরুণাচল। রাহু আসলে একজন স্ফুলিঙ্গ। …

ফুল ফোটানোর ছলে যে-কোনো উচ্চারণ তাঁহাকেই আলিঙ্গন Read More »

আস্তিনে বিষণ্ণতা রেখে যেন সমুদ্রকে ডাক দেয়া

  সেতু ও ফোরলেন হাইওয়ে ১.১ উদ্যানে শস্যভিটায় আদম-হৃদয় পূণ্যভরা পুষ্প কী লাল : তারপর ও পাখিটি… ও পাখিটি! যেদিন সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম প্রজনন-বীজ কুড়োতে যাই… তারপর ওফ : কী দুর্ভিক্ষদাহ, অকল্পনীয় শস্যপতন… পঙ্গু হে! তুমি কি কোনো পাতা কুড়োচ্ছ?  তুমি কী মেঘ-সাদায় নিষিক্ত ছিলে কোনোদিন? উদ্যানে ঝরাপাতা, উদ্যানে সে অদ্ভুত সাংকেতিক মেঘ-সাদা : আশ্চর্য! পাতা-শিরায় …

আস্তিনে বিষণ্ণতা রেখে যেন সমুদ্রকে ডাক দেয়া Read More »

আমিও ইচ্ছেমতো জ্বালাই নেভাই তার চোখ

  কে কাঁদে, কে গো কলকাকলিত দ্বিধামুকুলিত একটি বায়স। কঁকিয়ে উঠল কাক। কাশফুলে রক্তের ছিটে। টুপিয়ে টুপিয়ে নামে লোহিতের জল। ডাস্টবিনে ডাস্টবিনে এসেছে নতুন কুঁড়ি। ফুটে উঠছে ক্রান্তির ফুল। ওই ফুলে শরীর সাজাও সখী, এ-শরীর পণ্যবাজার, ঝিলিমিলি আলো। নখরা লেখার আগে মেতে ওঠো নাথনি ভাঙায়। পোড়োবাড়ির ভেতর ফিসফিস করছে চাঙড়, পুরোনো ইটের দল মেতে ওঠে …

আমিও ইচ্ছেমতো জ্বালাই নেভাই তার চোখ Read More »

কিনব্রিজে বিকেলের রোদ

  ক্রীতদাসের হাসি এখন গোলাপের মৌসুম চারদিকে এত এত গোলাপ তবু সুগন্ধ কই? জৌলুস আর অট্টালিকায় ঢাকা হৃদয়ের ভার গোলাপ ফুটেছে—এত এত গোলাপ তবু হাসি নাই বুদবুদে মিলিয়ে গেছে বুকের পারদ…   স্বৈরাচার মানুষ মরে গেলে জমা থাকে খোলস চমৎকার হৃদয়শূন্য এক স্বৈরাচার   তবু সমর্পিত হয়তো থেমে যাওয়া মৃত্যুই, তবু থামতে হয় রঙিন তারাবাতি …

কিনব্রিজে বিকেলের রোদ Read More »

যেন আলো থেকে সরে নুয়ে ঝরে পড়তে চায় সূর্যমুখী

  গল্পের আদলে ১ কোনো কোনো স্বপ্ন থেকে আমরা উঠে দাঁড়াতে পারি না। পাশের রুমের আলো এসে পড়ছে জানলার হলুদ পর্দায়, তার প্রতিফলন তোমার মুখে। এমন হলদে আলোছায়ায় তুমি হেঁটে বেড়াও লাল মার্বেল মেঝেতে। তোমার মুখ বদলে যায় পুরনো প্রেমের আদলে। দেয়ালের গায়ে অযত্নে বেড়ে উঠা ফুলের ঝাড়ের কাছে আঠারো বছর ফিরে আসতে চায়৷ তুমি …

যেন আলো থেকে সরে নুয়ে ঝরে পড়তে চায় সূর্যমুখী Read More »

ইতিহাস কি আত্মহত্যা ও আত্মপ্রত্যয়ের স্যাঁতসেঁতে টার্মিনাল

  নরওয়েজিয়ান উড বিটলসের নরওয়েজিয়ান উড না হারুকি মুরাকামির নরওয়েজিয়ান উড কাকে বেশি অনুভব করছি এখন এ-প্রশ্ন নিজেকেই করি আমি হ্যাঁ এ-দুটোর কম্পোজিশানে ভিন্নতা সত্ত্বেও আমাদের নার্ভের ওপর এদের ইম্প্রেশান ফ্লো প্রায় একই আশা করি এ-ব্যাপারে আমার সঙ্গে একমত হতে আপনারা দ্বিধা করবেন না আমি কেবল একটা মিল আপনাদের দেখাব মানে আমার জন্য তো এটা …

ইতিহাস কি আত্মহত্যা ও আত্মপ্রত্যয়ের স্যাঁতসেঁতে টার্মিনাল Read More »

মৈত্রীভাবনা ছুঁড়ে, রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার দিকে

  একা ম্যাজিশিয়ান তামাম দুনিয়া হাতে ঘুরপাক করে পিংপং একা ম্যাজিশিয়ান কৈকুড়ির শেষ বেলার লোকে নিখিল পথের পাশে সরিষা বাগান, সবুজ পালং অপত্য পাগলামী, আমাদের নিজস্ব কথার প্রণালী ক্ষান্তিহীন ছুটে যায় সে হেঁটে হেঁটে গার্হস্থ্য রং-সব অনুগত পিছে পিছে শত পিছুটান যেন তাঁবু বাঁধা রশি টানটান এত বাতাশ তাতে জলাধার করে আহ্বান উন্মাতাল ঢেউয়ের বুকে …

মৈত্রীভাবনা ছুঁড়ে, রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার দিকে Read More »

নিতান্তই বালিকার মত মেঘের নেকাব

  ক্রন্দনঘর মেঘের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলাম মনে আছে তোমরা ছিলে হয়তো ছিলে কেউ জানো না পায়ের পাতায় তীব্র নেশা বাইরে যাবার অন্ধকারে উঠতো যে চাঁদ নীরব ঘরে তৃপ্ত মায়ায় কেউ কি মানো কেউ মানো না কেমন ক’রে অষ্টপ্রহর আসতো খাবার মদের মত এমনি ক’রে ঘুমিয়ে ছিলাম সুস্থ জ্বরে মেঘের ভেতর তুলতুলে এক মোমের দেয়াল বন্ধু …

নিতান্তই বালিকার মত মেঘের নেকাব Read More »

শুদ্ধস্বর
error: Content is protected !!